বাংলাদেশি খায়ের জার্মানদের কাছে এক ব্যতিক্রম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.08.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

বাংলাদেশি খায়ের জার্মানদের কাছে এক ব্যতিক্রম

বাংলাদেশি যুবক গোলাম খায়ের৷ সম্প্রতি জার্মান গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে বেশ হৈচৈ পড়ে গেছে, অভিবাসীদের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে খায়েরকে৷ কেন?

anbei finden Sie Bilder von Golam Khair, ein Asylbewerber aus Bangladesch, der jetzt in Dortmund lebt und ein Buch über sein Leben geschrieben hat. Hiermit erkläre ich dass ich die Bilder am 26.01.09 in Dortmund gemacht habe, und dass ich die Rechte der Deutschen Welle übertrage. Bitte stellen Sie die Fotos im Bildarchiv. Danke! Mit freundlichen Grüßen, Pia Chandavarkar

‘‘ডেয়ার রোজেনফ্যারকয়ফার'' বই হাতে গোলাম খায়ের

২০০০ সালে জার্মানিতে প্রবেশ করেন গোলাম খায়ের৷ তখন রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন করেন এই তরুণ৷ সেই আবেদন নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলে দু'বছর, ২০০২ সালে গোলাম খায়ের এর আবেদন বাতিল হয়৷ দেশে ফিরে যেতে বলা হয় তাঁকে৷

জার্মানিতে বসবাস

খায়ের জার্মানিতে থেকে যান৷ সেটা অবশ্য নিজের গুণে নয়, বাংলাদেশ সরকার খায়েরকে একটি নতুন পাসপোর্ট প্রদান করতে অনেক সময় ব্যয় করায় এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷

২০০২ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় খায়ের ব্যয় করেছেন ফুল বিক্রি করে৷ দু'টি বইও লিখেছেন তিনি৷ গত ২৯ জুলাই খায়েরকে জার্মানিতে বসবাসের স্থায়ী অনুমতি প্রদান করে জার্মান সরকার৷

সহজ করে বললে খায়েরের গল্প এটুকুই৷ কিন্তু তাকে নিয়ে জার্মান গণমাধ্যম এবং তিনি যেখানে থাকেন, জার্মানির ডর্টমুন্ড শহরের বাসিন্দাদের আগ্রহের কমতি নেই৷ কেন এত আগ্রহ? জানতে চাইলে গোলাম খায়ের বলেন, এটা শুধু বই এর কারণে৷ আমি দুটি বই লিখেছে এবং প্রকাশ করেছি৷ আসলে এই দেশের মানুষতো অনেক শিক্ষিত৷ তারা আমার এই বই প্রকাশকে অনেক সম্মান জানিয়েছে৷ আমি একজন বাংলাদেশি৷ তখন এখানে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ছিলাম৷ এবং আমাকে প্রতিমুহূর্তে দেশে ফিরে যেতে বলা হচ্ছিল৷ তারপরও আমি দুটো বই লিখেছি৷ জার্মানটা এটিকে অনেক বড় ব্যাপার মনে করেছে৷

‘‘ডেয়ার রোজেনফ্যারকয়ফার’’

খায়েরের প্রথম বই এর জার্মান শিরোনাম ‘‘ডেয়ার রোজেনফ্যারকয়ফার'', বাংলায় বললে একজন গোলাপ বিক্রেতা৷ ২০০৭ সালে প্রকাশিত এই বইটি মূলত ছিল খায়েরের একটি চিঠি৷ জার্মানিতে অবস্থান শুরুর পর থেকে নানা স্মৃতি চিঠি আকারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন তিনি৷ খায়ের বলেন, জার্মানিতে আসার পর আমি কঠিন অবস্থার মধ্য পড়ি৷ আমার পরিবারও আমাকে সমর্থন দিচ্ছিল না৷ একদিন তাদেরকে ফোন করি, কিন্তু তারা সেটা ‘হ্যাং আপ' করে দেয়৷ সেদিন দুঃখে কান্নাকাটি করেছিলাম৷ এরপর কাগজ-কলম সংগ্রহ করে পরিবারের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখতে শুরু করি৷ সেই চিঠি দু'শো পৃষ্ঠা হয়েছিল৷ পরবর্তীতে এই চিঠিটিকে বইতে রূপান্তর করি৷

Der Rosenverkäufer und Buchautor Golam Khair steht in einer Bar in Dortmund (Foto vom 30.12.2008). Khair hat das Buch Der Rosenverkäufer geschrieben. Foto: David Ebener dpa/lnw (zu lnw-KORR: Vom Rosenverkäufer zum Autor: Bangladeschi schreibt Biografie vom 06.01.2009) +++(c) dpa - Bildfunk+++

‘‘গোলাম খায়ের ইন ভুন্ডারলান্ড’’

খুব অল্প সময়েই খায়েরের প্রথম বইটি'র প্রথম সংস্করণের বিক্রি শেষ হয়ে যায়৷ সেই বইয়ের পাঠকরা খায়েরের কাছে জানতে চান, তাঁর জার্মানিতে আসার কারণ, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হওয়ার যৌক্তিকতা ইত্যাদি৷ প্রথম বইতে এসব বিষয় বাদ পড়েছিল৷ খায়ের তাই পরের বছর ২০০৮ সালেই প্রকাশ করলেন ‘‘গোলাম খায়ের ইন ভুন্ডারলান্ড'', মানে রূপকথার দেশে গোলাম খায়ের৷

জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাস

২০০২ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলেও শেষমেষ দেশে ফিরে যেতে হয়নি খায়েরকে৷ বরং বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্ট না পাওয়ার সময়টায় তিনি জার্মান ভাষা শিখেছেন, নিজের খরচ চালিয়েছেন নিজেই আর জার্মানিতে অনেক বন্ধুবান্ধব তৈরি করেছেন৷ মোটের ওপর, দু-দুটি বই প্রকাশ খায়েরের ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে৷ তিনি বলেন, অঙ্গীভূতকরণ রাজনীতির কয়েকটি সূত্র আছে৷ যেমন আপনি যে দেশেই থাকেন, সেদেশের ভাষা শিখতে হবে, সেদেশে স্বাবলম্বীভাবে চলতে হবে, কোন সাহায্য নিতে পারবেন না এবং আপনি যেদেশেই থাকেন, সেদেশে আপনার বন্ধুবান্ধব থাকতে হবে৷ এই নিয়মগুলো আমি মেনেছি৷ যেকারণে শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছি আমি৷

বাংলাদেশে গোলাম খায়ের পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন৷ জার্মানিতে বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ পাওয়ার পর এখন আবার তিনি ফিরতে চাইছেন সেই পোশাক ব্যবসার সঙ্গে৷ এই মাসের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে বেড়াতে যাবেন খায়ের৷ ২০০০ সালে সর্বশেষ মাকে দেখেছেন তিনি, তখন মায়ের বয়স ৭৫৷ সেই মায়ের টানেই আবার দেশে ফিরবেন তিনি৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন