বাংলাদেশিদের নিয়ে ইটালিতে আস্থার সংকট নেই: রাষ্ট্রদূত | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 17.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশিদের নিয়ে ইটালিতে আস্থার সংকট নেই: রাষ্ট্রদূত

দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইটালির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভুলভাবে এসেছে বলে দাবি করেছেন রোমে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার৷ তার আরো দাবি, বাংলাদেশ নিয়ে সেখানে কোনো আস্থার সংকট নেই৷

‘‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’’ টকশোতে তিনি বলেন, ‘‘আস্থার ক্ষেত্রে (ইটালি সরকারের) আদৌ কোনো চিড় ধরেছে বলে আমার মনে হয় না৷’’

বাংলাদেশ থেকে ইটালিতে ফিরে আসা প্রবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন৷ দেশটির গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন খবর বেরিয়েছে৷ বাংলাদেশ থেকে নাগরিকদের প্রবেশ এবং ফ্লাইটও বাতিল করেছে দেশটির সরকার৷ এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আবদুস সোবহান সিকদার বলেন, ‘‘ইটালির সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে৷ এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদৌ কোনো চিড় ধরে নাই, বরং আরো উন্নত হয়েছে৷ ইটালির সাথে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকারের পাশাপাশি ইটালির নাগরিকদের সঙ্গেও বাঙালিদের সুসম্পর্ক রয়েছে৷ এখানকার থানার লোকজনও বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করে৷ ইটালির কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশিদের ভালো জানে৷’’

অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইটালির স্থানীয় নাগরিকরা বাংলাদেশিদের অশ্রদ্ধার চোখে দেখছেন, বাংলাদেশিরা বিরূপ আচরণের শিকারও হচ্ছেন৷ তবে রাষ্ট্রদূত দাবির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷

ইটালির গণমাধ্যমে বাংলাদেশিরা ভুয়া করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছেন বলে খবর বেরিয়েছে৷ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘বাস্তব ঘটনা হলো, নেগেটিভ সার্টিফিক্যাটের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না৷ করোনা সার্টিফিকেট বিমানবন্দরে চাওয়া হয়নি৷’’ বিষয়টি নিয়ে সেখানকার গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হলেও তা ছাপানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

গত ৬ জুলাই ঢাকা থেকে রোমে অবতরণ করা বিমানের বিশেষ ফ্লাইটের ২২৫ জন যাত্রীর মধ্যে ২১ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়ে লাৎসিও রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার আলেসিও ডি'আমাতো বিমানটিকে ভাইরাসবাহী বোমার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন৷ এ নিয়ে বিভিন্ন বার্তা সংস্থা প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ কিন্তু রাষ্ট্রদূত দাবি করেন ‘‘বাংলাদেশের ফ্লাইটকে ভাইরাসবাহী বোমার সঙ্গে কেউ তুলনা করেনি৷ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে৷’’

ফ্লাইট কবে খুলবে?

রাষ্ট্রদূত জানান, জুলাইর ৬ তারিখ ঢাকা থেকে যে ফ্লাইটটি রোমে এসেছে সেখানকার যাত্রীদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ সেই ফ্লাইটের মোট ৪৮ জন বাংলাদেশি করোনা পজিটিভ হয়েছেন৷ তাদের সবাইকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ বাকিদেরও বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে৷

শুরুতে ইটালি সরকারের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের জন্য ফ্লাইট বাতিলের কথা বলা হলেও পরে সেটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে৷ রাষ্ট্রদূত জানান, তাদেরকেও এমন তথ্যই জানিয়েছে ইটালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এর মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেখানকার সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবে৷ তিনি বলেন, ‘‘যত তাড়াতিড়ি সম্ভব ইটালিতে যাতে বাংলাদেশিরা ফিরতে পারেন সে বিষয়ে তারা (ইটালির কর্তৃপক্ষ) আন্তরিক থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস৷’’

দূতাবাসে সিন্ডিকেট নেই

রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়ে অনেক ইটালি প্রবাসীর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে৷ বলা হয়ে থাকে, একটি দলের সিন্ডিকেট দূতাবাসকে নিয়ন্ত্রণ করছে৷ তাদের মাধ্যম ছাড়া যথাযথ সেবা পাওয়া যায় না- এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত একমাস ধরেই এইসব কথা বলা হচ্ছে৷

তিনি বলেন, ‘‘দূতাবাস সকলের জন্য খোলা৷ দল,মত নির্বিশেষে সবাই যাতে সেবা পায়, সেজন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি৷’’ একজন ব্যক্তি দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করেন এমন কোনো প্রমাণ কেউ দাখিল করলে দূতাবাস তা তদন্ত করে দেখবে বলেও জানান তিনি৷

ইটালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাই দূতাবাসে কাজ করেন- এ তথ্য স্বীকার করেন রাষ্ট্রদূত৷ নিয়োগ নিয়মের মধ্যে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তার চাকরি আমার আমলে হয়নি৷ নিয়মের মধ্যেই হয়েছে৷ তবে আমার আমলে কোনো নিয়োগ হয়নি৷’’

এফএস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন