বাংলাদেশকে হেয় করতেই অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগ? | বিশ্ব | DW | 03.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে হেয় করতেই অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগ?

নতুন করে ‘জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার নির্ভরযোগ্য তথ্য’ থাকার কথা বলে অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্কতা জারি করেছে৷ তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিকরা৷

তাঁরা মনে করেন, সরকারের উচিত এর প্রতিবাদ করে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে তথ্য চাওয়া৷ তারা তথ্য দিতে না পারলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কিছু আছে৷

অষ্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি)-এর ওয়েবসাইটে শুক্রবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসী হামলার ‘বড় ধরনের হুমকিতে' রয়েছে৷ যে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা এখন বাংলাদেশে আছেন, তাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং চারপাশের পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ সেই সঙ্গে নিতে হবে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা৷ আর যারা বাংলাদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে৷ ঠিক কী ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে অষ্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের জন্য এই ধরনের সতর্কবার্তা দিলো, তা স্পষ্ট করে বলেনি ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড৷ 

অডিও শুনুন 02:02
এখন লাইভ
02:02 মিনিট

‘‘বাংলাদেশকে হেয় করতেই এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে’’

অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশীদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে হেয় করতেই এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে৷ বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটেনি যে, তারা এটা দিতে পারে৷ বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাদের কাছে জানতে চাওয়া, কী তথ্যের ভিত্তিতে তারা এটা করলো৷ সেই তথ্য যদি তারা না দেয়, তাহলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কিছু আছে৷ তথ্য না দিয়ে শুধু সতর্কবার্তা দিলে তো আর হবে না৷ বাংলাদেশে যেদিন হোলি আর্টিজানের ঘটনা ঘটল, ঠিক একইদিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সামনে দুই জনকে হত্যা করা হয়েছিল৷ বাংলাদেশ কি ওই ঘটনার পর সতর্কতা দিয়েছিল? অথচ তারা তখন সতর্কতা দিল, সঙ্গে আরো অনেক কথাও বললো৷''

সতর্কবার্তায় অস্ট্রেলিয়া গত বছরের পহেলা জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা এবং গত মার্চে শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে৷ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে প্রায়ই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে৷ নতুন করে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে ‘আগের মতোই'৷

যেসব বিপণি বিতানে নিয়মিত বিদেশিদের যাতায়াত আছে, সেসব এলাকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তাদের না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ মোটর গাড়ি ছাড়া তাঁদের বাইরে চলাফেরা না করতে বলেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর৷ অষ্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের ওয়েবসাইটে এই সতর্কবার্তা তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সম্ভাব্য ওই সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকেরা৷

অডিও শুনুন 01:06
এখন লাইভ
01:06 মিনিট

‘‘পাশাপাশি সাংবাদিকদের এর প্রতিবাদ করাও উচিত’’

অস্ট্রেলিয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, আদালত, বিদেশি সরকারের স্থাপনা, নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের স্থাপনা, দূতাবাস, হোটেল, ক্লাব, রেস্তোরাঁ, বার, স্কুল, বিপণিবিতান, ব্যাংক, প্রেক্ষাগৃহ, গণপরিবহন, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থান সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে৷ বাংলাদেশের আরেকজন সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ জমির ডয়চে ভেলের প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের তো উচিত লন্ডনে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করা৷ সেখানে কয়েকদিন আগে গাড়ি চালিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত, সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো৷ সাংবাদিকদের উচিত অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের কাছে জানতে চাওয়া, কী কারণে তারা এই সতর্কতা জারি করলো? পাশাপাশি সাংবাদিকদের এর প্রতিবাদ করাও উচিত৷ এই মুহুর্তে আমি বাংলাদেশে এই ধরনের সতর্কতা জারির কোনো কারণ দেখি না৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন