বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে দখল করছে মালিকের স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে দখল করছে মালিকের স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সাথে মালিকানার সম্পর্ক স্বায়ত্তশাসনের নয় বলে মনে করেন ফাহমিদুল হক৷ তার মতে সংবাদমাধ্যমগুলোতে মালিকানার হস্তক্ষেপ অনেক বেশি প্রত্যক্ষ৷ নিজের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে কি-না, সেটা মালিকরা বুঝে নিতে চান৷

লেখক, গবেষক ফাহমিদুল হক বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-গণমাধ্যমের অন্যতম পরিচিত সমালোচক৷ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যাপনা করেন৷ বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম ইউনিভার্সিটির ফিল্ম, টেলিভিশন এবং থিয়েটার বিভাগে ভিজিটিং রিসার্চ প্রফেসর হিসাবে রয়েছেন৷ দেশের চলমান নানা ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সরব তিনি৷ গণমাধ্যমের সঙ্গে মালিকের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অনলাইনে-অফলাইনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে৷ এটা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷

ডয়চে ভেলে: গণমাধ্যমের সঙ্গে মালিকের আদর্শ সম্পর্ক কী রকম হওয়া উচিত?

ফাহমিদুল হক: গণমাধ্যমের সঙ্গে মালিকের আদর্শ সম্পর্ক হওয়া উচিত পেশাদারিত্বের সম্পর্ক৷ অর্থাৎ (গণমাধ্যমে মালিকের) সর্বনিম্ন বা একেবারেই হস্তক্ষেপ থাকবে না৷ সাংবাদিকেরা তাদের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীনভাবে নিতে পারবেন৷ 

তার মানে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন, মালিকেরা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷ বাকি সব সিদ্ধান্তে মালিকরা নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ করতে পারবে?

ফাহমিদুল হক: আমি বলতে চাই, তিনি এখানে বিনিয়োগ করবেন, প্রফিটের ভাগ যেমনভাবে তার পাওয়া উচিত, পাবেন৷ কিন্তু সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত-কোনটা সংবাদ হবে, কোনটা সংবাদ হবে না, কোনটা কীভাবে পরিবেশিত হবে-সেই সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের হাতেই ছেড়ে দেয়া উচিত৷

বিশ্বের নামকরা গণমাধ্যমগুলোতে মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন থাকে? বা ওই সব গণমাধ্যমে মালিকের কেমন প্রভাব থাকে?

এমন নয় যে, সেখানে মালিকানার হস্তক্ষেপ হয় না৷ ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতিতে সেখানেও হয়৷ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে যেগুলো অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠান, যেমন গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস-এদের মালিকানার খবর কিন্তু আমরা অতটা জানতেও পারি না৷ তারা তাদের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিতে এত বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করেন যে, এর পেছনে মালিক আছেন-সেটা বোঝাও যায় না৷ তবে হ্যাঁ, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতির যে ধরন, তাতে অনেক পালাবদল ঘটে৷ মার্জার হয়৷ আমেরিকান অনলাইনের সাথে টাইম ওয়ার্নারের মার্জার ঘটেছে৷ এগুলো যখন হয়, তখন আমরা টেড টার্নারের নাম শুনতে পাই৷ বিশেষ বিশেষ ক্রিটিকাল মুহূর্তে আমরা কিছুটা হস্তক্ষেপের ব্যাপারও বুঝতে পারি৷  ক্রিটিকাল মুহূর্ত বলতে যেমন, ইরাকে যখন হামলা হয়েছে, তখন বোঝা গেছে, বিবিসিও অত স্বাধীনতা পাচ্ছে না৷ কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে মালিকানার হস্তক্ষেপকে আমরা কমই দেখতে পাই৷ 

বাংলাদেশে কি তার তুলনায় বেশি প্রভাব থাকে? কেন?

ফাহমিদুল হক: আমাদের দেশে গণমাধ্যমের সাথে মালিকানার সম্পর্ক স্বায়ত্তশাসনের নয়৷ তার অন্যান্য প্রোডাক্টের মত তিনি এটাকেও দেখতে চান, বুঝতে চান৷ নিজের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে কি-না, সেটা বুঝে নিতে চান৷ কম বেশি ব্যাপারটা এ রকমই৷ (ব্যতিক্রমও আছে) আমি শুনেছি৷ লতিফুর রহমান প্রথম আলোতে অতটা ভিজিটই করতেন না৷ কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানে মালিকরা সরব আছেন৷ (এমনও হয়েছে) আমরা শুনেছি, একটি সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে একজন সম্পাদক চাকুরি খুইয়েছেন৷ মোটের উপর বলা হয়, (এখানে) মালিকানার হস্তক্ষেপ অনেক বেশি প্রত্যক্ষ৷ 

এর কারণ হচ্ছে, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে পুঁজিবাদের বিকাশের যে ইতিহাস, সেটার মত করে (আমাদের এখানে) হয়নি৷ লম্বা ইতিহাস এখানে নেই৷ ফলে বুর্জোয়া ইথিকস বলে যে জিনিস আছে যে, ‘হ্যাঁ, আমি পুঁজিপতি শ্রেণি৷ কিন্তু আমি কিছু মিনিমাম ইথিকস মেনে চলি৷ সেই জিনিসগুলো আমাদের দেশের বুর্জোয়াদের মধ্যে অতটা অনুসৃত হয় না৷' বড়লোক হয়েছি, কিন্তু আমার মন মানসিকতা সামন্ত থেকে গেছে৷ এ রকম একটা ব্যাপার বাংলাদেশে ঘটে বলে আমার মনে হয়৷ এ জন্য হস্তক্ষেপগুলো দেখা যায়৷

বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে বা স্বাধীনতার পরও ব্যবসায়ীরা মালিক ছিলেন৷ তখন গণমাধ্যমে মালিকদের কেমন প্রভাব ছিল?

 আগেকার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন ছিল৷ কারণ মুক্তিযুদ্ধের আগে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পরে সত্তর-আশির দশক পর্যন্ত সাংবাদিকতা ছিল অনেকটাই রাজনৈতিক আদর্শভিত্তিক৷ স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসনের যে আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী যে আন্দোলন, সেটার সাথে সংবাদপত্রের ভূমিকা একেবারেই ইনসাইডারের ছিল৷ অর্থাৎ আন্দোলনের অংশ ছিল৷ ৭০-৮০তেও সে রকমই ছিল৷ ৯০'র পর বিশ্বায়ন উত্তর যে সময়, তখন মিডিয়ার ধরন পাল্টেছে৷ ফলে এক ধরনের বস্তুনিষ্ঠতাসহ ভারসাম্যপূর্ণ রিপোর্টিং, যেটা কোন দলের প্রতি লয়াল না, এ রকম সাংবাদিকতা আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ কিন্তু দ্রুত আবার এটার রিপ্লেস করেছে কর্পোরেট সাংবাদিকতা বা বিজনেস ক্লাসের স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা৷ তখনই আবার মালিকপক্ষের বা বিজনেস ক্লাসের প্রভাব বেশি করে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে৷

তার মানে এখানে সংবাদপত্রে তিন প্রকারের চরিত্র আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক আদর্শভিত্তিক সাংবাদিকতা, মালিকের স্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার মাঝে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার একটা সময় ছিল৷ 

 আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ-ওই সময়টা৷

তাহলে মালিকদের স্বার্থভিত্তিক সময়টা কখন শুরু হলো?

 এটা আমি আমার রিসার্চ পেপারে বলেছি, প্রথম আলো পত্রিকা শুরুর মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে এক ধরনের কর্পোরেট সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে৷ প্রথম আলোর সেট করা টেমপ্লেটের ভিত্তিতেই বাকি পত্রিকাগুলো গড়ে উঠেছে বা পরিচালিত হয়৷ কিন্তু সম্ভবত বাকি পত্রপত্রিকাগুলো প্রথম আলোর ইনফেরিয়র ভার্সন হয়েছে৷ এই দুর্বলতার সুযোগে মালিকের হস্তক্ষেপগুলো আরো বেশি সবল হয়েছে৷ 

প্রথম আলোর মালিক আছে৷ কিন্তু তারা নিজস্ব পলিসি দ্বারা পরিচালিত হয়৷ অর্থাৎ মালিকের দৈনন্দিন হস্তক্ষেপের চাইতে সেট করা পলিসি দ্বারা পরিচালিত হয়৷ সেই পলিসিটা হয়ত বিজনেস ক্লাসের স্বার্থ, প্রাইভেট সেক্টরের স্বার্থ, এক ধরনের কনজিউমার কালচারের জন্য সেগুলো ফেভারেবল৷ কিন্তু অন্যান্য জায়গায় ব্যাপারটা এতটা পেশাদারিত্বের না৷ ফলে ওই জায়গায় মালিক তার হস্তক্ষেপ নিয়ে ঢুকে পড়েন৷

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে আরেকটা বিষয়ও আছে৷ এখানে সম্পাদকীয় নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা আবার মালিকানায়ও আছেন৷ এটা কি কোন পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছে?

হতে পারে৷ আমিতো বলেছি, পেশাদারিত্বের ব্যাপারটা এভাবেই নির্ধারিত হয় যে, সম্পূর্ণ শেয়ার এক মালিকের হাতে না থেকে কিছু শেয়ার যদি অন্যান্য হোল্ডারদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে হস্তক্ষেপের জায়গায় কিছুটা ভারসাম্য আসতে পারে৷ 

আমাদের দেশে এখনও একের পর এক গণমাধ্যম আসছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা পোস্ট এসেছে৷ আজকের পত্রিকা নামে একটা পত্রিকা আসছে৷ আরো বেশ কয়েকটি পাইপলাইনে আছে৷ সংবাদমাধ্যম কি এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে নাকি নতুন গণমাধ্যমগুলোও একই সমস্যার মধ্যে দিয়ে জন্ম নিচ্ছে?

 বাংলাদেশের বিজনেস ক্লাসতো এখনো সম্প্রসারণশীল৷ ফলে এটার হাত ধরে মিডিয়া খাতও সম্প্রসারণ হচ্ছে৷ কিন্তু আমার মনে হয় যে, নতুন মিডিয়া আসার মত মার্কেট এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই৷ এখন যেগুলো আসছে, সেগুলো সম্ভবত আগের পরিকল্পনার বিলম্বিত বাস্তবায়ন৷ যারা এখনো আনতে চাচ্ছেন, বোঝাই যাচ্ছে যে, নতুন গঠিত বড় বড় বা মাঝারি কোম্পানি গঠিত হয়েছে, তারাও চাচ্ছেন অন্যদের মত বাজারে তাদের একটি মুখপাত্র রাখতে৷ পেশাদারিত্বের চাইতে সেইসূত্রে এটা আসছে৷ আমার ধারণা, যদি ১০টা এসে থাকে, এর মধ্যে ৯টাও পেশাদারি সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছে না৷ একটা যদি এসে থাকে, ভালো৷ 

গণমাধ্যমের মালিক-সম্পাদকীয় নেতৃত্বের সম্পর্কটা যথাযথ জায়গায় নিতে গণমাধ্যম কর্মী, মালিক বা বাইরের সাধারণ মানুষের কী করার আছে?

 আমরা লেখালেখির মধ্যে দিয়ে এক ধরনের একটিভিজম করি, পাঠক-শ্রোতা-দর্শকরাও করেন৷ উদ্দেশ্যহীন গড়পড়তা বক্তব্য রাখার চাইতে সেটা যদি একটু বুঝে করা যায়৷ তাহলে সেটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব৷ আর মালিকদের বলতে পারি, আপনারা মার্কেটটা বোঝার চেষ্টা করেন৷ না বুঝে মিডিয়া চালু করার ফলে পরে বন্ধ করে দেবেন, কিংবা ছাঁটাই করবেন-এভাবে চলার চেয়ে বুঝেই নামেন৷ ভালো সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন৷ তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যাবে৷ 

অডিও শুনুন 19:16

‘সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন, প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যাবে’

আর সাংবাদিকদেরও বুঝে নতুন জায়গায় যাওয়া উচিত৷ নতুন কোন ধ্যানধারনা আছে কি-না, টিকে থাকবে কি-না, ইত্যাদি বোঝার দরকার আছে৷ ধরেন, আপনি ৫০ হাজার টাকার যোগ্য, এখন একজন আপনাকে এক লাখ টাকা দিতে চাইলে বোঝা যাবে, এটা আর্টিফিশিয়ালি ইনহ্যান্সড৷ এটা না টেকার সম্ভাবনা আছে৷

যেটা আলোচনায় এসেছে যে, মালিক হস্তক্ষেপ কম করার কারণে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার প্রতিষ্ঠান হিসাবে দাঁড়িয়েছে৷ এ রকম প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ার অনুভূতি নিশ্চয়ই অনেক ভালো৷ ব্যবসা হিসাবেও এগুলো লাভজনক৷ এরপরও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে অন্য মালিকরা কেন তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না?

এটা আমার মনে হয়, মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি, রুচি, ব্যাকগ্রাউন্ড, বড়লোক হয়ে উঠার ধরন-ইত্যাদি নানান কিছু ম্যাটার করে৷ যেমন ধরা যাক, ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা ডাকাতির মত করে সম্পদ আহরণ করেছে৷ একটা সময় যাওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে সভ্য হয়েছে৷ 

আমাদের দেশে যারা বড়লোক শ্রেণি, যেমন ধরা যাক, বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ আছে৷ এ রকম কোন একটা ডাকাতি, কোন একটা অর্থ তসরুফের মধ্য দিয়ে মানুষ বড়লোক হয়৷ যেহেতু তারা বড়লোক হয়েই গেছেন, এখন তাদের সংযত হওয়ার সময় এবং মালিকের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোরও সময়৷ সেটাই হয়ত পাল্টাচ্ছে না৷ হয়ত আরেকটু সময় লাগবে৷

উন্নত বিশ্বের নানা দেশের তুলনায় সাংবাদিকদের বা যথাযথ সাংবাদিকতার সুরক্ষায় বাংলাদেশে নীতিগত বা আইনগত ঘাটতি কি রয়েছে?

যেমন, আমাদের প্রেস কাউন্সিল নিষ্ক্রিয়৷ ফরিয়াদ জানানোর একটা জায়গা সেটা৷ তারপর আইনগত সুরক্ষার জায়গা, যেমন সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া আছে৷ কিন্তু আবার এই দিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত আইন উপস্থিত রয়েছে৷ যেটা সাংবিধানিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক৷

গণমাধ্যমে মালিকের প্রভাবে কারণে সেখানে কাজ করা সাংবাদিকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে৷ এই অবস্থায় সেখানে কাজ করা সাংবাদিকদের কী করার আছে বা কী করা উচিত?

প্রফেশনাল সাংবাদিকতার জন্য যেটা দরকার যে, কারো প্রভাব আছে, কারো হস্তক্ষেপ আছে, এগুলো যেন বোঝা না যায়৷ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এগুলো বোঝা জরুরি৷ ধরা যাক, বঙ্গভবনে চায়ের দাওয়াত পাওয়া কিংবা মালিকের জন্মদিনে খুবই প্রশস্তিমূলক শুভেচ্ছা জানানো এবং চায়ের দাওয়াত পেয়ে সেটা খুবই গর্ব সহকারে প্রচার করা৷ জনমনে এগুলোর প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়৷

আমার মনে হয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে কি নেই, সেটা প্রকাশিত হতে দেয়া যাবে না৷ সাংবাদিকদের মুক্ত এনটিটি হিসাবে পাঠক দর্শক দেখতে চায়৷ যদি দেখা যায়, তারা স্বাধীনতাটা নিজেরাই খুইয়ে বসেছেন তৈলমর্দনের মধ্য দিয়ে৷ তাহলে সার্বিকভাবে সেটা সাংবাদিকতার জন্য ক্ষতিকর৷

অনেকে বলছেন, অযোগ্য লোক সাংবাদিকতায় আসার কারণে এই পরিস্থিতি প্রকট হয়েছে৷ এটা কি সত্যি? সত্যি হলে কী যোগ্যতা নিয়ে সাংবাদিকতায় আসা উচিত?

এটা আংশিক সত্যি৷ আমি পুরোটা সত্যি মনে করি না৷ কারণ আমি দেখি যে, অনেক যোগ্য সাংবাদিক৷ যোগ্যতা দিয়ে যারা প্রতিষ্ঠিত, তাদের মধ্যেই ওই বদগুণগুলো দেখা যাচ্ছে৷

স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়