বর্ষায় অতিমারির দোসর পানি ও মশাবাহিত রোগ | বিশ্ব | DW | 16.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বর্ষায় অতিমারির দোসর পানি ও মশাবাহিত রোগ

অতিমারির জন্য বছর দেড়েক আড়ালে ছিল মশা ও জলবাহিত রোগ৷ কোভিডের তৃতীয় ঢেউ যখন শিয়রে, তখন ফের তারা স্বমহিমায়৷ বর্ষাকালই কি শুধু দায়ী, নাকি অন্য কারণও?

গত দেড় বছর করোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিল প্রশাসন৷ এখন তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় প্রহর গোনা চলছে৷ সংক্রমণের গ্রাফ ওঠানামা করলেও এখনো নাগালের মধ্যে অতিমারি৷ এরই মধ্যে বর্ষার শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন উপসর্গ জোরালো হচ্ছে৷ শহর জুড়ে কলেরা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে৷

ম্যালেরিয়া,   ডেঙ্গুর   গ্রাফ   চড়ছে

বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রায় দেড় বছর বিরতির পর শহরে মশাবাহিত রোগের হামলা! বড়বাজার, কলেজ স্ট্রিট, বউবাজার, ট্যাংরা, তপসিয়া প্রভৃতি এলাকায় মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়৷ ২০১৯-এর তুলনায় এ সব এলাকায় এক লাফে রোগীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ  বেড়েছে৷ যদিও দমদম বা বিধাননগর এলাকায় এ সব রোগের দাপট কম৷ চিন্তার বিষয়, রাজ্যে চিহ্নিত মোট রোগীর ৮০ শতাংশই কলকাতার৷

স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কথায়, জুন পর্যন্ত মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণেই ছিল৷ বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে জুলাই মাসে হঠাৎ ৩০০ রোগীর সন্ধান মেলে কলকাতার পাঁচটি বরোয়৷ যদিও আগস্টে অল্প সংখ্যক রোগীর খোঁজ মিলেছিল৷ সেপ্টেম্বরে তা ফের বাড়তে শুরু করেছে৷ গত বছরের তুলনায় ৫০০ মিলিমিটার অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে, জল জমেছে বহু জায়গায়৷ তার উপর মশা নিয়ন্ত্রণে কোনও বিশেষ পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি৷ অনেকে বলছেন উদাসীনতা৷ অনেকের মতে, কোভিড নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন পুরো শক্তি ব্যবহার করায় এ দিকটা ফাঁকি পড়ে গিয়েছে৷ যদিও পুর প্রশাসন এই অভিযোগ মানছে না৷ দমদমের মু্খ্য পুর প্রশাসক বরুণ নট্ট ডয়চে ভেলেকে বলেন, "কোভিডের পাশাপাশি আমরা নজর দিয়েছি জল ও মশাবাহিত রোগের দিকেও৷ অবহেলা করা হয়েছে, এই অভিযোগ ঠিক নয়৷ তাই আমাদের পুর এলাকায় একটি কেসও ধরা পড়েনি৷”

অডিও শুনুন 00:46

‘জল ও মশাবাহিত রোগের বিষয়ে অবহেলা করা হয়েছেএই অভিযোগ ঠিক নয়’

তেমন কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিশে্ষজ্ঞদের বক্তব্য, গত বছর লকডাউন বিধি মেনে চলার জন্য এই সংক্রমক রোগগুলি বাড়তে পারেনি৷ রাজ্যের ডেঙ্গু টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. জ্যোতির্ময় পাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, "মানুষের কার্যকলাপ যত বাড়বে, জমা জল বাড়বে, ফলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হবে৷ এশিয়া, লাতিন আমেরিকায় ডেঙ্গু প্রতি বছর বর্ষায় হবেই৷ তবে এ বছর এখনো অত ভয়াবহ হয়নি৷ গত বছর লকডাউন ছিল বলে কনস্ট্রাকশনের কাজও বন্ধ ছিল৷ জল জমতে পারেনি৷” 

কলেরার   বাড়বাড়ন্ত 

মশাবাহিত রোগের দোসর হয়ে শহরের কামারহাটি অঞ্চলে কলেরার অনুপ্রবেশও লক্ষণীয়! এর আগে কলকাতায় ২০১৫ সালে কলেরার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল৷ কামারহাটি পুরকর্তাদের মতে, এক থেকে চার নম্বর ওয়ার্ড সবছেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত৷ এছাড়া অনেক ওয়ার্ডেও কলেরা ছড়িয়েছে৷ ১৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি৷ ছাড়া পেয়েছেন ১০০ জন৷ প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন শ দুয়েক মানুষ৷ মারা গেছেন দুজন৷ তবে স্থানীয়দের মতে, মৃতের সংখ্যা ১১৷ এমনকি এখনো  জল  খেলেই  ডায়ারিয়ার উপসর্গে অসুস্থ হচ্ছেন কামারহাটির বাসিন্দারা৷ ফোটানো জল খাওয়াই আপাতত ভরসা তাঁদের৷ সামর্থ্য থাকলে কেউ বা আবার বোতলের কেনা জল খাচ্ছেন৷ আগের থেকে পরিস্থিতি ভালো হলেও পুরোপুরি ঠিক হয়নি৷ এদিকে সংক্রমণের সঠিক উৎস এখনও খুঁজে পায়নি পুরসভা৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার পক্ষ থেকে জলাধারগুলিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বাড়িয়েও লাভ হচ্ছে না কিছু৷ কামারহাটির উপ-মুখ্য প্রশাসক তুষার চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানান, "জলের লিকেজ থেকেই কলেরা ছড়িয়েছে৷ তবে সংক্রমণ কমছে৷”  

অডিও শুনুন 03:11

‘জলের লিকেজ থেকেই কলেরা ছড়িয়েছে, তবে সংক্রমণ কমছে’

অনুমান করা হচ্ছে, পানীয় জলের মধ্যেই মিশেছে বর্জ্য৷ গোটা এলাকার পাইপলাইনে ছিদ্র দিয়ে কলেরার জীবাণু প্রবেশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ কিন্তু পাইপলাইনে কোথায় ছিদ্র আছে তা এখনো জানা যায়নি৷ কারণ তার নকশাই হারিয়ে গিয়েছে৷ স্থানীয়দের বক্তব্য, নিকাশির সমস্যা থাকায় বর্ষায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমে৷

জমা   জল   শত্রু

এই জল জমাই আদতে মশা ও জলবাহিত, উভয় রোগের উৎস৷ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণের দোহাই দিয়ে পুরকর্মীদের জমা জলের নজরদারিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তাই দেশের মহামারী আইনের উল্লেখ করে পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম পুরকর্মীদের জমা জল পর্যবেক্ষণে বাধা দিলে গ্রেপ্তারের কথা বলেছেন৷ ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বৃষ্টির সঙ্গে মশাবাহিত এবং জলবাহিত রোগের একটা যোগসূত্র আছেই৷ বর্ষার সঙ্গে জল জমার সম্পর্ক আছে, জমা জলেই মশা ডিম পাড়ে৷ আবার দূষিত জমা জল উপচে যদি পানীয় জলের সঙ্গে কোনোভাবে মিশে যায়, তাহলে ডায়েরিয়া, কলেরা, আমাশা ইত্যাদি হয়৷”   

কিন্তু গত বছর বর্ষায় এসব কিছুরই উপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি৷ এর কারণটা কী? ডাব্লুএইচও-র প্রাক্তন পরামর্শদাতা ও ভাইরোলজিস্ট ডাঃ অমিতাভ নন্দী বলেন, "আসলে প্রতিবছর ডায়রিয়া, কলেরা গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে জল থেকেই হয়৷ কিন্তু গতবার প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠার কারণে মশাবাহিত রোগ বেশি হয়নি৷ এবার বেশি হচ্ছে, কারণ প্রাকৃতিক ইমিউনিটি ফের কমেছে৷ এভাবেই কোনোবছর বেশি, কম হবে৷” ম্যালেরিয়াতে ড্রাগ রেজিস্ট্যেন্স হয়েছে এবার, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি৷