বর্ণবাদবিরোধী উদ্যোগ সত্ত্বেও জার্মানিতে অসহিষ্ণুতা কমছে না | বিশ্ব | DW | 22.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

বর্ণবাদবিরোধী উদ্যোগ সত্ত্বেও জার্মানিতে অসহিষ্ণুতা কমছে না

জাতিগত বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগে ২০১৭ সালে ১০ কোটি ইউরোর বেশি ব্যয় করেছে জার্মান সরকার৷ তা সত্ত্বেও বর্ণ ও জাতি সংক্রান্ত অসহিষ্ণুতা এখনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা৷

আখেনের সমাজকর্মী ইজাবেল টেলার পেশায় আইনজীবী৷ তিনি যে উদ্বাস্তু কল্যাণ উদ্যোগটির হয়ে কাজ করেন, তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে৷ ফেডারাল ও রাজ্য সরকারের অর্থানুকুল্যে এই উদ্যোগ চলে এবং এদের একটি মূল কাজ হলো, যুদ্ধ ও পলায়নের বিভীষণ অভিজ্ঞতার ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উদ্বাস্তুদের থেরাপির ব্যবস্থা করা৷ বর্তমানে একটি থেরাপির জন্য উদ্বাস্তুদের ছয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে ইজাবেল জানালেন৷

তিনি যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন, তারা সাধারণভাবে উদ্বাস্তুদের সাহায্য করার চেষ্টা করে৷ এক্ষেত্রে ইজাবেলকে প্রায়ই সরকারি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হতে হয়: বিশেষ করে জার্মানিতে যেসব উদ্বাস্তু শিশুর জন্ম হয়, তাদের নথিভুক্ত করা ও কাগজপত্র করা নিয়ে দৃশ্যত আমলারা ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করেন৷

দক্ষিণপন্থি প্রবণতা

বর্ণবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনাচক্রে ইজাবেল টেলারের ডাক আসে৷ এক্ষেত্রে তিনি জার্মান সমাজ যে দক্ষিণপন্থি মনোভাবের দিকে ঝুঁকছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মতো সমাজকর্মী ও উদ্যোগ ছাড়া সমাজ ও সরকারের তরফেও এক ধরণের অসহায়তা লক্ষণ করেছেন৷

টেলারের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের নিজেদের মনোভাব বদলানো উচিত৷ দৃশ্যত টেলার ও তাঁর সতীর্থরা প্রায়ই অভিবাসী পটভূমির পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক ব্যবহারের কাহিনি শোনেন – যেমন ওপরওয়ালা, তেমন সহকর্মীদের তরফ থেকে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন বিদেশি-বহিরাগত বংশোদ্ভূত পুলিশকর্মীরা৷

সাংবাদিক আন্দ্রেয়া রোয়েপকে বহু বছর ধরে জার্মানিতে বর্ণবাদ প্রণোদিত দক্ষিণপন্থি সহিংসতা নিয়ে লিখছেন৷ তাঁর মতে, জার্মানিতে দক্ষিণপন্থি হওয়াটা আবার ফ্যাশনেবল হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কাজেই বর্ণবাদ বিরোধী উদ্যোগগুলি আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে রোয়েপকে মনে করেন৷ এই উদ্যোগগুলিই বস্তুত জার্মান সমাজের আসল মনোভাবকে তুলে ধরছে বলে তাঁর ধারণা৷

মুশকিল এই যে, বর্ণবাদী স্লোগানগুলি ছড়ায় প্রধানত অনলাইনে৷ অনলাইনে জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হলো উদ্বাস্তু বিরোধী এএফডি দল৷ অনলাইনে তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি৷ অনলাইন প্রচারণার ক্ষেত্রে এএফডি যে কতটা পেশাদার, সে ব্যাপারে জনসাধারণের আজ পর্যন্ত কোনো পর্যাপ্ত ধারণা নেই বলে রোয়েপকের আক্ষেপ৷ দক্ষিণপন্থি অপরাধের আইনগত বিচার প্রক্রিয়াতেও নানা সমস্যা আছে বলে তাঁর অভিমত৷

দক্ষিণপন্থি মতাদর্শ বলতে কী বোঝায়?

‘এক্সিট’ নামের একটি উদ্যোগ ২০০০ সাল থেকে নব্য নাৎসিদের দল থেকে বেরিয়ে আসায় সাহায্য করে আসছে৷ ফেডারাল পরিবার মন্ত্রণালয় উদ্যোগটির অর্থসংস্থান করে থাকে৷ ফেলিক্স বেনেকেনস্টাইন ১০ বছর নব্য নাৎসি থাকার পর এখন ‘এক্সিট’-এর কর্মী৷ ৩১ বছর বয়সি বেনেকেনস্টাইনের কর্মক্ষেত্র বাভেরিয়া৷ সেখানে যে প্রশ্নটি তাঁকে প্রায়ই শুনতে হয়, সেটি হলো: ‘‘জার্মানিতে বড় বেশি উদ্বাস্তু এসেছে বললেই কি আমি বর্ণবাদী হয়ে গেলাম?’’

বেনেকেনস্টাইনের মতে বামঘেঁষা মনোভাবের কাউন্সেলররা কারো দক্ষিণঘেঁষা মনোভাব দেখলেই তার মুখ বন্ধ করে দেন৷ অপরদিকে উদ্বাস্তু সংক্রান্ত উদ্যোগগুলিতে রক্ষণশীল মনোভাবের আরো বেশি মানুষ থাকা প্রয়োজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ থাকা আবশ্যক বলে তাঁর ধারণা৷

অলিভার পিপার/এসি

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন