বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উত্‍পাদনের চেষ্টা চলছে | আলাপ | DW | 27.12.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উত্‍পাদনের চেষ্টা চলছে

‘‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উত্‍পাদনের একটা চেষ্টাও আমাদের আছে৷ আর সেটা হবে বিরাট একটা মাইলফলক৷’’ ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আব্দুর রাজ্জাক৷

ডয়চে ভেলে: একটা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত? ঢাকা কতটা পিছিয়ে আছে?

কমোডর আব্দুর রাজ্জাক: আমি মনে করি, একটা শহর বর্জ্য মুক্ত থাকবে৷ রাস্তায় বর্জ্য দেখা যাবে না৷ মানুষ সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট জায়গায় বর্জ্য ফেলবে৷ এদিক থেকে ঢাকা অনেকটাই পিছিয়ে আছে৷ যদিও আমরা উন্নতি করছি৷ এটার আরো উন্নতি করার সুযোগ আছে৷ আগে এক সময় আমাদের সব রাস্তাতেই বর্জ্য থাকত৷ আমরা রাস্তা থেকে বর্জ্য সরিয়ে নিয়েছি৷ আমরা ট্রান্সফার স্টেশন করেছি৷ আমাদের ৩৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টি ওয়ার্ডে এসটিএফ আছে৷ আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনটি এসটিএফ নির্মাণের জন্য৷ যদিও আমাদের জায়গার সংকট আছে৷ তবে আমরা জায়গা পাওয়া চেষ্টা করছি৷

একটু আগেই বলছিলেন, আমরা পিছিয়ে আছি৷ এই জায়গা থেকে সমাধানের পথ কী?

অনেক উন্নতি করার সুযোগ আছে৷ যদি মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকে৷ আসলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম শর্ত হচ্ছে, মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা৷ এটা যদি পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় তাহলে দ্রুতই আমরা উন্নতি করতে পারব৷ কিছু সীমাবদ্ধতা আমাদের আছে৷ কিছু বর্জ্য পরিবহনে আমরা খোলা ট্রাক ব্যবহার করছি৷ আগামী বছর যাতে খোলা ট্রাক রিপ্লেস করা যায় সেই চেষ্টা করছি৷ পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উত্‍পাদনের একটা চেষ্টাও আমাদের আছে৷ বিদেশি কোন কোম্পানির সঙ্গে যদি এটা আমরা করতে পারি তাহলে বিরাট একটা মাইলফলক হবে৷

উন্নত দেশে আমরা দেখি বর্জ্য রিফাইন করে জৈব সার, গ্যাস এমনকি বিদ্যুৎ তৈরি করা হচ্ছে৷ এগুলো নিয়ে আমাদের কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

একটু আগেই বলছিলাম বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উত্‍পাদন করতে আমরা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলছি৷ আশা করি শিগগিরই এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারব৷

কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বা দেশের সঙ্গে আপনাদের আলোচনা হচ্ছে?

এখানে চাইনিজ কোম্পানি, কোরিয়ান কোম্পানি ও জার্মান কোম্পানির লোকাল এজেন্টের সঙ্গে কথা হচ্ছে৷ এছাড়া তাদের প্রতিনিধিও এখানে আছেন, যাঁদের সঙ্গে কথা হচ্ছে৷ আশা করছি, ভবিষ্যতে আমরা ভালো সমাধানে পৌঁছাতে পারব৷

ঢাকা শহরে কী পরিমাণ বর্জ্য উত্‍পাদিত হয় এবং তার কতটুকু আমরা পরিষ্কার করতে পারি?

অডিও শুনুন 03:30
এখন লাইভ
03:30 মিনিট

‘‘অনেক উন্নতি করার সুযোগ আছে’’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রতিদিন কী পরিমাণ বর্জ্য জেনারেট হয়, সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই৷ তবে প্রতিদিন আমরা কতটুকু বর্জ্য সরিয়ে নিচ্ছি তার একটা হিসাব আমাদের কাছে আছে৷ এটাও আবার সিজন টু সিজন ভ্যারি করে৷ এই শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন আমরা ২১শ' থেকে ২২শ' টন বর্জ্য পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছি৷

আমরা তো পুরোটা নিতে পারছি না?

পুরোটা নিতে পারছি না, এটা বলা ঠিক হবে না৷ কারণ সিটি কর্পোরেশন যে সুবিধা দিয়েছে তাতে করে যে বর্জ্য আমাদের কাছে আসছে, তার পুরোটাই আমরা নিয়ে যাচ্ছি৷ কোনো বর্জ্য তো রেখে যাওয়া হচ্ছে না৷ সিটি কর্পোরেশন তো প্রতিটি মানুষের দরজায় যেতে পারবে না৷ কিন্তু আমরা যে ব্যবস্থা নিয়েছি সেখানে যদি মানুষ বর্জ্যটা পাঠানোর ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা প্রতিদিনই সেটা পরিষ্কার করে নিয়ে যাচ্ছি৷

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যারা যুক্ত তাদের তো স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে৷ এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের তরফ থেকে কি তাদের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

প্রাথমিকভাবে যারা ভ্যানে করে বর্জ্য নিয়ে যাচ্ছে, তারা কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কর্মী না৷ তথাপি তাদের ব্যাপারে আমরা সচেতন৷ এদের যারা ভ্যান মালিক তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিতই কথা বলছি৷ যারা এগুলো নিচ্ছে, তারা যেন বর্জ্য নেয়ার সময় হাতে হ্যান্ডগ্লাভস পরে বা মুখে মাস্ক পরে সেটা আমরা বলছি৷ কিন্তু এটা একটা অভ্যস্ততার ব্যাপার৷ অনেক সময় তারা হ্যান্ডগ্লাভস বা মাস্ক পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না৷ তারপরও কীভাবে তাদের অভ্যস্ত করা যায় সে চিন্তা আমাদের আছে৷ আমরা সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি৷

এই বর্জ্যগুলো তো উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে৷ এই অবস্থার পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?

আমাদের দু'ধরনের পরিকল্পনা আছে৷ আমি আগেই বলেছি, যদি এগুলো রিফাইন করে বিদ্যুৎ উত্‍পাদন করা যায় তাহলে এই বর্জ্য অর্ধেকের নীচে নেমে আসবে৷ আরেকটা ব্যবস্থা হলো, যেখানে আমরা বর্জ্য ফেলি সেখানে ১০ ফিট বা ১৫ ফিট হলে সেটা আমরা কাভার দিয়ে ঢেকে দেই৷ তার উপর আবার বর্জ্য ফেলা হয়৷ এভাবে চলতে থাকে৷ বর্তমানে আমাদের যে ল্যান্ডফিল আছে, সেটা আমরা ২০০৫ সালে শুরু করেছি৷ এটা আর দু-তিন বছর চলবে৷ এরপর আমাদের নতুন জায়গায় চলে যেতে হবে৷ সেটা আমরা খোঁজার চেষ্টা করছি৷ নতুন জায়গা পেলে আমরা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে বর্জ্য ফেলার ব্যাপারে চিন্তা করছি৷

ঢাকার দু'টি সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ১৮১ বর্গকিলোমিটার৷ এর সঙ্গে আরো ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হচ্ছে৷ এর ফলে ঢাকার আয়তন হবে প্রায় ৪০০ বর্গ কিলোমিটার৷ এই বিশাল এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে? আমাদের কি সেই পরিমাণ প্রস্তুতি আছে?

নতুন এলাকা যুক্ত হলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন হবে ১৯৬ বর্গকিলোমিটার৷ এখন যেটা আছে ৮৩ বর্গকিলোমিটার৷ এখন ওয়ার্ড আছে ৩৬টি৷ আরো ১৮টি যুক্ত হয়ে হবে ৫৪টি৷ বিশাল জনগোষ্ঠী যুক্ত হবে সিটি কর্পোরেশেনের মধ্যে৷ এর জন্য আমাদের প্রস্তুতি চলছে৷ আমরা অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি৷ ভেহিকল যেগুলো লাগবে সেগুলো কেনার প্রস্তুতি চলছে৷ নতুন এলাকাতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের জন্য আমরা জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছি৷ ল্যান্ড সিলের জন্য কোনো জায়গা পেলে সেটা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমকে আরো গতিশীল করবে৷ সামনের বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি৷

ঢাকা শহরে এখনো আমরা অলি-গলিতে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখি৷ উন্নত কোনো দেশে আমরা এই অবস্থা দেখি না৷ এই পরিস্থিতি থেকে কি বের হওয়া সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব৷ কেন সম্ভব হবে না? আমি আগেই বলেছি, আপনারা যে লেভেলে আশা করছেন সেটা করতে হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা ও সহযোগিতা৷ একজন মানুষ যদি নিজে সচেতন হন এবং এইভাবে সহযোগিতা দেন যে আমি রাস্তার মধ্যে কোনো ময়লা ফেলব না৷ আমি আমার বাড়ির ময়লাটা রাস্তায় ফেলে আসব না৷ তাহলে অগি-গলিতে আপনি বর্জ্য দেখবেন না৷ তখন সে কী করবে, সিটি কর্পোরেশন যে জায়গা দিয়েছে সেখানে সে ময়লা ফেলে আসবে৷ এটা করতে পারলে আপনারা যে লেভেলে আশা করছেন সেই লেভেলে পৌঁছে যাবো আমরা৷

ঢাকা শহরকে বর্জ্যমুক্ত করতে আপনার পরামর্শ কী?

আমার প্রথম পরামর্শ হলো, ঢাকা শহরের নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা দরকার৷ যদি আমরা ক্লিন ঢাকা গড়তে চাই৷ আপনি জানেন আমাদের মেয়র যখন দায়িত্ব নেন তখন তিনি বলেছিলেন, তার তিনটি টার্গেট৷ এগুলো হলো – ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা ও সেইফ ঢাকা৷ ক্লিন ঢাকার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি৷ কোরবানি ঈদের সময় মানুষ যে পরিমাণ সহযোগিতা করে থাকে, পুরো বছর সেই পরিমাণ সহযোগিতা পেলেই ক্লিন ঢাকা পেতে আমাদের বেশি দেরি হবে না৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন