বন বাঁচায় পরিবেশবান্ধব চুলা | অন্বেষণ | DW | 26.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বন বাঁচায় পরিবেশবান্ধব চুলা

ভারতের হিমাচল প্রদেশে ঘর গরম রাখতে এক রকমের চুলা ব্যবহার করেন স্থানীয়রা৷ এই চুলায় প্রচুর কাঠের প্রয়োজন হয়৷ এতে বন উজাড় হয়৷ এ অবস্থায় বিকল্প এক চুলা নিয়ে এসেছে একটি প্রতিষ্ঠান৷

কৃষক উমা ঠাকুর ও তার পরিবার তাদের বাড়িটিকে যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখার চেষ্টা করেন৷ তাদের ঐতিহ্যবাহী বুখারি চুলা তাদের ঘর গরম রাখা এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়৷ তবে এই বার্নারে অনেক কাঠ লাগে৷

হিমাচল প্রদেশের কৃষক উমা ঠাকুর বলেন, ‘‘যখন বরফ পড়ে, তখন কখনো টানা তিনদিন এই চুলা জ্বলে৷ এছাড়াও আমরা রান্না, পানি গরম ও রুটি বানাতে এই চুলা ব্যবহার করি৷''

হিমালয়ের পাদদেশে ভারতের উত্তরাঞ্চলের হিমাচল প্রদেশে শীতকাল বেশ লম্বা৷ সেখানকার নারীরাই মূলত কাঠ যোগাড় করেন৷ এই কাজ কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ৷

সর্বোচ্চ ৫ হাজার ভারতীয় টাকায় বুখারি চুলা মেলে৷ শীতকালে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি৷ স্থানীয়রা ঘর গরম রাখতে বিদ্যুৎ বা এলপিজি কিংবা পানির হিটার ব্যবহার করেন না৷ কারণ ওসবে খরচ বেশি৷ এ অঞ্চলে কাঠের প্রাচুর্য বুখারি চুলাকে জনপ্রিয় ও সস্তা করেছে৷

বুখারি বিক্রেতা পুষ্প রাজ বলেন, ‘‘আমি শীতকালে দেড় থেকে দু'শ বুখারি বিক্রি করি৷ যদি আপনি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই চুলা ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার দিনে ৩০ থেকে ৪০ কেজি কাঠ লাগবে৷''

সব মিলিয়ে এই চুলার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশে৷ হিমাচল প্রদেশে বন উজাড় হবার পেছনে এর বড় অবদান আছে৷ এছাড়া ক্ষেত ও রাস্তা তৈরি করতে এবং আগুন লেগে বন উজাড় হয়৷

ভিডিও দেখুন 04:27

বন বাঁচাতে ‘ভালো’ চুলা

এ অবস্থায় সমাধান নিয়ে এসেছে হিমালয়ান রকেট চুলা৷ এই চুলা এমন এক রকমের আওয়াজ করে, যা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে৷ এর দু'টো দহন কোষ্ঠ আছে৷ এর নির্মাতার দাবি, এই চুলা অধিক দক্ষ ও সবুজ৷ এতে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কম কালি তৈরি হয়৷ কাঠও পোড়ায় অনেক কম৷

হিমালয়ান রকেট স্টোভ প্রকল্পের তানজিন রিগজিন বলেন, ‘‘বুখারিতে যা কাঠ লাগে, তার অর্ধেক লাগে হিমালয়ান রকেট স্টোভে৷''

এদিকে, কেলংয়ে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়৷ রিনজিং জাংপো চেলিংপা এই রকেট স্টোভ কিনেছেন, কারণ এখানে কাঠের স্বল্পতা রয়েছে এবং দামও বেশি৷ এছাড়া পরিবারটি ঘর উষ্ণ করতে এমন পথ বেছে নিতে চায় যা তাদের ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই উপকারি৷

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখন কম কাঠ লাগে এবং গরমও বেশি হয়৷ পুরো পরিবারের জন্য ভালোই কাজ করে৷ যত কম ধোঁয়া বেরুবে তত তা পরিবেশের জন্য ভালো৷''

স্টোভ কোম্পানিটি নিজেদের সামাজিক উদ্যোগ বলে মনে করে৷ তারা ইতোমধ্যে ২০ জনকে চাকরি দিয়েছে৷ অন্যান্য জায়গায় তারা স্টিলের চুলাও বিক্রি করে৷ উৎপাদনকারী কোম্পানির হিসেবে, লাদাখ থেকে কাশ্মীর, সিকিম, ভূটান এবং নেপাল থেকে শিমলা ও হিমাচলের কিন্নর পর্যন্ত এখন সাড়ে ছয় হাজার ঘরে হিমালয়ান রকেট চুলা ব্যবহৃত হয়৷

বুখারির চেয়ে তিনগুণ বেশি দাম এই চুলার৷ এর দক্ষতার অন্যতম কারণ হলো, এটি ধীরে ধীরে গরম করে৷ নির্মাতাদের দাবি, ২ বছরের কাঠের সাশ্রয় থেকে এর দাম পুষিয়ে নেয়া সম্ভব৷

পাণ্ডে/গেবহার্ট/জেডএ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক