বন বাঁচাতে হরিণ শিকার | অন্বেষণ | DW | 22.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বন বাঁচাতে হরিণ শিকার

বার্লিনের কাছে এক বনে পাইন গাছের সংখ্যা কমাতে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়েছে৷ কিন্তু হরিণ আর বন্য শূকরের কারণে চারাগাছ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে৷ এর সমাধানে এগিয়ে এসেছেন শিকারিরা৷

  সান্দ্রা শ্মিড্ট শিকারের জন্য বনে ফিরতে পেরে খুশি৷ সাত বছর আগে তিনি শিকারের লাইসেন্স পেয়েছেন৷ এভাবে তিনি আরো ভালোভাবে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন৷ তিনি বলেন, ‘‘জার্মানিতে শিকারিদের পরিবেশ সংরক্ষণকারীর স্বীকৃতি দেয়া হয়৷ তাই শিকারীর লাইসেন্স দেয়ার আগে আবেদনকারীদের ইকোলজি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়৷ গাছ, ঔষধি গাছ, পোকামাকড়, শুঁয়া পোকা, উভচর প্রাণীদের সম্পর্কে অনেক তথ্য জানানো হয়৷ আপনার মনে হতে পারে, এটা শুধু শিকার করা, কিন্তু বিষয়টা আসলে তা নয়৷’’

জার্মানিতে বণ্যপ্রাণী শিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং এজন্য লাইসেন্স প্রয়োজন৷ লাইসেন্স পাওয়ার আগে কয়েকমাস প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং তারপর পরীক্ষায় পাস করতে হয়৷ সাম্প্রতিক সময়ে নারী আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে৷

বার্লিনের বাইরে এক বনে শিকার করতে যান সান্দ্রা শ্মিড্ট৷ বন কর্মকর্তা মার্ক ইলেরিশ এই বনের দেখাশোনা করেন৷ তিনি শুধু সেই শিকারিদের সঙ্গে কাজ করেন, যারা ট্রফি জেতার চেয়ে বন রক্ষায় বেশি আগ্রহী৷

ভিডিও দেখুন 05:32

বন বাঁচাতে হবে বলে...

বছরে মাত্র দুবার- শরৎ আর বসন্তে শিকার করা যায়৷ কারণ এই সময় প্রাণীরা বেশি সক্রিয় থাকে৷ শিকারিরা কেবল নির্দিষ্ট জাতের প্রাণী শিকার করেন৷
 
বন্য শূকর ও হরিণ বিশেষ করে অঙ্কুর পছন্দ করে৷ তারা চারাগাছের অনেক ক্ষতি করে৷ ফলে বনে নতুন গাছ জন্মাতে পারেনা৷

ইলেরিশ আমাদের কিছু উদাহরণ দেখালেন৷ তিনি একটি পুরো এলাকায় বেড়া দিয়ে রেখেছেন৷ কারণ, সেখানে গত কয়েক বছরে প্রাণীরা চারাগাছের বেশ ক্ষতি করেছে৷

কিন্তু বেড়া লাগানো ব্যয়বহুল৷ এছাড়া এতে প্রাণীদের চলাচল ব্যাহত হয়৷ জার্মানির আয়তনের প্রায় ৩০ শতাংশ বন, যেখানে ভারতে সংখ্যাটা মাত্র ১২৷

তবে অনেক বনের মধ্য দিয়ে রাস্তা ও মাঠ চলে গেছে৷ ফলে সেসব বনের আকার তুলনামূলক ছোট হয়ে গেছে৷ রেড হরিণ আর বণ্য শূকর সেসব বনে থাকে৷ তবে তাদের শিকার করা প্রাণী, যেমন শিয়াল ঐসব ছোট বনে সাধারণত থাকেনা৷ 

বন কর্মকর্তা মার্ক ইলেরিশ বলেন, ‘‘হরিণরা এখানে পর্যাপ্ত খাবার পায়৷ গ্রীষ্মের সময় ঘাসের পরিমাণ অনেক থাকে৷ রাস্তা আর মাঠের কারণে বন ভাগ হয়ে যাওয়ায় কোনো কোনো অংশ এত পাতলা হয়ে গেছে যে, কাছেই ঘাসের জমি পেয়ে যায় হরিণরা, যেটা প্রাচীন বনে পাওয়া যায় না৷’’

এখানকার অনেক বন আর প্রাচীন নয়৷ এখানে এখন অনেক জাতের উদ্ভিদ আছে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখানে ব্যাপকহারে এভারগ্রিন গাছ লাগানো হয়েছে৷ তবে পরবর্তীতে পাতা ঝরে এমন গাছও লাগানো হয়েছে৷

ইলেরিশ বলেন, ‘‘আমরা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর বন দেখাশোনা করি৷ এখানে পাইন গাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷ আমরা যখন দায়িত্ব নেই তখন ৯৬ শতাংশ পাইন গাছ ছিল৷ এরপর আমরা প্রায় অর্ধেক পাইন গাছের জায়গায় নতুন গাছ লাগিয়েছি৷’’

পাইন গাছের কারণে মাটি শুকিয়ে যায় ও মাটিতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ এছাড়া এগুলোতে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়৷ ফলে বনে মিশ্র জাতের গাছ থাকা ভালো৷ এতে মাটিতে হিউমাসের পরিমাণ বেশি থাকে৷ ফলে পোকামাকড় ও গরমের সঙ্গে গাছ ভালো লড়তে পারে- জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে যেটা জরুরি৷ 

বসন্তকালে অনেক অল্পবয়সি প্রাণী বনে বের হয়৷ শিকারের সময় মার্ক ইলেরিশ উঁচু স্ট্যাণ্ডে দাঁড়ান, যেন শুধুমাত্র টার্গেট করা প্রাণী শিকার করা সম্ভব হয়৷ মার্কের মূল লক্ষ্য, তার পাতা ঝরা চারাগাছ রক্ষা করা৷

ইলেরিশ বলেন, ‘‘কোথায় জীববৈচিত্র্য বেশি? পাইন বনে, যেটা ঘাস দিয়ে ভর্তি, হরিণ যা খেতে পারে, কিন্তু যেখানে ফুল না থাকায় কোনো ফড়িং নেই? নাকি এমন বন যেটা প্রাকৃতিক বনের মতো, যেখানে বিভিন্ন জাতের গাছ, গুল্ম ইত্যাদি থাকে?’’

আগামী ৪০ বছরের মধ্যে এমন বন গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে৷ সেটা হয়ে গেলে তখন হয়ত আর শিকারের প্রয়োজন পড়বে না৷ 

ইয়ুলিয়া মিলকে/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন