বন কেটে মুনাফা ব্রাজিলের সর্বনাশ করছে | অন্বেষণ | DW | 15.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বন কেটে মুনাফা ব্রাজিলের সর্বনাশ করছে

সয়াবিনের চাষ আর পশুর খামার করে বিশ্বের বাজারে মুনাফার আশায় ব্রাজিলের বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় অরণ্যকে কেটে শেষ করছে এক মাফিয়া৷ তার মূল্য চোকাচ্ছেন সেই সব মানুষেরা, এই জঙ্গলে যাদের বাস ও জীবিকা৷

নানা জায়গায় আগুন ধরেছে বা ধরানো হয়েছে; পরিবেশ আন্দোলনকারী এলিজেউ বের্সাকলার সঙ্গে রন্দোনিয়ায় গেলে তা দেখা ও বোঝা যায়৷ রন্দোনিয়া হল আমাজোনিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে – এলাকাটিকে তিয়েরা দেল ফুয়েগো বা আগুনের দেশ বলা হয়ে থাকে; তাকেই ব্যঙ্গ করে যেন এই ট্র্যাজেডি৷ এলিজেউ সেই ট্র্যাজেডির ছবি তুলে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান৷

বনের জীবজন্তু পালিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে, বাতাসে পোড়া গন্ধ৷ এলিজেউ বের্সাকলা জানালেন, ‘‘শুধু গরু চরানোর মাঠের জন্য আমাজোনিয়ার গাছ কেটে, জঙ্গল পুড়িয়ে সাফ করা হচ্ছে৷ আগুনে জঙ্গলের একাংশ সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায়; যে কটা গাছ দাঁড়িয়ে থাকে, পরে সেগুলোও পড়ে যায়৷ বহু জীবজন্তু মারা পড়ে৷''

 আদিম অরণ্য বিনষ্ট করার আরেকটা কারণ হলো সয়াবিনের চাষ৷ মূল্যবান রেনফরেস্ট আর সয়া চাষের খামারের মধ্যে পাকা রাস্তা ধরে সারাদিন ফসল-বোঝাই ট্রাক চলে৷ গরু চরানোর মাঠও বাড়তে থাকে৷

ভিডিও দেখুন 04:24

বন কেটে মুনাফা এবং সর্বনাশ

অল্প লইয়া থাকি তাই...

বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় জঙ্গলের একপাশে এডারসন ও তাঁর স্ত্রীর মতো কিছু ছোটচাষি বাস করেন৷ এলিজেউ তাদের বোঝালেন, কীভাবে তাদের ছোট্ট খামারটির চারপাশে সয়াচাষ আর গোচারণ মাফিয়া তাদের গতিবিধি বাড়িয়ে চলেছে – যা এডারসন দম্পতির খুব ভালো করেই জানা, কেননা তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, তারা শীগগির এই এলাকা ছেড়ে চলে না গেলে, তাদের খুন হওয়ার সম্ভাবনা আছে৷

এডারসন ছেলেবেলা থেকে এই জঙ্গলেই মানুষ হয়েছেন; সেই জঙ্গল আজ তাঁর কর্মক্ষেত্র, কেননা তিনি রাবার চাষি; গাছ চিরে যে কাউচুক বা গাম ইলাস্টিক পাওয়া যায়, তাই বিক্রি করে তিনি জীবিকা অর্জন করেন৷ কাজেই এই জঙ্গল তাঁর কাছে পবিত্র৷ কিন্তু জঙ্গলের ভিতর খানিকটা ঢুকতেই দেখা গেল যে, সম্প্রতি এখানে অন্য মানুষজনও চলাফেরা করেছে: সেই সব অপরাধীদের আসা-যাওয়ার চিহ্ন, যারা প্রথমে বনের মধ্যে ছোট পথ করে, পরে সেই পথ দিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গাছ কেটে জমি তৈরি করে৷ জরিপের মানচিত্র বরাবর এই জমিগুলো তৈরি করা হয় ও বেচা হয়৷

জঙ্গলের মাফিয়া

এলিজেউ বের্সাকলা বললেন, ‘‘ওরা এখান দিয়ে গিয়েছে, গাছ ভেঙে পথ নির্দেশ করেছে৷ ওরা এমন সব মানুষ, যারা এলাকাটাকে চেনে, যেমন বনরক্ষী কিংবা জরিপের লোক৷ ওরা গাছ ভেঙে কিংবা দাগ কেটে জমির পরিধি নির্দিষ্ট করে, পরে প্লট অনুযায়ী সেই জমি বেআইনিভাবে কাজের জমি হিসেবে বিক্রি করা হয়৷ এর পিছনে একটি অপরাধীচক্র কাজ করছে৷''

আকাশ থেকে স্পষ্ট দেখা যায়, আদিম বনভূমির মাঝখানে থেকে থেকে গাছপালা কীভাবে উধাও হয়েছে৷ এই জমিগুলোই পরে বিক্রি করা হবে, তাই আগুন ধরিয়ে সেখানকার ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে৷ জমি যারা কেনে, তাদের মনোবৃত্তি হল: ‘‘জঙ্গল তো গেছেই৷ এখন সেখানে চাষ করলে দোষটা কী?''

২০১৬ সালে বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য বিনাশের পরিমাণ ২০১৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে নিরপেক্ষ পরিবেশ প্রতিষ্ঠান ইবামা-র অনুমান৷

‘ইবামা'-র কর্মী রোব্যারতো কাব্রাল বোরজেস অভিযোগ করলেন, ‘‘সমস্যা এই যে, আমরা কাউকে বেআইনিভাবে গাছ কাটার সময় ধরলে, পরের বার আবার তাকে সেই একই কাজ করতে দেখা যায়৷ কোনো কিছু বদলানোর রাজনৈতিক ইচ্ছা অবর্তমান, নয়তো যারা বারংবার পরিবেশ ধ্বংস করার কাজে ধরা পড়ছে, তাদের আরো কড়া সাজার ব্যবস্থা করা হতো৷ আমাজোনিয়ায় জঙ্গল কাটার বিরুদ্ধে সেটাই একমাত্র কার্যকরী হতে পারে৷''

কিন্তু ব্রাজিল সরকার বরং সুরক্ষিত এলাকাগুলিকেও কমিয়ে আনতে চান৷ কংগ্রেসে ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তেমের-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত রোখা হয়, ফলে তাঁকে সাসপেন্ড করা সম্ভব হয়নি৷ বিভিন্ন দলের মোট ৩০ শতাংশ সাংসদ খামারচাষিদের লবির হাতে, এমনকি ভোটের আগে সেই লবির লোকজন  প্রেসিডেন্ট তেমের-এর জন্য ভোট কিনেছে বলে কানাঘুষোয় শোনা গেছে৷

মিশায়েল স্টকস/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন