বন্যা: প্রান্তিক কৃষকদের পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বন্যা: প্রান্তিক কৃষকদের পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা

বাংলাদেশে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১২০ কোটি টাকার বীজ ও সার সহায়তা দেবে সরকার৷ পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় মৌসুমী ফসল চাষাবাদের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের এই সহায়তা দেওয়া হবে৷

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সনৎ কুমার সাহা ডয়চে ভেলেকে জানান, এবারের বন্যায় সারা দেশে ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ কৃষকদের এই ক্ষতি পোষাতে পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে৷

‘‘দরিদ্র্ কৃষকদের ১২০ কোটি টাকার বীজ ও সার দেয়া হবে৷ মৌসুমভিত্তিক আউশ, আমন, বোরো, সরিষা, সূর্যমূখী, ভুট্টা, তিলসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য বীজ, সার ও নগদ অর্থ দেয়া হবে৷ এই কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে৷‘‘

এবারের বন্যা নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘২০১৯–এর মৌসুমি বন্যা: যৌথ চাহিদার সম্ভাব্যতা' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস পর আগস্টের শুরুতে সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামে৷ বন্যায় দেশের ৬ হাজার ৮৬৭টি গ্রামের ৭৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এরমধ্যে সাড়ে তিন লাখ হতদরিদ্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮টি জেলায় বন্যার পানি উঠলেও আট জেলায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে৷ বন্যার কারণে প্রায় তিন লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়৷ আর নদীভাঙনের ফলে এক হাজার ৬৫৪টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে৷

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, এবার বন্যার্তদের ৩০ হাজার মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীনে থাকা অবকাঠামো মেরামত, সংস্কার বা পুননির্মাণের কাজ শুরু করেছে৷

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পর ঠিক সময়ে কৃষকদের বিভিন্ন ফসলের চারা সরবারহ করতে ৭৫ একর জমিতে সরকারিভাবে বীজতলা করা হচ্ছে৷ এছাড়া কৃষকদের নিজস্ব জমিতে বীজ ও সার দিয়ে বীজতলা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে৷ এর বাইরে আড়াই হাজার ভাসমান বীজতলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটউট বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকদের করণীয় নিয়ে সম্প্রতি একগুচ্ছ পরামর্শ রেখেছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, কচুরিপানা ও মাটি দিয়ে কলার ভেলায় বীজতলা তৈরি, স্বল্প জীবনকালীন জাতের ধান যেমন- ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৭১ এবং ব্রি ধান৭৫ আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপন করা যাবে৷

এছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত আলোক সংবেদনশীল উফশী জাত যেমন- ব্রিআর৫, বিআর২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৪৬ জাতগুলো ১৫ আগস্টের মধ্যে বীজতলায় চারা উৎপাদন করে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বপন করা যাবে৷

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বন্যার সময় আমন ধানের বীজ মাঠে থাকায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়৷ তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ধানের বীজতলা করে দেওয়া হয়েছে৷

‘‘সবজি যা নষ্ট হয়েছে তানিয়ে কিছু করার নেই৷ তবে রবি মৌসুমে কৃষকদের আমরা পুষিয়ে দেব৷ মাসকালাই চাষের জন্য কৃষকদের বীজ দেওয়া হয়েছে৷ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ও সবজির বীজও দেওয়া হবে৷''

এবারের বন্যায় কৃষিতে যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সরকারের কাছ থেকে প্রণেদনা পাওয়ার পর কৃষকরা তা পুষিয়ে ফেলতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন কৃষিসচিব৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন