‘বডিপেইন্টিংয়ের ক্ষেত্রে লজ্জাশরম থাকলে চলবে না’ | অন্বেষণ | DW | 12.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

‘বডিপেইন্টিংয়ের ক্ষেত্রে লজ্জাশরম থাকলে চলবে না’

বডিপেইন্টিং বা ত্বকের উপর রংবেরংয়ের নক্সা আজ শিল্প হিসেবে বিশাল স্বীকৃতি পাচ্ছে৷ অস্ট্রিয়ায় বিশ্ব বডিপেইন্টিং উৎসবে বিশ্বের সেরা শিল্পীরা তাঁদের সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন৷

পর্দায় নয়, ত্বকের উপরেই শিল্পকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে৷ অস্ট্রিয়ার ক্লাগেনফুয়র্টে বিশ্ব বডিপেন্টিং উৎসবে প্রায় ৫০টি দেশের শিল্পী উপস্থিত হয়েছেন৷

রাশিয়ার শিল্পী ইয়াকেটেরিনা মিখাইলিনা-মিলোভানোভা নিজের দেশে বডিপেন্টিং প্রতিযোগিতায় প্রথম ৬টি স্থান দখল করেছেন৷ এখানে তিনি ‘স্পেশাল এফেক্টস' বিভাগে নাম লিখিয়েছেন৷ এ ক্ষেত্রে ত্বকের উপর ল্যাটেক্স বা সিলিকনের মতো উপকরণ দিয়েও নক্সা করার অনুমতি রয়েছে৷ ইয়াকেটেরিনা বলেন, ‘‘বেশ দ্রুত কাজ করা যায় বলে আমি খুশি৷ আইডিয়াগুলি বাস্তব করে তুলতে পারি৷  নানা সাজসরঞ্জাম ও অলংকরণের সমন্বয়ে বডিপেন্টিং করতে পারি৷ নিখুঁত রেখা টানতে হাত স্থির রাখতে হয় ও ভালো করে চিন্তা করতে হয়৷ রং নিয়েও ভালোভাবে কাজ করার ক্ষমতা থাকতে হবে৷''

শিল্প হিসেবে বডিপেন্টিং স্থায়ী হয় না৷ বিশেষ করে বৃষ্টি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো৷ কারণ পানিতে রং ধুইয়ে যায়৷ শরীরে রং করার পর সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে৷ কিন্তু কাজ শেষ হতে অনেক সময় লাগে৷ মডেলের গায়ে রং করার আগে বাসায় সাত ঘণ্টা ধরে অনেক প্রস্তুতি লাগে৷

রাশিয়ার এই শিল্পী ও তাঁর মডেল ইয়েভগেনিয়া এক্সিনা প্রায় ছয় বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছেন৷ বডিপেন্টিং-এর ক্ষেত্রে লজ্জাশরম থাকলে চলবে না৷ সেইসঙ্গে চাই অসীম ধৈর্য্য ও দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা৷ ইয়েভগেনিয়া বলেন, ‘‘আমার পা অবশ হয়ে যাচ্ছে৷ দুই দিক থেকে আমার পা রং করার সময়ে আমাকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়৷ তখন উসখুস করি৷ কখনো তারা নালিশ করে৷ আমি তাদের বলি, একটু অপেক্ষা করো, আমার শরীর একটু ঢিলা করতে দাও৷''

এখানে ছয়টি ভিন্ন বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের সম্মান দেওয়া হয়৷ যেমন ‘তুলি ও স্পঞ্জ' অথবা ‘এয়ারব্রাশ'-এর মতো কায়দা৷

প্রতিযোগিতা উৎসবের একটা অংশমাত্র৷ রংয়ের বাহার, অভিনব মোটিফ ও ইনস্টলেশন শিল্প প্রতি বছর ত্রিশ হাজারেরও বেশি দর্শক আকর্ষণ করে৷ কেউ বলেন,  রংয়ের বাহার অসাধারণ৷ মডেলদের মাথায় সজ্জাসহ অন্যান্য আইডিয়া নিয়ে যা করা হয়, তা যেন রূপকথার মতো৷ কারো মতে, শুধু রং দিয়ে শরীর কীভাবে বদলে ফেলা যায়, কৃত্রিম অঙ্গ দিয়ে শিল্প সত্যি বিস্ময়কর৷

১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বের সেরা বডিপেন্টাররা ক্যারিন্থিয়া অঞ্চলের এই উৎসবে আসছেন৷ ইয়াকেটেরিনা এই নিয়ে পাঁচবার এখানে এলেন৷ একাধিক বিভাগে তিনি প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন৷ তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভাগ রয়েছে, অন্য কোনো উৎসবে এমনটা নেই৷ একমাত্র সমস্যা হলো, সবকিছু বয়ে নিয়ে আসা৷ এবার আমাদের মস্কো থেকে গাড়ি চালিয়ে আসতে হয়েছে৷ সাধারণত বিমানে করে আসি৷ কিন্তু বিমানে এত জিনিসপত্র, সাজসরঞ্জাম নিয়ে আসা সম্ভব নয়৷''

মেক্সিকোর মায়া সভ্যতা থেকে প্রেরণা নিয়ে কল্পনার এই জীব সৃষ্টি করে এবারের প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান দখল করলেন তিনি৷ এবার দ্রুত সেই সৃষ্টিকর্ম ক্যামেরাবন্দি করতে হবে৷ কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রং ধুয়ে ফেলতে হয়৷

ইয়ানিনা সেমেনোভা/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন