বড়দের ধরাধরি খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে | অন্বেষণ | DW | 05.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বড়দের ধরাধরি খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে

ছোটবেলায় চোর-পুলিশ বা লুকোচুরি কে না খেলেছে! কিন্তু শিশুদের বদলে পূর্ণবয়স্ক অ্যাথলিটরা পরস্পরকে ধরার চেষ্টা করলে কেমন দেখায়? ব্রিটেনে ঠিক এমনই এক খেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷ এমনকি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হচ্ছে৷

Vorschaubild für Euromaxx | Chase Tag

ফাইল ছবি

তথাকথিত ‘চেজ ট্যাগ’ আসলে খুবই সহজ খেলা৷ কিন্তু এই খেলায় পূর্ণবয়স্ক মানুষ একে অপরকে ধরার চেষ্টা করে৷ যেমন জার্মানির এনিস মাসলিচ৷ তিনি বলেন, ‘‘একেবারে অন্য পর্যায়ে পেশাদারী অ্যাথলিটদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলার মতো৷ গতি অনেক বেশি হওয়ায় উত্তেজনাও বেড়ে যায়৷’’

‘চেজ ট্যাগ’-এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে৷ ২০১৬ সালে লন্ডনে প্রথম বিশ্বকাপের আসর বসে৷ বেশ কয়েকটি রাউন্ডে টিমগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় নেমেছিল৷ প্রত্যেক রাউন্ডের জন্য ২০ সেকেন্ড সময় ধার্য করা হয়৷ একটি টিম ‘চেজার', অন্য টিম ‘ইভেডার' মাঠে নামায়৷ ‘ইভেডার’-কে ধরতে না পেলে তার টিম এক পয়েন্ট পায়৷ সর্বোচ্চ ১৬টি রাউন্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেলে কোনো টিমের জয় হয়৷ লন্ডনে এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে জার্মানি থেকে ছয় জনের এক টিম যোগ্যতা অর্জন করেছে৷

তাঁরা নিজেদের ‘আশিগারু’ নামে ডাকেন৷ বিভিন্ন শো বা চলচ্চিত্র প্রকল্পে ‘ফ্রিরানার’ ও ‘পারকুর রানার’-এর প্রয়োজন হলেই তাঁরা হাজির হন৷ জার্মান টিমের সদস্য আন্দ্রেয়াস ভ্যোলে জানান যে, ‘চেজ ট্যাগ' আসলে শহুরে ‘অবস্ট্যাকল রেস' থেকেই জন্ম নিয়েছে৷ ‘আশিগারু’ টিমের সদস্য আন্দ্রেয়াস ভ্যোলে বলেন, ‘‘বাধা অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা থাকলেই এই খেলায় অংশ নেওয়া সম্ভব৷ অর্থাৎ দ্রুত নাড়াচাড়া ও কৌশল জানতে হবে৷ পারকুর অ্যাথলিট হিসেবে আমরা সবাই এই খেলার জন্য একেবারে নিখুঁত৷’’

২০১১ সালে ব্রিটেনের ক্রিস্চেন ও ডেমিয়েন ডেভো ‘চেজ ট্যাগ' খেলাটি সৃষ্টি করেন৷ বাসার বাগানে নিজেদের সন্তানের সঙ্গে ‘চোর-পুলিশ' খেলার সময় তাঁদের মাথায় এই আইডিয়া আসে৷ ওয়ার্ল্ড চেজ ট্যাগের আবিষ্কারক হিসেবে তাঁরা বলেন, ‘‘আমাদের কিছু মাচা রয়েছে৷ কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা ও কোর্টের ডিজাইন করে কয়েক বছর ধরে খেলাটি সৃষ্টি করি৷ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আমরা প্রথম ইভেন্ট আয়োজন করি৷ প্রথম ভিডিওগুলি প্রকাশ করতেই ভাইরাল হয়ে যায়৷ তারপর থেকেই বিবর্তন চলছে৷ প্রত্যেক প্রতিযোগিতাই আগেরটির তুলনায় বড় হয়ে উঠছে৷ আরও ভালো অ্যাথলিট আসছেন৷ আজ আমরা এখানে এসে পৌঁছেছি৷’’ 

এই খেলার অনুরাগীর সংখ্যা সত্যি বাড়ছে৷ দুই ভাইয়ের ইউটিউব চ্যানেলে প্রত্যেক ভিডিও তিন কোটি ষাট লাখ পর্যন্ত ক্লিক পাচ্ছে৷ প্রায় সাত লাখ মানুষ চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেছেন৷ এর মধ্যে গোটা বিশ্বে তাঁরা প্রতিযোগিতা আয়োজন করছেন৷ লন্ডনে একটি প্রতিযোগিতায় আটটি টিম অংশ নিচ্ছে৷ ব্রিটেন, স্পেন, ফ্রান্স থেকে অংশগ্রহণকারীরা এসেছেন৷

মূল লড়াই শুরু হবার আগে জার্মান টিম ভালভাবে অঙ্গনটি দেখে নিয়ে সম্ভাব্য বাধাগুলি আগেভাগে বুঝে নেবার চেষ্টা করছে৷ ‘আশিগারু' টিমের সদস্য আন্দ্রেয়াস ভ্যোলে বলেন, ‘‘যে কোনো সময় কিছু একটা ঘটে যেতে পারে৷ প্রতিদ্বন্দ্বীকে দ্রুত ধরতে গেলেও কিছু হতে পারে৷ হাত হয়তো ঠিক জায়গায় থাকলো না৷ হাত হয়তো শরীরের নীচে থাকার কারণে সব গোলমাল হয়ে গেল৷ গত বছর সবকিছু ঠিক ছিল৷ এ বছরও নিশ্চয় তাই হবে৷’’

লড়াই শুরু হলেই খেলা জমে ওঠে৷ ‘আশিগারু’ প্রথম ম্যাচে ব্রিটেনের ‘ব্রিচ’ টিমের মুখোমুখি হচ্ছে৷ ব্রিটিশরা দ্রুত আধিপত্য বিস্তার করে ফেললো৷ প্রতিপক্ষ একবার পড়ে যাওয়া সত্ত্বেও ‘আশিগারু' শেষরক্ষা করতে পারলো না৷ প্রাথমিক রাউন্ডেই তাদের বিদায় নিতে হলো৷ তবে তা সত্ত্বেও জার্মান টিমের মার্ক বুশ চিন্তিত নন৷ ‘আশিগারু' টিমের সদস্য মার্ক বুশ বলেন, ‘‘আমরা সম্ভবত আবার পথে নেমে খেলতে থাকবো, আরও অনুশীলন করবো, আনন্দ উপভোগ করবো৷ এক বছর পর আবার আমন্ত্রণ পেলেই চলে যাবো৷ আগের মতোই সবকিছু করবো৷ ভুললে চলবে না, এটা একটা খেলামাত্র৷’’

এ যাত্রায় ফ্রান্সের জয় হয়েছে৷ তবে হারজিত নয়, এমন চোর-পুলিশ খেলায় মজাই হলো আসল বিষয়৷

ক্রিস্টিয়ান ভাইবেসান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন