বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে ফেরত আনায় অগ্রগতি | বিশ্ব | DW | 15.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে ফেরত আনায় অগ্রগতি

সপরিবারের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জন আসামি এখনো দেশের বাইরে পলাতক৷ এদের মধ্যে দু'জনকে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷

আনিসুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ফেরত আনার আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্সেরও প্রধান৷ তিনি জানান, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যানাডায় দু'জন পলাতক আসামির ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হয়েছি৷ তাদের ফেরত আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে৷ শুধু কিছু আইনগত জটিলতা আছে৷ তবে বাকি চারজন কোথায় আছে আমরা তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি৷''

জানা গেছে, এদের মধ্যে ক্যানাডায় নূর চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাশেদ চৌধুরী অবস্থান করছেন৷ মন্ত্রী জানান, ‘‘ক্যানাডার সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রও ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে৷'' বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাশেদ চৌধুরি ১৯৬৯ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন৷ পরে ১৯৭৬ সালে জেদ্দায় কূটনীতিক হিসেবে যোগদান করেন৷ তারও পরে তিনি নাইরোবি, টোকিও, কুয়ালালামপুর ও ব্রাসিলিয়াতে বাংলাদেশ মিশনে কাজ করেন৷

অডিও শুনুন 02:41
এখন লাইভ
02:41 মিনিট

‘এ মুহূর্তে আসামি নূর চৌধুরী ক্যানাডার কিটোবিকো শহরে অবস্থান করছেন’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময়ে তিনি ব্রাসিলিয়াতে কর্মরত ছিলেন৷ ঐ বছরের জুলাই মাসে তাকে ঢাকায় ফেরত আসার নির্দেশ দেয়া হয়৷ কিন্তু তিনি দেশে ফিরে না এসে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান৷ আজও তিনি সেখানেই আছেন৷

২০১৪ সালে দু'দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ তাকে ফেরত চায়৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি ২০১৫ সালে রাশেদ চৌধুরীতে ফেরত দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে অনুরোধ জানান৷ ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এপ্রিল মাসে  বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন৷ জানা গেছে, সম্প্রতি জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট রাশেদ চৌধুরিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে৷ নূর চৌধুরীও ব্রাসিলিয়াতে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত ছিলেন৷ ১৯৯৬ সালে তাকেও দেশে ফেরত আসার নির্দেশ দেয়া হলে তিনি ক্যানাডাতে পালিয়ে যান৷

২০০৭ সালে ক্যানাডার সর্বোচ্চ আদালত নূর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেন৷  নূর চৌধুরী এখন প্রি রিস্ক রিমুভাল এসেসমেন্ট বিধির আওতায় ক্যানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে আবেদনের সুযোগ নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছেন৷

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যানাডা সফরে গিয়ে ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে নূর চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা করেন৷ তাকে ফেরত দেয়ার বিষয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের জন্য আলোচনা শুরু করতেও রাজি হয় ক্যানাডা৷

 নূর চৌধরীর ব্যাপারেঅনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশেনের সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল রাফি৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, এ মুহূর্তে নূর চৌধুরী ক্যানাডার টরেন্টো থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কিটোবিকো নামে একটি শহরে অবস্থান করছেন৷ তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়েই সেখানে আছেন৷ তবে তিনি বাইরে বের হন না৷''

রাফি জানান, ‘‘ঐ শহরে বাংলাদেশিদের বসবাস নেই বললেই চলে৷ একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে তিনি সেখানে আছেন৷ এর আগে বেশ কয়েকবার তিনি বাসা পরিবর্তন করেন৷''

বকি চারজন কেথায় আছেন, তা আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করতে না পরলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, শরীফুল হক ডালিমকে গত মার্চে স্পেনে দেখা গেছে৷ তার কেনিয়া এবং জিম্বাবোয়েতে ব্যবসা আছে বলে খবর৷ বাংলাদেশ গত বছরের শেষ দিকে পাকিস্তান সরকারকে দেয়া এক চিঠিতে জানতে চায় ডালিম পাকিস্তানের কোথায় আছে? প্রশ্নটির জবাব দেয়নি পাকিস্তান৷ বাংলাদেশ সরকারের ধারণা, ডালিম পাকিস্তানেই স্থায়ীভাবে থাকেন৷

অডিও শুনুন 00:34
এখন লাইভ
00:34 মিনিট

‘আমরা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সবাইকেই ফেরত আনার চেষ্টা করছি'

রিসালদার মোসলেহউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর সরকার এখন ধারণা করছে সে এখন জার্মানিতে আছে৷ গত বছর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জার্মান সরকারকে এ নিয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়৷ জার্মানি এ বিষয়ে আরো তথ্য জানতে চেয়েছে এবং জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছে৷

খন্দকার আব্দুর রশীদকে সর্বশেষ পাকিস্তানে দেখা গেছে বলে বাংলাদেশের কাছে তথ্য রয়েছে৷ এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে পাকিস্তানকে একটি চিঠি দেওয়া হয় গত ডিসেম্বরে৷ পাকিস্তান সরকার অবশ্য এখনো কোনো জবাব দেয়নি৷ এছাড়া আব্দুল মাজেদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই সরকারের কোনো সংস্থার কাছে৷

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়৷ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায়ে ২০০৯ সালে৷ তাতে মোট ১২ জনকে মৃত্যুদনণ্ডের আদেশ দেয়া হয়৷ এরপর ২০১০ সালে আটক পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়৷ বাকি সাতজনের মধ্যে আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবোয়েতে মারা যান৷ তারপর থেকেই এই ছয়জনকে সরকার দেশে ফেরত আনার চেষ্ঠা চলছে৷

আইনমন্ত্রী জানান, ‘‘আমরা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সবাইকেই ফেরত আনার চেষ্টা করছি৷ আমাদের কাজে অগ্রগতি আছে৷''

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন টাস্কফোর্সেরই দায়িত্ব তাদের ফেরত আনা৷ আর এখন তারা সেই চেষ্টাই করছেন৷''

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের কি আদৌ ফিরিযে আনা সম্ভব হবে? মন্তব্য জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়