বই স্ক্যান করবে পুলিশ, লেখক-প্রকাশকদের ভিন্নমত | বিশ্ব | DW | 03.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বই স্ক্যান করবে পুলিশ, লেখক-প্রকাশকদের ভিন্নমত

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা৷ তবে পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন বই স্ক্যান করবে ঘোষণা দেয়ায় লেখক, প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷

লেখকরা খুব বেশি সমালোচনা না করলেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন৷ তাদের মতে, মেলা শুরুর আগে অনেকেই অনেক কথা বলেন৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়৷ তবে লেখক ও প্রকাশকদের সচেতন থাকার আহবানও তাদের৷

অডিও শুনুন 00:41

‘অযথা ঝামেলা তৈরি না করাই ভালো’

পুলিশের নজরদারি করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে দেশ পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী অচিন্ত চয়ন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা বাক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি৷ এটা মুক্তচিন্তার চর্চার ক্ষেত্রেও বড় অন্তরায়৷'' তাঁর মতে, ‘‘এখানে লেখক ও প্রকাশক সবাই সচেতন৷ আর পুলিশের পক্ষে এত বড় আয়োজনের প্রতিটি বই পড়ে দেখাও সম্ভব নয়৷ 

লেখক সুমন্ত আসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ সতর্কতার কারণে হয়ত এটা বলেছে৷ এটা নিয়ে এত আলোচনার কিছু নেই৷'' অপর লেখক আহসান হাবীবও মনে করেন, ‘‘এটা নিয়ে আলোচনা করলে আলোচনা বাড়বে৷ যেটা কখনই সম্ভব নয় সেটা নিয়ে আলোচনা করে অযথা ঝামেলা তৈরি না করাই ভালো৷''

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ কেন বলেছে, সেটা আমরা জানি, এ নিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে আলোচনাই বাড়বে৷ আমাদের উচিত মেলার ভালো দিকগুলো তুলে ধরে সুন্দর মেলাকে সফল করে তোলা৷''

অডিও শুনুন 01:45

‘আমরা লেখকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি’

তবে অনেক লেখকই মনে করেন, ‘‘বইয়ের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ দেওয়ায় মুক্তচিন্তার ওপর প্রভাব পড়বে৷ তাদের মতে, এটা লেখক ও প্রকাশকদের শৃঙ্খলিত করারই নামান্তর৷

প্রসঙ্গত, বইমেলা শুরুর আগের দিন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো বই কেউ প্রকাশ করছে কিনা, সেটা অনুসন্ধান করে দেখবে পুলিশ৷ কোনো বই ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করছে খবর পেলে সেই বই জব্দ করা হবে৷ তাছাড়া যারা সেই বই প্রকাশ করবেন ও বিক্রি করবেন তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ৷'' 

যদিও বাংলা একাডেমি বলছে, তারা লেখক-প্রকাশকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে৷ বাংলা একাডেমির বই কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ওটা পুলিশের কথা৷ বাংলা একাডেমির প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে, আমাদের তথ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন নতুন বই আসে৷

অডিও শুনুন 01:01

‘এটা নিয়ে এত আলোচনার কিছু নেই’

সেগুলো আমাদের কর্মীরা বইয়ের ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করেন৷ এরপর সেসব বইয়ের প্রচার হয়৷ এখানে বই পড়ে দেখার কথা আমাদের নীতিমালায় নেই৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের একটা কমিটি আছে, যার কাজ হলো গ্রন্থমেলার নীতিমালা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না তা দেখাশোনা করা৷ তাতে বাংলা একাডেমি, প্রকাশক, পুলিশ, কপিরাইট ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকে৷ তারা পুরো মেলা পরিদর্শন করেন৷ কোনো অভিযোগ আসলে দেখেন৷''

জালাল আহমেদের আরো বলেন, ‘‘যদি নীতিমালা পরিপন্থি বই, পাইরেটেড বা নোট বই থাকে সেগুলো ওই কমিটি দেখে৷ প্রয়োজন বোধ করলে কমিটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে৷ সেই সুপারিশ অনুযায়ী বাংলা একাডেমি ব্যবস্থা নেয়, প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেয়৷

অডিও শুনুন 01:10

‘এটা বাক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি’

‘‘আমরা লেখকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি৷ সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাস করি৷ এখানে এমন কিছু হবে না যাতে লেখকের স্বাধীনতা খর্ব হয়৷''

উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বইয়ের বিষয়ে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ৷ বিশেষ করে ২০১৫ সালে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়, এবং তাঁর বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের পরের বছর থেকে সংবেদনশীল বিষয়ের কিছু বই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় মেলা কর্তৃপক্ষ৷ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বই প্রকাশ না করতে লেখক ও প্রকাশকদের সতর্কও করে দেওয়া হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন