বইমেলা ছড়িয়ে পড়ুক | আলাপ | DW | 29.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বইমেলা ছড়িয়ে পড়ুক

অমর একুশে গ্রন্থমেলা অন্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে দিতে চান প্রকাশকরা৷ তাঁরা মনে করেন, বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বইয়ের মান বাড়ানো জরুরি৷ বাংলা একাডেমি মনে করে, আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মেলা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে৷

এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে সাড়ে চারশ' প্রকাশনা সংস্থা আর স্টল-প্যাভিলিয়নের সংখ্যা সাড়ে সাতশ'৷ মেলার পরিসর বেড়ে হয়েছে সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুট৷ শুধু বইয়ের মেলা নয়, আরো আছে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, আলোচনাসভাসহ নানা আয়োজন৷ প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আর লেখক-পাঠকের আড্ডা তো আছেই৷ বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে এই মেলার বিস্তৃতি৷

মেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এবার মেলার আয়তন বেড়েছে, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা বেড়েছে এবং স্টলও বেড়েছে৷ এবার নতুন ১২টি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো প্যাভিলিয়ন পাচ্ছে৷ মোট প্যাভিলিয়ন দেয়া হয়েছে ২৩টি, যার মধ্যে বাংলা একাডেমির দু'টি৷''

এর আগে মেলা শুরুর দিন থেকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন শুরু হলেও এবার হবে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে৷ তিন দিনের এ সম্মেলন চলবে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷ জালাল আহমেদ আরো জানান, ‘‘২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশের বাইরে থেকে অনেক লোক আসেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা৷''

এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের শতাধিক সাহিত্যিক যোগ দেবেন৷ ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, যুক্তরাজ্য, জাপান ও আফগানিস্তানসহ আরো কয়েকটি দেশের সাহিত্যিকরা এই সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন৷ মেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, ‘‘বইমেলা আসলে একটি বড় ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন৷ বইয়ের সঙ্গে আছে আরো অনেক কিছু৷ শিশুদের জন্য নানা প্রতিযোগিতা৷ আর মেলা শুরুর প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী বাংলা একডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেন৷''

বাড়ছে বই, বাড়ছে বিক্রি

গতবছর (২০১৭) বইমেলায় মোট ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে৷ মেলায় মোট নতুন বই এসেছিল ৩ হাজার ৬৪৬টি৷ ২০১৬ সালে বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৩ হাজার ৪৪৪টি৷ মোট বিক্রি হয়েছে ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই৷ ২০১৫ ও ২০১৪ সালের বইমেলায় মোট বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ২১ কোটি ৯৫ লাখ ও ১৬ কোটি টাকার বই৷ দেখা যায়, প্রতিবছরই বই মেলার পরিসর যেমন বাড়ে, প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও বাড়ছে৷ একই সঙ্গে বাড়ছে বই বিক্রি৷

আগামী প্রকাশনীর কর্ণধার ওসমান গনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত বছর প্রায় চার হাজার নতুন বই প্রকাশ হয়েছে বইমেলায়৷ এবার আশা করছি আরো বাড়বে এবং তা সাড়ে চার হাজার হতে পারে৷ বইমেলাকে কেন্দ্র করেই মূলত বাংলাদেশে সৃজনশীল বই প্রকাশ হয়৷ এবং তার সংখ্যা ৯০ ভাগেরও বেশি৷ বইমেলার এক মাসে বই প্রকাশ হয় চার হাজার আর সারা বছরে হয় পাঁচশ'৷ তাই সহজেই বোঝা যায়, বইমেলা নতুন বই প্রকাশের জন্য কতটা গরুত্বপূর্ণ৷'' তবে তিনি মনে করেন, ‘‘বইয়ের সংখ্যা বাড়াই যথেষ্ট নয়, এর মান বাড়াও জরুরি৷ এ জন্য প্রকাশকদের পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে৷ মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করতে সরকারকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দিতে হবে৷ বইমেলায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের ৩০ ভাগ নবীন লেখকদের৷ সরকার উদ্যোগ নিলে প্রতিভাবান তরুণ লেখকদের বই আরো বাড়বে৷''

অডিও শুনুন 04:31
এখন লাইভ
04:31 মিনিট

‘বইমেলা আসলে একটি বড় ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন’

যেভাবে এলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা

কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক থাকাকালে ১৯৮৩ সালে একাডেমিতে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা'-র আয়োজনের উদ্যোগ নেন৷ কিন্তু স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের সামনে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলে ট্রাক তুলে দিলে দু'জন ছাত্র নিহত হন এবং তারপর সেই বছর আর বইমেলা হয়নি৷ ১৯৮৪ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়৷

২০১৪ সাল থেকে এই বইমেলা বর্ধমান হাউজ থেকে সম্প্রসারিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিস্তৃত হয়৷ এখন প্রকাশকদের স্টলগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই স্থান দেয়া হয়েছে৷ আর বর্ধমান হাউজ এলাকায় লিটল ম্যাগ, মিডিয়া এবং বাংলা একাডেমিসহ অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়৷

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ‘বইমেলার ইতিহাস ও নতুন আঙ্গিকে বইমেলা' শিরোনামে এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘‘১৯৮৪ সালের আগেও এই বইমেলার কিছু ধারাবাহিকতা আছে৷ ১৯৬৫ সালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তখনকার পরিচালক কথাসাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীন তখনকার পাবলিক লাইব্রেরিতে (এখন ঢাকা বিশ্বদ্যালয় লাইব্রেরি) শিশু গ্রন্থমেলার আয়োজন করেছিলেন, যাকে ঢাকার প্রথম বইমেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ এরপর ১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে একটি গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়৷ আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ উপলক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে প্রথম একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলারও আয়োজন করা হয়েছিল৷''

অডিও শুনুন 06:14
এখন লাইভ
06:14 মিনিট

‘মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করতে সরকারকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দিতে হবে’

শামসুজ্জামান খান লিখেছেন, ‘‘ওই বছর বাংলা একাডেমির দেয়ালের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্সের রুহুল আমিন নিজামী তৎকালীন সোভিয়েট ইউনিয়নের প্রগতি প্রকাশনীর কিছু বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন৷ তাঁর দেখাদেখি মুক্তধারা প্রকাশনীর চিত্তরঞ্জন সাহা এবং বর্ণমিছিলের তাজুল ইসলামও ওভাবেই তাঁদের বই নিয়ে বসে যান৷ ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই মেলার উদ্বোধন করেন৷ সে উপলক্ষ্যে নিজামী, চিত্তবাবু এবং বর্ণমিছিলসহ সাত-আটজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়ালঘেঁষে বই সাজিয়ে বসে যান৷''

ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে...

সাধারণভাবে বইমেলা হয় প্রকাশকদের৷ কিন্তু বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি৷ মেলার সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, ‘‘এই বইমেলা আমাদের ভাষা শহিদ, আমাদের স্বাধীনতা এবং আমাদের ঐতিহ্যের অংশ৷ বইমেলার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের ভাষা ও সাহিত্যকে তুলে ধরি৷ এই মেলার মাধ্যমে নতুন সাহিত্যিক এবং পাঠক সৃষ্টি হয়৷''

ওসমান গনি বলেন, ‘‘আমাদের বইমেলাকে ভিন্নভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে নেয়ার সুযোগ আছে৷ একটি প্রকল্প করে যদি প্রতিবছর কমপক্ষে ৪০টি বইও ইংরেজিতে অনুবাদ করা যায়, তাহলে আমাদের ভাষা ও সাহিত্য বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা প্রকাশকরা চাই বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক৷ এই সময়ে দেশের জেলা ও বিভাগীয় শহরেও অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হোক৷''

এবারও বইমেলায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মেলায় প্রবেশের শৃঙ্খলার বিষয়টিও৷ জালাল আহমেদ বলেন, ‘‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের প্রাণের বইমেলা৷ আমরা চাইনা, বইমেলায় প্রাণের কোনো ঘটতি থাকুক৷''

আপনার কোনো মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন