ফ্রান্সে পরমাণু বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 30.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ফ্রান্সে পরমাণু বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ

পরমাণু বিদ্যুতের সম্ভাবনা ও বিপদ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই৷ বিশেষ করে সেই প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথাব্যথা কম নয়৷ ফ্রান্সের এক কেন্দ্রে সেই পদার্থ পুনর্ব্যবহার করা হয়৷

ব্যবহারের পর জলাধারের মধ্যে বিশেষ কন্টেনারে পরমাণু জ্বালানী শীতল অবস্থায় রাখতে হয়৷ কারণ সেই পদার্থ তখনও তেজস্ক্রিয় থাকে৷ হয় অনন্তকালের জন্য সেটি নিরাপদে জমা রাখতে হয়, অথবা নতুন করে প্রক্রিয়াজাত করে পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে হয়৷

লা আগ-এ পরমাণু রিসাইক্লিং ও রিপ্রসেসিং প্লান্টে সেই কাজই করা হয়৷ ফ্রান্সের উত্তর পশ্চিম উপকূলে এই কেন্দ্রে প্রায় ৩,০০০ মানুষ কাজ করেন৷ গোটা বিশ্বে মাত্র ৩টি এমন কেন্দ্র রয়েছে৷

ফাব্রিস ডার্ভে ও অন্যান্য ইঞ্জিনিয়াররা বছরে প্রায় ১,২০০ টন পরিমাণ ব্যবহৃত জ্বালানী রড প্রক্রিয়াজাত করেন৷ সবার আগে একটি জায়গায় সেগুলি খোলা হয়৷ এই প্লান্টে যথেষ্ট মুনাফা হয়৷ ব্যবসা ভালই চলছে৷ এমনকি আবার প্রবৃদ্ধিও ঘটছে৷ ফাব্রিস ডার্ভে এ বিষয়ে বলেন, ‘‘চীনের মতো দেশ আরও পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে চায়৷ ফ্রান্সও এই শিল্পক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে৷ ফুকুশিমা বিপর্যয় সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানও নতুন প্লান্ট গড়তে চাইছে৷ অনেক দেশই পরমাণু বিদ্যুত উৎপাদন করতে আগ্রহী৷’’

প্রায় ৩ বছর ধরে জলাধারে রাখার পর রডগুলি শীতল হয়৷ ফ্রান্স, জার্মানি – এমনকি সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকেও সেগুলি এখানে আনা হয়৷ যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রডগুলির ছোট টুকরো করা হয়৷ প্লান্টের যে অংশে রিসাইক্লিং ঘটে, সেখানে ছবি তোলার অনুমতি নেই৷ প্রক্রিয়াজাতকরণের শেষে যে তিনটি পণ্য তৈরি হয়, সরবরাহকারীদের তা আবার কিনে নিতে হয়৷

এর মধ্যে ৪ শতাংশ অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, যা গলিয়ে কাচের মধ্যে ঢালা হয়৷ নিরাপদ এক স্থানে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে সেগুলি মজুত করা হয়৷ এক শতাংশ প্লুটোনিয়াম পাওয়া যায়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে লাগে৷ বাকি ৯৫ শতাংশ ইউরেনিয়াম৷ সেটিও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কাজে লাগানো যায় বটে, কিন্তু তার আগে সেটি সমৃদ্ধ করতে হয়৷ ফাব্রিস ডার্ভে জানান, যে সেখানে রিসাইকেল করা ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে ফ্রান্সের ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়৷

তবে লা আগ পরিবেশ দূষণ করছে বলে গ্রিনপিসের মতো পরিবেশবাদী সংগঠন মনে করিয়ে দিচ্ছে৷ প্রতিদিন সেখান থেকে প্রায় ১০ লক্ষ লিটার পানি ইংলিশ চ্যানেলে ছাড়া হয়৷ তরলীকরণের ফলে সেটি কম বিপজ্জনক হয়ে পড়ে৷ লা আগ প্লান্টের দাবি অনুযায়ী তাতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকে৷

এখানকার মানুষ এখনো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন৷ এলাকার পানি থেকে তোলা মাছ খেয়ে শরীরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রবেশ করছে বলে তাঁদের মনে আশঙ্কা রয়েছে৷ কেউ মনে করেন, তেজস্ক্রিয়তা প্রাণী ও মানুষের জন্য ভালো নয়৷ অনেকেই পরমাণু বিদ্যুৎ ত্যাগ করার পক্ষে৷ একজন জানালেন, ‘‘বিদ্যুতের জন্য আমাদের বিকল্প উৎসের প্রয়োজন, যাতে কোনো এক সময়ে পরমাণু বিদ্যুৎ ত্যাগ করা যায়৷ কিন্তু বর্তমানে ফ্রান্সে তা নেই৷ জার্মানরা আমাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে৷’’

ফ্রান্সের বিদ্যুতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরমাণু কেন্দ্র থেকে আসে৷ অনেক দশক ধরে পরমাণু বিদ্যুতের আধিপত্য বজায় থাকবে৷ অর্থাৎ লা আগ-এ তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কমানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেতে হবে৷

উটে শ্নাইডার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন