ফ্রাংকফুর্টে অপ্রস্তুত ভারত | বিশ্ব | DW | 15.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ফ্রাংকফুর্টে অপ্রস্তুত ভারত

এই বছর ফ্রাংকফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলায় ভারতের ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট-এর অংশগ্রহণের ২৫ বছর পূর্তি ছিল৷ কিন্তু শূন্যই পড়ে থাকল এনবিটি'র প্যাভেলিয়ন৷

ফ্রাংকফুর্ট বুখ মেসে, অর্থাৎ বইমেলা সারা বিশ্বের সমস্ত বইমেলার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ৷ এই মেলায় সরাসরি বই কেনাবেচা না হলেও হয় বইয়ের সত্ত্ব কেনাবেচা, এবং সেটাও আন্তর্জাতিক স্তরে৷ ফলে দুনিয়ার তাবড় প্রকাশক এবং লেখকদেরও নজর থাকে এই মেলায় জায়গা পাওয়ার, আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের সামনে নিজেদের বছরের সেরা কাজ তুলে ধরার৷ আর বড় প্রকাশকরা খোঁজে থাকেন, বিশ্বের কোথায় অন্যান্য ভাষায় কী গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে৷ সেই নিরিখে, এই মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তা হেলায় হারানো, নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারার এক বেনজির কীর্তি স্থাপন করে ফেলল ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রকাশন সংস্থা ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট৷ ফ্রাংকফুর্ট বইমেলায় এনবিটি'র নিজস্ব স্টল তৈরি হলেও তা খালি পড়ে রইল, স্রেফ ভারত সরকার কাউকে পাঠিয়ে উঠতে পারল না বলে৷ পরিস্থিতি রীতিমতো অস্বস্তিকর এবং লজ্জাজনক দেখে ফ্রাংকফুর্টে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় কিছু লোককে ভাড়া করে পাঠানো হয়েছিল এনবিটি'র স্টল সামলানোর জন্য৷ কিন্তু তাঁরা যেহেতু বই এবং প্রকাশনা সম্পর্কে নেহাতই অজ্ঞ, এবং ভারতীয় বইয়ের গ্রন্থসত্ত্ব সম্পর্কেও তাঁদের কোনো ধারণা থাকার কথা নয়, শেষ পর্যন্ত মুখরক্ষা হয়নি৷ উৎসাহী প্রকাশকদের প্রায় কোনো প্রশ্নেরই তাঁরা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি৷ এবং শুধু এনবিটি-ই নয়, সাহিত্য অ্যাকাডেমির স্টলের জন্য বরাদ্দ জায়গাটিও ফ্রাংকফুর্ট মেলায় খালি পড়ে রইল, বই ছাড়া, এমনকি সাহিত্য অ্যাকাডেমির ব্যানার ছাড়া, সেই একই কারণে৷ কোনো লোক নেই৷

ভারত সরকার ফ্রাংকফুর্টে কাউকে পাঠাতে না পারার কারণটি রীতিমতো উদ্বেগজনক৷ সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র তৈরি করে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে কেউ ফ্রাংকফুর্ট যেতে পারেনি৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ফ্রাংকফুর্ট বইমেলা যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার মেনে হয়, এক বছর আগেই পরবর্তী মেলার দিনক্ষণ ঠিক হয়ে থাকে৷ সেটা ঘোষণাও করে দেওয়া হয় আগের বছরের মেলা শেষ হওয়ার আগেই৷ তা হলে গোটা একটা বছর যথেষ্ট হলো না লোক বাছাই করে তাঁদের কাগজপত্র তৈরি করার জন্য?‌ তখনই বেরিয়ে এসেছে আসল তথ্য যে, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থা ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের সভাপতি বলদেও ভাই শর্মা এবং ডিরেক্টর রীতা চৌধুরির মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের জেরে কাউকেই বাছাই করা হয়নি৷ যা জানা গেছে, বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন এনবিটি'র সভাপতি বলদেও শর্মা, আর প্রকাশকদের একটি আলোচনা চক্রে আমন্ত্রিত ছিলেন রীতা চৌধুরি৷ নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ সফরের জন্য সরকারি অনুমোদনের দরকার হয় আধিকারিকদের৷ মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক চৌধুরির ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে শর্মার ফ্রাংকফুর্ট সফরের আবেদনে সায় জানায়নি৷ এবার মাঝারি মাপের আধিকারিকদের বিদেশ সফরে মন্ত্রকের অনুমতি দরকার হয় না৷ কিন্তু রীতা চৌধুরি যে দুজনকে ফ্রাংকফুর্ট যাওয়ার জন্য মনোনীত করেছিলেন, তাঁদের যাওয়ার আবেদন পদাধিকার বলে মঞ্জুর করেননি শর্মা৷ বিকল্প কারো নামও তিনি প্রস্তাব করেননি৷ ফলে শেষ পর্যন্ত কেউই যেতে পারেননি ফ্রাংকফুর্টে এবং রীতা চৌধুরিও একা মেলায় না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন৷

এই ঘটনাটি হয়তো অজানাই থাকত, কিন্তু ফ্রাংকফুর্ট বইমেলায় ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট এবং সাহিত্য অ্যাকাডেমির শূন্য দুটি স্টলের ছবি একজন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায়৷ তবে এনবিটি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি যথারীতি প্রকাশ করেছে এই মেলা উপলক্ষে, যাতে জানানো হয়েছে, ভারতের ৪০টি প্রকাশকের মোট ৩০০টি বই এ বছরের ফ্রাংকফুর্ট মেলায় প্রদর্শিত হবে৷ এবার যে ফ্রাংকফুর্টে এনবিটির অংশগ্রহণের ২৫ বছর, সে কথাও সগৌরবে বিজ্ঞাপিত হয়েছে৷ কিন্তু কার্যত সেই গৌরব আদতে ধরে রাখার কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি, স্রেফ দুই সরকারি আধিকারিকের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন