ফ্যাশন ডিজাইনার যখন নাট্য পরিচালক | অন্বেষণ | DW | 21.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ফ্যাশন ডিজাইনার যখন নাট্য পরিচালক

প্যারিসের ফ্যাশন ডিজাইনারদের খ্যাতি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে৷ তাঁদেরই একজন এবার পরিচালক হিসেবে নিজের জীবনকাহিনি মঞ্চে নিয়ে এসেছেন৷ তিনি সেই গীতিনাট্যের মঞ্চসজ্জাও করেছেন৷

ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার জঁ পোল গোটিয়ে তাঁর বহুকালের এক স্বপ্ন পূরণ করেছেন৷ তাঁর লেখা প্রথম গীতিনাট্য মঞ্চস্থ হচ্ছে৷ শিশু বয়সেই তিনি ফোলি ব্যারশ্যার হলে নর্তকীদের দেখে মুগ্ধ হতেন৷ এবার ৬৬ বছর বয়সে তিনি নিজের ‘ফ্যাশন ফ্রিক শো' নিয়ে প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী ক্যাবারে সংগীত হলে হাজির হয়েছেন৷ গোটিয়ে বলেন, ‘‘নয় বছর বয়সে আমি প্রথম টেলিভিশনে সেই নর্তকীদের দেখি৷ ঝুলন্ত পালক ধরে তাঁরা কী সুন্দর নাচছিলেন৷ এমন নাচ শিশুদের উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও দাদী আমাকে দেখতে দিয়েছিলেন৷ তখনই সেটা অসাধারণ লেগেছিল, তাই পালক, পোশাক ও জালের মতো স্টকিং – সব কিছুর ছবি এঁকে ফেলেছিলাম৷ নিজের টেডিবেয়ারকে সেভাবে সাজিয়েছিলাম৷''

ভিডিও দেখুন 03:27

নিজের জীবনের গল্প নিজেই বলছেন তিনি

জঁ পোল গোটিয়ে'র জীবনকে ঘিরেই গীতিনাট্য সাজানো হয়েছে৷‘ নানা' নামের টেডিবেয়ার ছিল তাঁর প্রথম মডেল৷ মঞ্চেও তাকে দেখা যাচ্ছে৷ পরনে বিশেষ স্টাইলের বক্ষবন্ধনী, যা পরে সংগীতশিল্পী ম্যাডোনার সাহসি পোশাকের অংশ হয়ে উঠেছিল৷

গোটিয়ে'র বিখ্যাত যে কর্সেট সব ফ্যাশন শোতেই দেখা যায়, সেটিও মঞ্চে স্থান পেয়েছে৷ সংগীতশিল্পী ডেমি মোঁদেনও মঞ্চে সেই পোশাক পরেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই পোশাক আমার জন্য মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে, তাই সেটা দেখার জন্য বেশ উদগ্রীব ছিলাম৷ জঁ পোল গোটিয়ে কোনো কস্টিউম নিয়ে কাজ শুরু করলে মনে হয়, তিনি যেন ঘোরের মধ্যে চলে গেছেন৷ তাঁর মধ্যে একটা রূপান্তর ঘটে৷ তারপর দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যায়৷''

দুই বছর আগে বার্লিনের ফ্রিডরিশস্টাট হলে ‘দ্য ওয়ান গ্র্যান্ড শো' অনুষ্ঠানের জন্য এই তারকা ডিজাইনার ৫০০ কস্টিউম ডিজাইন করেছিলেন৷

গোটিয়ে নিজের গীতিনাট্যের পরিচালনার পাশাপাশি মঞ্চসজ্জার কাজও করেন৷ এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ ফরাসি পরিচালক টোনি মার্শাল এই প্রকল্পে তাঁকে সহায়তা করেছেন৷ পরিচালক টোনি মার্শাল বলেন,‘‘শুরুতে তাঁর মনে দ্বিধা ছিল৷ এমনটা করা ঠিক হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না৷ আমরা সবাই দ্রুত বুঝেছিলাম যে, নিজের জীবন মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেটাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত৷ সেই কাহিনিও ফ্যাশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ তাছাড়া এই সময়কালে গোটা সমাজ বদলে গেছে৷ যখন জঁ পোল গোটিয়েকে চিনতামও না, তখনও তাঁর সাহসের কারণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করতাম৷''

এই বিদ্রোহী ডিজাইনারের প্রথম দিকের ফ্যাশন শোগুলিতেই বোঝা গিয়েছিল, শুধু ফ্যাশন উপস্থাপন করেই তিনি সন্তুষ্ট নন৷ ব়্যাম্পে কী যে ঘটবে, মডেল ও দর্শকরাও তা জানতেন না৷ এই সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত অনেক অতিথিরও সেই সময়ের কথা মনে আছে৷

তাঁর গীতিনাট্যের মধ্যেও উগ্রতা ও অপ্রত্যাশিত নানা বিষয় রয়েছে৷ ফ্যাশন শো'র মতোই তিনি গীতিনাট্যেও লিঙ্গ অনুযায়ী ভূমিকা ভাগ করে দিয়েছেন৷ তবে কোনো প্রচলিত শৈলির মধ্যে তিনি নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি৷ জঁ পোল গোটিয়ে বলেন, ‘‘আমি জীবনের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে চাই এবং দেখাতে চাই যে, চোখ খোলা রেখে গোটা পৃথিবী ঘুরে নানাভাবে সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব৷ শুধু সদিচ্ছার প্রয়োজন৷''

নতুন এই গীতিনাট্য দর্শকদের কাছেও সাফল্য পাবে কিনা, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে৷ চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত প্যারিসে জঁ পোল গোটিয়ের ফ্যাশন ফ্রিক শো দেখা যাবে৷

কাটিয়া লিয়র্শ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন