ফ্যাক্ট চেক: ইউক্রেন যুদ্ধে ‘ক্ষুধা’ অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 29.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউরোপ

ফ্যাক্ট চেক: ইউক্রেন যুদ্ধে ‘ক্ষুধা’ অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে?

কৃষ্ণ সাগরে বন্ধ বন্দর এবং সমুদ্রপথে পেতে রাখা বোমার জন্য কে দায়ী? রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কি বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে? ইউক্রেন থেকে শস্য সরবরাহ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে ডয়চে ভেলে৷

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে খাদ্য রপ্তানিকে কি ‘নীরব অস্ত্র' হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে?

দাবি: ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া খাদ্যকে অস্ত্রে রূপ দিয়েছে৷ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি- ডাব্লিউএফপি এর প্রধান ডেভিড বিসলে বলেছেন, ‘‘বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই৷’’

ফ্যাক্ট চেক: সত্য৷

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ডাব্লিউএফপি এর নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন৷ মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক সিবিএস-এর ‘ফেস দ্য নেশন' শোতে ১৭ এপ্রিল দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুটিন ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘‘এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই৷’’

এর মাত্র কয়েকদিন পর ১৯ মে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও বিসলে বলেন, ‘‘ওডেসা অঞ্চলে বন্দরগুলো চালু করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ এর ফলে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ, অস্থিতিশীলতাএবং অভিবাসন বৃদ্ধি পাবে৷’’

রাশিয়ার শস্য রপ্তানিতে সাময়িক স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরো মারাত্মক করে তুলেছে৷ বিশ্বের বৃহত্তম গম রপ্তানিকারক এই দেশ মার্চের শেষ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত শস্য রপ্তানি স্থগিত করেছে৷

রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দিমিত্রি মেদভেদেভ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে খাদ্য রপ্তানিকে একটি ‘নীরব অস্ত্র' হিসাবে উল্লেখ করে পরোক্ষভাবে বিসলের বিবৃতিকেই নিশ্চিত করেছেন৷ পয়লা এপ্রিল নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘‘অনেক দেশ তাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমাদের সরবরাহের উপর নির্ভর করে৷ দেখা যাচ্ছে যে খাদ্যই আমাদের নীরব অস্ত্র৷ নীরব, কিন্তু অশুভ৷’’

এ বিষয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন জার্মান ইস্টার্ন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জার্মান এগ্রিবিজনেস অ্যালায়েন্সের পরিচালক পার ব্রোডারসেন৷ মস্কোর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে এই অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘অনিশ্চয়তা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে৷ যে দেশগুলো শস্য মজুদ করছে, তারা পরে তা বেশি দামে বিক্রি করতে পারে৷’’

কৃষ্ণ সাগরে বোমা পেতেছে কে?

দাবি: রাশিয়ায় জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি বলেছেন, ‘‘রাশিয়া ‘ইউক্রেনের বন্দর' খুলে দিতে বাধা দিচ্ছে না, বরং জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে যেতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনই বন্দরগুলো থেকে মাইন অপসারণ করায় অস্বীকৃতি জানিয়েছে৷’’

ফ্যাক্ট চেক: নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷

ইউক্রেনের বধিরদের সহযোগিতায় পোল্যান্ডের বধিরেরা

ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণ সাগর এবং আজভ সাগরের মূল বন্দরগুলি বন্ধ হয়ে গেছে৷ এর ফলে ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে৷ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সংস্থা- আইএমও এর কাছে দেয়া বিবৃতিতে ইউক্রেন এবং রাশিয়া দুই দেশই একে অপরকে সাগরে ডুবো মাইন স্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে৷

ইউক্রেনের অবকাঠামো মন্ত্রণালয় ২৮ এপ্রিল একটি ডিক্রি জারি করে বার্দিয়ানস্ক, খেরসন, মারিওপল এবং স্কাডোভস্কের সমুদ্রবন্দরগুলি অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে৷

এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি এক টুইটে লিখেছেন: ‘‘এটি খুবই মর্মান্তিক যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা  খাদ্য নিরাপত্তা বিতর্ক শুরু করে ‘ইউক্রেনের বন্দরগুলো উন্মুক্ত করার' জন্য আমাদের কাছে আবেদন অব্যাহত রেখেছেন৷ অথচ তারা এটা জানেন যে ইউক্রেনই বোমা সরাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে৷ উলটো আমাদের বলা হচ্ছে যাতে জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি ও নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য৷ কী ভণ্ডামি!’’

২০ মে মস্কো টাইমসে প্রকাশিত বার্তা সংস্থা এএফপির এক সংবাদে ফরাসি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বরাতে বলা হয়, কৃষ্ণ সাগর এবং বিভিন্ন বন্দরে বোমা পেতে রাখায় ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই দেশই দায়ী৷

শস্যের উচ্চমূল্যের জন্য অবরোধ দায়ী?

দাবি: ১৯ মে মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা৷ তিনি বলেন, ‘‘বাণিজ্য, সরবরাহ এবং আর্থিক শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটা এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী একতরফা রুশবিরোধী নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ানোর অবিবেচনাপ্রসূত হুমকি৷’’

ফ্যাক্ট চেক: মিথ্যা৷

পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ছড়ানোর' অভিযোগ করে জাখারোভা বলেছেন যে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের জন্য রাশিয়া দায়ী নয়৷ তার দাবি, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়েই বিশ্ব খাদ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে ‘দুর্ভিক্ষের' হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন৷ জাখারোভা বলেন, ‘‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে৷’’

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক ক্রেমলিনের এই অভিযোগকে ‘ভ্রান্তিমূলক প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছেন৷ জি-সেভেন রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি আবারও জানিয়েছেন, ‘‘শস্য এবং মানবিক সহায়তার বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই৷’’

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে৷  মুখপাত্র মার্টিন রেন্টশ ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘‘রাশিয়া থেকে খাদ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই৷’’

তবে তিনি জানিয়েছেন ‘‘উচ্চ মূল্য এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে সেখান (রাশিয়া) থেকে খাদ্য কেনা লাভজনক নয়৷’’

রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমর্থনপুষ্ট শস্য রপ্তানিকারকদের ইউনিয়ন রাসগ্রেইনও এক টুইটে জানিয়েছে ‘‘আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য রপ্তানি এবং কৃষি পণ্য সরবরাহ প্রভাবিত হবে না৷’’

আস্ট্রিড প্রাংগে/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন