ফেসবুকে গুজব, গুজবের ফেসবুক | আলাপ | DW | 25.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ফেসবুকে গুজব, গুজবের ফেসবুক

এটা এখন প্রায় সবাই বলছেন যে ফেসবুক গুজবের একটি বড় জায়গায় পরিণত হয়েছে৷ আর সত্য ঘটনার চেয়ে গুজবই যেন ফেসবুকে ভাইরাল হয় বেশি৷ এই গুজবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে অনেক অঘটনও ঘটছে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সর্বশেষ ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনাই যদি দেখি তাহলে গুজব এবং এর পরিণতি নিয়ে কোন অস্পষ্টতা থাকার কথা নয়৷ একটি কথিত ফেসবুক ম্যাসেজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চারজন নিহত হলো৷ হিন্দুদের বাড়ি ঘরে হামলা হলো৷ কিন্তু যে ফেসবুক ম্যাসেজ দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে তার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক হয়েছে আগেই৷ আর ওই হ্যাকড আইডি থেকে অন্যকেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মীয় অবমাননার ম্যাসেজ দিয়ে তার স্ক্রিনশট ছড়িয়েছে৷ তাহলে এটা পরিস্কার যে এই গুজব ছাড়ানোর পিছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ আছে৷ তাদের টার্গেট ছিলো ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে হিন্দুদের আক্রমণ এবং ফায়াদা লোটা৷ 

অডিও শুনুন 06:24

‘‘গুজব ছড়ানোর নতুন টুল হচ্ছে ফেসবুক’’

শুধু ভোলা নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, রামু - এই সব জায়গায়ই ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে৷

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গুজব আগেও ছিলো, এখানো আছে৷ ফেসবুক আসার কারণে যে গুজব তৈরি হচ্ছে তা নয়৷  তবে ফেসবুকের কারণে গুজব ছাড়ানো সহজ হচ্ছে৷ কিন্তু গুজব প্রতিরোধেও আবার ফেসবুকেরই বড় ভূমিকা আছে৷ এখানেই গুজবের বিরুদ্ধে কথা হচ্ছে৷ যেটা গুজব সেটাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে৷ আগে কিন্তু এই সুযোগ ছিলোনা৷''

তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুক আসার আগে গণমাধ্যম গুজব ছড়িয়েছে৷  নব্বইয়ের দশকে ঢোল কলমি নামে পোকার আক্রমণে মানুষ মারা যাচ্ছে এই গুজব কিন্তু তখনকার একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিকই ছড়িয়েছিল৷ তখনতো  ফেসবুক ছিল না৷''

ফেসবুকে সক্রিয় এই অ্যাক্টিভিস্ট মনে করেন, ‘‘ফেসবুকে গুজবের মূল কন্টেন্ট শতকরা এক ভাগ৷ বাকি ৯৯ ভাগ ছড়ানো হয়৷ এটার রাজনৈকি উদ্দেশ্য থাকে৷ ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকে৷'' 

বাংলাদেশে কয়েকমাস আগে ছেলে ধরার গুজবও এই ফেসবুকের মাধ্যমেই ছড়োনো হয়৷ পদ্মা সেতুতে শিশুর রক্ত আর মাথা লাগার ওই গুজব শুধু ফেসবুকেই সীমবাদ্ধ থাকেনি, মানুষের মুখে মুখেও ছড়িয়ে পড়ে৷ আর তার পরিণতি হয় ভয়াবহ৷ ছেলেধরা সন্দেহে অনেককেই জীবন দিতে হয় গণপিটুনিতে৷ ঢাকায় এক মা ও তার সন্তানকে স্কুলে ভর্তির খোঁজ খবর নিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে জীবন দেন৷ আর ডেঙ্গু প্রকোপের সময় নানা গুজবের মধ্যে হারপিক দিয়ে মশা মারার গুজবও ফেসবুকে ভাইরাল হয়৷ তবে ফেসবুকেই আবার সেই গুজবের বিরুদ্ধেও কথা হয়৷

বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো: কিছু গুজব আছে মানুষ না জেনে এবং না বুঝেই ছাড়ায়৷ আর কিছু গুজব আছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাড়ানো হয়৷ উদ্দেশ্যমূলক গুজবের পিছনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে৷ আর অদক্ষতা এবং তথ্যের সত্যতা কিভাবে নিশ্চিত করতে হয় তা জানা না থাকায় অনেকে নিজেই গুজব ছড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে যান৷

যেমন কোথাও আগুন লাগলে ঘটনাস্থলের মানুষ নানা কথা বলেন৷ হয়তো একজন শ্রমিক পোশাক কারখানার ভিতরে ১৬ জনকে পড়ে থাকতে এসে  বললেন ভিতরে ১৬টি লাশ দেখেছেন৷ একজন হয়তো সেটা শুনেই না বুঝে ১৬ জন মারাগেছে বলে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন৷

কয়েক দিন আগে ধানমন্ডির সংসদ সংদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ফেসবুকে অভিনন্দনের বার্তায় ভাসছিলেন৷ তাঁকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে এই খবরে ফেসবুক পোস্টের প্রতিযোগিতা শুরু হয়৷ সবাই যেন ফেসবুকে ব্রেকিং নিউজ দিতে প্রতিযোগিতা শুরু করেন৷ কিন্তু তথ্যটি কেউ চেক করেননি৷ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ব্রেকিং নিউজ দেয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়৷ আর এটা করতে গিয়ে অনেকেই ভুল তথ্য পরিবেশন করেন

ফেসবুকে এই গুজব ছাড়ানোর জন্য বাংলাদেশে আইনগত পদক্ষেপ সরকারের দিক থেকে তেমন দেখা যায়না৷ তবে ফেসবুকে সত্য ঘটনা প্রকাশ বা সরকারের কোনো পদক্ষেপের সমালোচনা করে হামলা মামলার শিকার হওয়ার উদাহরণ অনেক৷ বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ফেসবুকে ভারতের সাথে চুক্তির সমালোচনা করার কারণেই নির্যাতন এবং হত্যার শিকার হয়েছেন৷ ক্ষমতাবানদের নিয়ে কথা বলে কটূক্তির অভিযোগে অনেককেই জেলে যেতে হয়েছে৷ কিন্তু ধর্ম অবমাননার গুজব এপর্যন্ত যারা ছড়িয়েছে তাদের কাউকেই আইনের আওতায় আনার নজির নেই৷

অডিও শুনুন 01:56

‘‘ফেসবুক আসার আগে গণমাধ্যম গুজব ছড়িয়েছে’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রাহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গুজব ছড়ানোর নতুন টুল হচ্ছে ফেসবুক৷ আধুনিক এই তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক মাধ্যম আমরা পেয়েছি তাকে এটা ব্যবহারের জন্য শিক্ষা এবং দক্ষতা আমাদের সবার নেই৷ যার ফলে বিপর্যয় ঘটছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘যারা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অন্যকোনো কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছাড়ায় তারা জেনে শুনেই এটা করেন৷ তারা তখনো ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে বা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে গুজব তৈরি করে৷ আর অনেক সময়ই সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারী না বুঝে তাদের ফাঁদে পা দিয় গুজব ছাড়াতে ভূমিকা রাখে৷ তাই গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে৷''

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

বিজ্ঞাপন