ফেসবুকের তথ্য যেভাবে ট্রাম্পকে ভোটার জুগিয়েছে | বিশ্ব | DW | 21.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ফেসবুক

ফেসবুকের তথ্য যেভাবে ট্রাম্পকে ভোটার জুগিয়েছে

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে করা সব জরিপ মিথ্যা প্রমাণ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ একটি ফেসবুক অ্যাপ তাঁর এই জয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷

অ্যাপটির নাম ‘দিসইজমাইডিজিটাললাইফ’৷ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক আলেক্সান্ডার কোগান এটি তৈরি করেছিলেন৷ নির্বাচন নিয়ে গবেষণা করা ব্রিটিশ সংস্থা ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’র হয়ে অ্যাপটি ডেভেলপ করেছিলেন কোগান৷ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা প্রচারণায় সহায়তা পেতে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার শরণাপন্ন হয়েছিলেন৷ সেই সময় ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের পরামর্শক হিসেবে কাজ করা স্টিভ ব্যানন'সহ কয়েকজন রিপাবলিকান সমর্থক কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷

দিসইজমাইডিজিটাললাইফ অ্যাপটি ২০১৫ সালে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উপর একটি জরিপ চালায়৷ ফেসবুকের এই অ্যাপ ছিল মূলত একটি কুইজ৷ এর মাধ্যমে কুইজে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিত্বের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা৷ প্রায় তিন লক্ষ ২০ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী কুইজে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়৷ অর্থাৎ কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা সংস্থাটি এই অ্যাপের মাধ্যমে তিন লক্ষ ২০ হাজার জনের বিস্তারিত তথ্য পেয়েছিল৷ শুধু তাই নয়, ফেসবুকের সেই সময়কার নীতি অনুযায়ী, অ্যাপটির মাধ্যমে ঐ তিন লক্ষ ২০ হাজার জনের বন্ধুদের বিস্তারিত তথ্যও কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে চলে এসেছিল৷ সবমিলিয়ে পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য পায় ঐ গবেষণা সংস্থাটি৷ পরবর্তীতে এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয় এবং যে ভোটারের ব্যক্তিত্ব যেমন, তাকে লক্ষ্য করে ঠিক তেমন বার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাপের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন এত সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য হাতে পেয়েছিল, যা তার আগে আর কেউ পায়নি৷ অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো কৌশলের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক৷

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা সংস্থার প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্ডার নিক্স, যাঁকে মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয়েছে, বলেছেন, ট্রাম্পের জয়ে তাদের বিরাট ভূমিকা ছিল৷ ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর-এর একদল ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন৷ চ্যানেল ফোরের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিক্স তাঁর কোম্পানির কাজ করার বিভিন্ন উপায় বর্ণনা করছেন৷ রাজনীতিবিদদের ঘুস দেয়া, তাঁদের কাছে সুন্দরী মেয়েদের পাঠিয়ে তাঁদের বিতর্কিত করে তোলার মতো উপায় ব্যবহার করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন নিক্স৷ এমন মন্তব্যের জন্য মঙ্গলবার তাঁকে বরখাস্ত করে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা৷

ট্রাম্পের প্রচারণায় ফেসবুকের তথ্য ব্যবহার করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা৷

আর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলেক্সান্ডার কোগান দাবি করেছেন, তাঁর সংগ্রহ করা তথ্যের নির্ভুলতার বিষয়টি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে এবং এসব তথ্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন না৷

প্রতিক্রিয়া

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিষয়টি সামনে আসায় গত দুইদিনে ফেসবুকের শেয়ারমূল্যের ব্যাপক দরপতন হয়৷ ফেসবুক নিজেও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে৷ কেমব্রিজের শিক্ষক অবৈধভাবে কাজটি করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷ অবশ্য এই ঘটনা জানার পর ফেসবুক অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধুদের তথ্য সংগ্রহ করার সুবিধাটি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে৷

তবে ফেসবুকের এই প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাংসদরা৷ তাই তো বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হতে চেয়েছেন তাঁরা৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও তাজানি এক টুইটে লিখেছেন, ‘‘৫০০ মিলিয়ন ইউরোপীয় নাগরিকের প্রতিনিধিদের সামনে ফেসবুককে এই ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে না৷’’

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক