ফের ভোট চায় বিরোধীরা | বিশ্ব | DW | 14.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ফের ভোট চায় বিরোধীরা

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাসের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ ফের নির্বাচন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বিরোধীরা৷

দিনভর নির্বাচনি সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের শেষে নিহত অন্তত ১৩, মতান্তরে ১৮৷ বোমা বিস্ফোরণে, গুলিবিদ্ধ হয়ে, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে জখম বহু৷ বিকেল পাঁচটায় ভোট শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ‌ ভোট পড়েছে৷ জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন৷ রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ ১২ জনের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছেন, যাদের ছ'জনের পরিচয় পুলিশ এখনও জানতে পারেনি৷ এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷ এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচনে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টার দায়ে বিরোধীদের নিন্দা করেছেন৷

কিন্তু বিরোধীরা ফের আদালতে যাচ্ছেন সন্ত্রাসপূর্ণএই নির্বাচন বাতিলের দাবি নিয়ে৷ বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম এই ব্যাপারে একমত, যে নির্বাচনের নামে এই তামাসা বরদাস্ত করা যায় না৷ তারা নতুন নির্বাচন চাইবে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও এদিনের নির্বাচনি সন্ত্রাস, সংঘর্ষ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে৷ কোথায় কী ঘটনা ঘটেছে, এবং তার পর প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, খুঁটিয়ে জানতে চেয়েছে দিল্লি৷

সিপিএম এবং অন্যান্য বাম দলগুলি এদিন ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পর একজোটে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়৷ এই সময় তৃণমূল সাংসদ এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা ডেরেক ও ব্রায়েন টুইট করে কটাক্ষ করেন, ১৯৯০–এর দশকে বাম জমানায় ৪০০ মানুষ নির্বাচনি সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন৷ ২০০৩ সালেও ভোটের দিন ৪০ জন মারা গেছেন৷ সেই তুলনায় এবার অশান্তির ঘটনা ৫৮ হাজার বুথে মাত্র ৪০টি৷ শতকরার হিসেবে আসে কি?‌ টুইটে প্রশ্ন করেছেন ডেরেক৷

ডেরেকের এই বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, বাম জমানায় যদি সন্ত্রাসই হয়ে থাকে, তা হলে মমতা ব্যানার্জি কোনোদিন ক্ষমতায় আসতেন না৷ প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিল৷ তা সত্ত্বেও যাঁরা মনোনয়ন জমা দিলেন, তাঁদের ভয় দেখিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারে বাধ্য করল৷ তার পরেও যাঁরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছিলেন, ভোটের দিন তাঁরা সন্ত্রাসের শিকার হলেন৷ কিন্তু বামপন্থিরা রাষ্ট্রপতির শাসনে বিশ্বাস করে না৷ গণতান্ত্রিক পথেই এর মোকাবিলা হবে৷

এদিন সকাল হতেই খবর এসেছিল, কাকদ্বীপের নামখানায় সিপিএম-এর এক এজেন্ট এবং তাঁর স্ত্রীকে রবিবার মাঝরাতে পুড়িয়ে মারা হয়েছে৷ দিনের শেষে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, সম্ভবত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে৷ এটি দুর্ঘটনা৷ সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বললেন, সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে আগুন৷ তদন্ত হলেই জানা যাবে৷ রাজ্য পুলিশের ডিজি বললেন, ফরেসনিস তদন্ত হবে৷ আর নিহত দম্পতির ছেলে জানাল, আগের রাতে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না৷ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার প্রশ্ন ওঠে কী করে!‌

পাঠক, এই প্রতিবেদন আপনাদের কেমন লাগল? নীচের মন্তব্যের ঘরে আমাদের জানান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন