ফেরত পাঠানো অভিবাসীর আত্মহত্যা | বিশ্ব | DW | 11.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

ফেরত পাঠানো অভিবাসীর আত্মহত্যা

জার্মানি থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আফগান এক অভিবাসীর আত্মহত্যার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে৷ জোট সরকারের মধ্য থেকেও অনেকে এই দাবি তুলেছেন৷

আগের দিন যা নিয়ে কৌতুক করেছিলেন, পরের দিনই যে তা তাঁর জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াবে, হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি সেহোফার৷ কিন্তু ঘটলো ঠিক তাই৷

মঙ্গলবার তথাকথিত ‘অভিবাসন সংক্রান্ত মাস্টার প্ল্যান' উপস্থাপনের সময় তিনি হাস্যচ্ছলে বলেছিলেন, ‘‘আমার ৬৯তম জন্মদিনে আমার কোনো আদেশ ছাড়াই ৬৯ জনকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷''

সেহোফার যখন এই কথা বলছিলেন, তখনও তিনি জানেন না, এই ফেরত পাঠানো আফগানদের একজন কাবুলের এক ক্যাম্পে কয়েক ঘণ্টা আগেই গলায় দড়ি দিয়েছেন৷

বুধবার সেহোফারের মন্ত্রণালয়ই ২৩ বছর বয়সি জামাল নাসের মাহমুদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে৷ ছোট্ট এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনা ‘খুবই মর্মান্তিক'৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উদার অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করে এমনিতেই জার্মানিতে বেশ বিতর্কের মুখে খ্রীস্টিয় সামাজিক ইউনিয়ন সিএসইউ'র প্রধান সেহোফার৷ সংকট এতটাই তীব্র রূপ নিয়েছিল যে, অনেকে ভয় পাচ্ছিলেন জার্মানির সরকারই ভেঙে পড়বে

তবে শেষ পর্যন্ত ম্যার্কেলের দল সিডিইউ এবং জোট সরকারের আরেক শরিক সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি অভিবাসন নীতিতে বেশ কিছু ছাড় দেয়ায় গত সপ্তাহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে৷

সরকারের মধ্যে প্রকাশ্য এই বিরোধে সেহোফারের জনপ্রিয়তা অনেকখানিই কমেছে৷ এখন তাঁর পদত্যাগের দাবি আরো জোরালো হয়ে উঠছে৷ এমনকি এখন জোট সরকারের অনেকেও তুলছেন সে দাবি৷

টুইটে এসপিডি সদস্যদের ক্ষোভ

এসপিডির যুব সংস্থার প্রভাবশালী নেতা কেভিন ক্যুনের্ট টুইট করেছেন, ‘‘হর্স্ট সেহোফার একজন ভয়াবহ ব্যক্তি এবং তিনি এই পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন৷ তাঁর অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল৷''

জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন ভেস্টফালিয়ার এসপিডি টুইট করেছে, ‘‘যে গণতন্ত্রের কাছে আমরা এত কৃতজ্ঞ, মানবিক গুণাবলীহীন এমন একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই গণতন্ত্রকেই নষ্ট করে দিচ্ছেন৷''

বার্লিন থেকে নির্বাচিত এসপিডির পার্লামেন্ট সদস্য কান্সেল কিসিলিটেপা টুইটে ম্যার্কেলকে আহ্বান জানিয়েছেন অবিলম্বে যাতে সেহোফারকে বরখাস্ত করা হয়

তবে কট্টর ডানপন্থি, অভিবাসনবিরোধী দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড এএফডির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল বা তাঁর সিডিইউয়ের বড় কোনো নেতাও এখনও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি৷

অস্ট্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় এই ইস্যুতে প্রশ্নের মুখোমুখি আপাতত হতে হচ্ছে না সেহোফারকে৷

কিন্তু অনেকেই মনে করছেন, সেহোফার এখন ম্যার্কেলের জোট সরকারের জন্য বোঝায় পরিণত হয়েছেন৷ সরকারে তাঁর দিন হয়তো ঘনিয়ে এসেছে৷

জেফারসন চেজ/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন