ফুল চাষের ফলে মাছ ব্যবসায় ক্ষতি | বিশ্ব | DW | 28.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ফুল চাষের ফলে মাছ ব্যবসায় ক্ষতি

বড় আকারে ফুল চাষের কারণে কেনিয়ার এক হ্রদে জেলেদের জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে৷ বিষাক্ত পদার্থ মাছেদের বংশবৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের উপর কুপ্রভাব ফেলছে৷ কিছু ফুল কোম্পানি পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলেও বাকিরা তাতে সামিল হচ্ছে না৷

জালে আবার মাছ পড়েছে৷ কয়েক ঘণ্টা পানিতে থেকে কাজ হয়েছে৷ প্রত্যেক নৌকা বেশ কয়েক কিলো তেলাপিয়া মাছ নিয়ে ফিরেছে৷ তবে হ্রদের পানিতে সদ্য পাওয়া বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে সবাই আলোচনা করছে৷

স্যামসন মাচারিয়ার সেই ভয়ংকর সময়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে৷ ২০০৯ সালে বিশাল পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছিল৷ হ্রদ প্রায় পুরোপুরি শুকিয়ে গিয়েছিল, মাছেদের শরীরে বিষ ছড়িয়ে গিয়েছিল৷ ফুলের চাষই ছিল সেই বিপত্তির কারণ৷ স্যামসন বলেন, ‘‘তারা গোটা লেক প্রায় শুকিয়ে ফেলেছিল৷ পয়ঃপ্রণালীর মাধ্যমে বিষ এসে পানি নষ্ট করে দিয়েছিল৷ ফলে মাছ কমে গেল৷ মাত্র ১০টি নৌকায় যা ওঠে, সেটুকুই অবশিষ্ট ছিল৷ মৎস বিভাগ এক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে মাছের সংখ্যা বাড়াতে পেরেছিল৷ তাই মানুষ প্রায় না খেয়ে ছিল৷''

ভিডিও দেখুন 05:21
এখন লাইভ
05:21 মিনিট

ফুলের জন্য মাছ ব্যবসায় ক্ষতি

নাইভাশা হ্রদের চারিপাশের পরিবেশ ফুল চাষের অনুকূল৷  ৫০টিরও বেশি কোম্পানি হ্রদের ধারে তাদের গ্রিনহাউস গড়ে তুলেছে৷ মাটি খুব উর্বর৷ তাপমাত্রাও বেশি নয়৷ দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা রোদের আলো পাওয়া যায়৷ হ্রদের অফুরন্ত পানি তো আছেই৷

তবে ২০০৯ সালের পরিবেশ বিপর্যয়ের পর থেকে জেলেরা আর ফুল শিল্পের প্রতি আস্থা রাখেন না৷ যদিও ফুল কোম্পানিগুলির কার্যকলাপের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ চালু করা হয়েছে৷ তাঁদেরই একজন এডওয়ার্ড নিজিনোর৷ তিনি বলেন, ‘‘তারা এই রাসায়নিক দ্রব্য স্প্রে করছে৷ বৃষ্টির ফলে সেই রাসায়নিক হ্রদের পানিতে গিয়ে মিশছে৷ সেই বিষ মাছের পেটে গেলে এবং সেই মাছ খেলে মানুষের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়৷ মাছেদের বংশবৃদ্ধির উপরেও প্রভাব পড়ে, কারণ ফুলের ফার্মগুলি তো কাছেই অবস্থিত৷''

তবে ফুল কোম্পানিগুলি এই সব অভিযোগ মানতে প্রস্তুত নয়৷ গ্রিনহাউসে তারা কোনো সাংবাদিকদের প্রবেশও পছন্দ করে না৷ জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে ডয়চে ভেলের সাংবাদিকরা একটি কোম্পানি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন৷ এই কোম্পানি নিজেদের আদর্শ বলে মনে করে৷ ওসেরিয়ান ফ্লাওয়ার ফার্মের হামিশ কের বলেন, ‘‘হ্রদের পানিতে কীটনাশক থাকলে সেটা হয়ত এমন শিল্প থেকে আসছে, যাদের আচরণ কেনিয়ার ফুল পরিষদের আচরণবিধির সঙ্গে মেলে না৷ সেই কাজেই হয়তো বেশি মন দিতে হবে, যাতে ছোট আকারের ফুল চাষিরা প্রকৃতির ক্ষতি না করে দায়িত্বের সঙ্গে পণ্য ব্যবহার করতে শেখেন৷''

ওসেরিয়ান কোম্পানির বক্তব্য, তাদের কীটনাশকের চাহিদা বাকিদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক৷ তার বদলে এই কোম্পানি গোলাপ ফুলের উপর ছোট গুবরে পোকা ছেড়ে দেয়, যারা ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে৷ এমন আরও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার খোঁজ চলছে, যা অন্যান্য কোম্পানিও কাজে লাগাতে পারে৷ কোম্পানির প্রতিনিধি আন্টন কোনিং বলেন, ‘‘প্লান্টে যে পানি কাজে লাগছে না, তা আমরা পুনর্ব্যবহার করি৷ সেই পানি অনেক কাজেই লাগে৷ ইকোসিস্টেমের জন্য এটা ভালো, কারণ পুনর্ব্যবহৃত বা নিষ্কাশিত পানি সেখানে যায় না৷ সারও বেঁচে যায়, কারণ রিসাইক্লিং-এর পর ভেতরে তার কিছু অংশ থেকে যায়৷ ফলে আমরা সেটা বার বার ব্যবহার করি৷'' 

এখান থেকে কোনো বিষ হ্রদে যাচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে৷ তবে ওসেরিয়ান গোটা এলাকার অসংখ্য ফুল কোম্পানির মধ্যে একটি৷ অন্য কোম্পানিগুলিতে প্রবেশ নিষেধ৷

আবার নাইভাশা হ্রদে ফেরা যাক৷ দুপুরে জেলেরা মাছ ধরে বাজারে নিয়ে আসেন৷ আজকাল তাঁদের বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়৷ আগে হ্রদের তীরেই মাছের বাজার বসতো৷ কিন্তু হ্রদ সঙ্কুচিত হচ্ছে৷ মাছের পরিমাণও কমছে৷ হ্রদ থেকে পাম্প করে অনেক পানি বার করে নেওয়া হচ্ছে৷

বেশ গরম পড়ছে৷ ছায়ার আড়ালেও তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ মাছ দ্রুত বাজারে পাঠাতে হবে৷  মাছ বিক্রেতাদের জন্য দিনটি বেশ সফল৷ তাঁদের জেলে স্বামীরা বস্তা বস্তা মাছ এনেছেন৷ ছোট তেলাপিয়া মাছের দাম প্রায় ১ ইউরো৷ ফলে অন্তত আজকের দিনটিতে ভালই আয় হয়েছে৷ মাছ বিক্রেতা রোজলিন মেরি আচিয়েং বলেন, ‘‘আমাদের এই উন্নতি হয়েছে৷ কারণ হ্রদে আর মৃত মাছ নেই৷ ওরা সেটা সম্ভব করেছে৷ কিন্তু জানেন তো, আমাদের এইটুকুই ক্ষমতা৷ আমাদের কেউ কিছু জানায় না৷ হয়তো ওরা নিজেরাই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছে৷''

মাছেরা বিষহীন পানিতে বেড়ে উঠবে – এটাই তাঁদের আশা৷ নাইভাশা হ্রদে ফুলের চাষ শুরু হবার আগে আগে ঠিক যেমনটা ছিল৷

মানুয়েল ওসসেরকেস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন