ফুটবলের দেশে অবহেলিত ক্রিকেট | আলাপ | DW | 07.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

ফুটবলের দেশে অবহেলিত ক্রিকেট

হ্যাঁ, জার্মানি ফুটবলের দেশ৷ এটা সবাই জানে৷ তবে এ দেশে আরো অনেক খেলা আছে যেগুলো জনপ্রিয় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত৷ কিন্তু ক্রিকেট এখনো পালে হাওয়া পাচ্ছে না৷ অথচ ইউরোপের এ দেশে ক্রিকেট আলোচনায় আছে দীর্ঘদিন ধরে৷

হিটলার কি জার্মানিতে ক্রিকেট নিষিদ্ধ করেছিলেন? কেউ বলেন, হ্যাঁ, আর কেউ বলেন, না৷ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন কিছুদিন আগে এক প্রতিবেদনে লিখেছে যে, নাৎসি জমানায় ক্রিকেট নিষিদ্ধ ছিল জার্মানিতে, কেননা, তারা চেয়েছিল জার্মানরা অ্যাথলেটিকসে বেশি মনোযোগ দিক৷ আবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ঘাটলে দেখা যায়, ১৯৩৭ সালে নাৎসি জার্মানি সফর করেছিল ইংল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দল৷ আর সেসব প্রতিবেদনে ক্রিকেটের প্রতি হিটলারের অনীহার কথা থাকলেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে নেই৷

তবে ক্রিকেট যে দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানিতে কোনো-না-কোনোভাবে আলোচনায় রয়েছে সেটা ইতিহাস ঘাটলেই বোঝা যায়৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আলোচনায় থাকা এক ক্রীড়া এ দেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না কেন? বিশেষ করে জার্মানি এমন এক দেশ, যে দেশের সরকারের কোনো অর্থাভাব নেই৷ বরং গত কয়েক বছর ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো খরচের পথ পাচ্ছে না দেশটির সরকার৷ এখান থেকে অল্প কিছু ক্রিকেটের পেছনে ব্যায় করলে কি চলে না?

ভিডিও দেখুন 03:49
এখন লাইভ
03:49 মিনিট

Germany: now that's cricket

এ কথা জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশি-জার্মান প্রকৌশলী আদনান সাদেকের কাছে৷ ‘স্টুটগার্ট ক্রিকেট ইগলস' নামের একটি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা তিনি৷ জড়িত আছেন আরো অনেক ক্রিকেট সংগঠনের সঙ্গে৷

আদনান আমাকে স্পষ্টতই জানালেন, জার্মান সরকার ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে কোনো ধরনের সহায়তা করে না৷ কেননা, ক্রিকেট অলিম্পিকের অন্তর্ভূক্ত কোনো খেলা নয়৷

তার মানে, অলিম্পিকে অন্তর্ভূক্ত খেলা হলে ক্রিকেট দল জার্মান সরকারের অর্থভাণ্ডার থেকে বড় ধরনের সহায়তা পেতো৷ যেহেতু পাচ্ছে না, তাই বাকি থাকছে বেসরকারি সহায়তা বা পৃষ্ঠপোষকতা৷ সেটাও যে আশানুরূপ নয়, তা-ও আদনানের কথায় পরিষ্কার৷ তিনি জানালেন, জার্মানিতে ক্রিকেটের উপযুক্ত মাঠের অভাব রয়েছে৷ গোটা দেশে অসংখ্য ফুটবল মাঠ থাকলেও শক্ত বলে ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত মাঠে আছে মাত্র দু-তিনটি৷ আর বাকি যেসব মাঠে খেলা হয়, সেগুলো আসলে ফুটবল মাঠ৷

ভিডিও দেখুন 02:17
এখন লাইভ
02:17 মিনিট

ক্রিকেটের এই দুর্দশায় আশার আলো দেখাচ্ছে জার্মানির অভিবাসী জনগোষ্ঠী

তবে ক্রিকেটের এই দুর্দশায় আশার আলো দেখাচ্ছে জার্মানির অভিবাসী জনগোষ্ঠী৷ বিশেষ করে গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা শরণার্থী তরুণদের মধ্যে একটি বড় অংশ রয়েছে যারা ক্রিকেটে বেশ পারদর্শী৷ উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে এদের মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক মানের পেসার, স্পিনার বা ব্যাটসম্যান গড়া সম্ভব৷

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ‘উপযুক্ত সহায়তা' করবে কে? জার্মান জাতীয় দলের কথাই ধরুন৷ এই দলের খেলোয়াড়দের অধিকাংশই বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী৷ এদের কেউ এসেছেন লেখাপড়া করতে, কেউ চাকুরি নিয়ে কেউবা শরণার্থী হিসেবে৷ ক্রিকেট তাঁদের কাছে প্যাশন হলেও পেশা নয়৷

আরাফাতুল ইসলাম

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

তারপরও কি কোনো আশা আছে? জার্মানির ক্রিকেট ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান মেন্টাল শরণার্থীদের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন৷ কয়েকদিন আগে এক ব্রিটিশ পত্রিকাকে তিনি কিছু তথ্য দিয়েছেন৷ তাঁর হিসেব অনুযায়ী, জার্মানিতে এখন শক্ত বল ব্যবহার করে ক্রিকেট খেলা খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছয় হাজারেরও বেশি৷ আর টেপটেনিসে ক্রিকেট খেলছেন আরো কয়েক হাজার মানুষ৷ এসব ক্রিকেটারের ৯৫ শতাংশই হচ্ছে এশীয় বংশোদ্ভূত৷ শুধু তাই নয়, পাঁচ বছর আগে জার্মানিতে ক্রিকেট ক্লাব ছিল ৬০টি, এখন হয়েছে ৩৭০টি৷

ব্রায়ানের এসব পরিসংখ্যান দেখলে কিছুটা আশাবাদী হয়ত হওয়া যায়৷ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিসি থেকে অল্পবিস্তর আর্থিক সহায়তা পায় ফেডারেশন৷ ইউরোপীয় স্তরে দলটির ছোটখাট কিছু সাফল্যও আছে৷ তবে মূল বাধা সম্ভবত জার্মানির মূল সমাজে ক্রিকেটর গ্রহণযোগ্যতা৷ এ দেশের মানুষের মাঝে জনপ্রিয় না হলে ক্রিকেটের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করা সম্ভব হবে না৷ সেক্ষেত্রে আদনান সাদেকের পরামর্শটা গ্রহণ করা যেতে পারে৷ তিনি মনে করেন, স্থানীয় স্কুলগুলোতে ক্রিকেট জনপ্রিয় করার চেষ্টা করতে হবে৷ আর এ জন্য জার্মান ভাষা জানে এমন নিবেদিত ক্রিকেটার এবং কোচের দরকার৷

কেমন লাগলো ব্লগ-পোস্টটি? মন্তব্য লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন