ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে করোনার সাইরেন | বিশ্ব | DW | 07.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে করোনার সাইরেন

বাংলাদেশের করোনাভাইরাসের নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার গত ২৪ ঘন্টায় যেমন, পাঁচ মাসের সামগ্রিক হিসেবেও তেমন। ২২.৪৫ শতাংশ আর ২০.৪০ শতাংশ।

 (Getty Images/AFP/G. Wood)

ফাইল ছবি

জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে এ হার কিনা ৭৫ শতাংশ! ২৪ জনের পরীক্ষায় ১৮ জনের শরীরেই ধরা পড়েছে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি!

বিস্ময়কর এ পরিসংখ্যান! চোখ কপালে তুলে দেবার মতো চিত্র। বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্যানভাসে তাই ধূসর অনিশ্চয়তার দাপাদাপি আবার। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পিছু ফেলা থেকে এখনো যে অনেক দূরে, সে উপলব্ধিই যেন হচ্ছে নতুন করে।

সেই মার্চ থেকেই অবরুদ্ধ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। একে একে বন্ধ সব খেলা। সব আয়োজন। প্রায় পাঁচ মাস পর মরিয়া হয়ে ফেরার চেষ্টাটা বড় অর্থে শুরু ফুটবলের মাধ্যমে। ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ এশিয়ান কাপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের দ্বিতীয় ধাপের খেলার সূচি আগামী অক্টোবরে। সে লক্ষ্যেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ডাকা। গাজীপুরে এক প্রাইভেট রিসোর্ট ভাড়া করে নিবিড় ও বিচ্ছিন্ন অনুশীলনের পরিকল্পনা।

এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক। বিপত্তি ঘটে ফুটবলারদের করোনাভাইরাস পরীক্ষায়। ৩৬ ফুটবলারের মধ্যে দুই প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া ডেনমার্ক এবং কাজী তারিক রায়হান ফিনল্যান্ড থেকে ফিরতে পারেননি ফ্লাইট জটিলতায়। চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় মাসুক মিয়া, মতিন মিয়া ও আতিকুর রহমানকে ছাড়েনি ক্লাব বসুন্ধরা। বাকি ৩১ জনের তিন ধাপে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

অডিও শুনুন 04:24

‘সন্দেহের মধ্যে আছি, কী বলবো আর!’

প্রথম দিনে ১২ জনের মধ্যে বিশ্বনাথ ঘোষ, এমএস বাবলু, নাজমুল ইসলাম ও সুমন রেজা এই চারজনের শরীরে ওই ভাইরাসের উপস্থিতি। ৩৩.৩৩ শতাংশ শনাক্তের হারই তো বেশি। সেটি দ্বিতীয় দিনে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮.৩৩ শতাংশ। এ দিন পরীক্ষা করা ১২ জনের মধ্যে সাতজনই যে করোনাভাইরাস পজিটিভ! সুশান্ত ত্রিপুরা, শহিদুল আলম, সোহেল রানা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, টুটুল হোসেন বাদশা, আনিসুর রহমান জিকো ও রবিউল হাসান। বাফুফে প্রথম দিনের চার জনকে নিজ নিজ বাড়ি পাঠিয়ে দিলেও দ্বিতীয় দিনের সাত জনকে আইসোলেশনে রেখেছে নিজেদের ব্যবস্থাপনায়।

ক্যাম্পে নতুন ফুটবলার ডাকা হবে, নাকি পুরনোদের সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করা হবে, কিভাবে সীমিতসংখ্যক ফুটবলার নিয়ে অনুশীলন হবে- সব কিছুই এখন এলোমেলো।

জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ ভীষণ হতাশ, ‘‘কঠিন পরিস্থিতিতেও সব সামলে আমরা ক্যাম্প ডাকলাম। সেখানে যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় কী! দেখি, কয়েকদিনের মধ্যেই কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে ওদের আবার টেস্ট করাবো।''

করোনাভাইরাস টেস্টের ফল নিয়ে খানিকটা সন্দেহ তাঁর কণ্ঠে। হবে না কেন! শেষ পর্যন্ত মোট যে ১৮ জন ফুটবলারের করোনা পজিটিভ হয়েছে, তাঁদের কারোই যে কোনো উপসর্গ ছিল না। কিংবা এখনো নেই।

অডিও শুনুন 04:33

‘অনুশীলন করছিলাম, সব কিছু স্বাভাবিক’

এ কারণেই মিডফিল্ডার সোহেল রানা করোনাভাইরাস টেস্টের ফল মানতেই পারছেন না, ‘আমরা দুদিন আগেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে টেস্ট করিয়েছি। সেখানে নেগেটিভ এসেছে। দুদিন আগে নেগেটিভ, দুদিন পরে পজিটিভ, জিনিসটা কেমন না? সন্দেহের মধ্যে আছি, আসলে কী বলবো আর!''

 শারীরিক কোনো সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি, ‘‘আমাদের কারো মধ্যেই কোনো লক্ষণ নেই। এ সময়ে ব্যক্তিগত ট্রেনিং করেছি। কোনো ভিড়ে যেতাম না। এখন কিভাবে মেনে নেব যে, আমাদের পাজিটিভ হলো!''

ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষও বিস্মিত। শুধু বিস্মিত না, বেশ বড়সড় ধাক্কাই খেয়েছেন তিনি, ‘‘আমার শারীরিক অবস্থা ভালো। করোনার কোনো লক্ষণ নেই। অনুশীলন করছিলাম; সব কিছু স্বাভাবিক। এমন অবস্থায় যদি টেস্টের ফল পজিটিভ আসে, তাহলে শকড হবারই কথা। আমি নিজেই শকড।'' চিকিৎসকের কথায় অবশ্য বুঝতে পারছেন, উপসর্গ ছাড়াও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া যায়,‘‘ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেও জেনেছি, শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ স্বাভাবিক চলাফেরা-খাওয়া-দাওয়া করছেন, কিন্তু তাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আমি ও গোলকিপার রানা একসঙ্গে অনুশীলন করেছি। এখন ওর টেস্টের ফল এসেছে নেগেটিভ, আমার পজিটিভ।''

জাতীয় দলের ফুটবল ক্যাম্প শুরুতেই এমন বিপর্যয়। বাংলাদেশের অন্য খেলার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাই আরো বেশি সতর্ক। জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে ব্যক্তিগত অনুশীলন করেছেন এক দফা। ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় তা শুরু হচ্ছে শনিবার থেকে। আরো বড় কলেবরে, আরো বেশিসংখ্যক ক্রিকেটার নিয়ে। তবে দলীয়ভাবে অনুশীলন শুরুর আগে ক্রিকেটারদের কোভিড-১৯ টেস্ট করানো হবে বলে জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান, ‘‘এখন তো সবাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনুশীলন করছে। স্কোয়াড নিয়ে অনুশীলন শুরুর আগে সবাইকে করোনাভাইরাসের টেস্ট করানো হবে। কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে আলাদা করে আইসোলেশনে রাখা হবে। ওই ১৫ দিন সময়টা হাতে নিয়েই আমরা অনুশীলন সূচি করবো৷''

অডিও শুনুন 02:39

‘কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হবে’

ফুটবল ক্যাম্পে এত জন করোনাআক্রান্ত শুনে বিহবল আকরাম। জাতীয় ক্রিকেট দল দেখভালের দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান অবশ্য নিজেদের হাতে সময় থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে, ‘‘(ফুটবল নিয়ে) আর কী বলবো! তবে আমাদের হাতে সময় আছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অক্টোবরের দিকে সিরিজ হলে কোয়ারান্টিনের সময় ধরেই আমরা অনুশীলন শুরু করবো।''

ফুটবলারদের এমন খবরে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনও। সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল তবু নিজেদের অনুশীলন শুরু করে দিতে চান আগামী সপ্তাহ থেকে, ‘‘ফুটবলের ব্যাপারটি মাথায় রেখেছি। তবে যাঁরা আমাদের ক্যাম্পে আসবে, ওরা বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না। প্রতি দিন ভার্চুয়াল ক্লাস নিতাম। ওদের বলেছি, যদি করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়, তাহলে ডাকা হবে না। ওরা সবাই তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। সামনের সপ্তাহ থেকে অনুশীলন ক্যাম্প শুরুর চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র লাগবে, সেটি পেলেই শুরু করবো।'' ১৫-১৬ জন আর্চারকে নিয়ে শুরু হবে ক্যাম্প। ক্যাম্পে এনে তিন দিন কোয়ারান্টিনে রাখার পর কোভিড-১৯ টেস্ট, আরো তিন-চার দিন পর আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরুর কথা জানান তিনি।

কিন্তু ক্রিকেট, আর্চারি কিংবা অন্যান্য খেলার ক্রীড়াবিদদের কোভিড১৯ টেস্টের ফল যদি হয় ফুটবলারদের মতো, তাহলে খেলা চালিয়ে নেয়াই কঠিন। শনাক্তের হার ৪৫.৮৩ শতাংশ তো যেনতেন ব্যাপার নয়! রীতিমতো আতঙ্কের সাইরেন বাজিয়ে দেয়াই!

বিজ্ঞাপন