ফিরে দেখা ২০১৭: মানবিক বাংলাদেশ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাংলাদেশ | বিশ্ব | DW | 31.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ফিরে দেখা ২০১৭: মানবিক বাংলাদেশ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ বিশ্বে এক মানবিক রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি গড়ে তুললেও অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচনার মুখে ছিল সরকার৷ দ্রব্যমূল্য, প্রধান বিচারপতি, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে এ বছর৷

default

সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে এ বছর

২০১৭ এর ২৫শে আগস্ট থেকে নতুন করে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা৷ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন৷ বাংলাদেশ সরকার তাদের কক্সবাজারে আশ্রয় দিয়েছে৷ এই নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এবং শিশুদের আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসাসহ নানা সাহায্য করছে বাংলাদেশ৷ সরকারের পাশাপাশি নানা সংগঠন ও সাধারণ মানুষ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের এই মানবিক আচরণের ভূঁয়সী প্রশংসা করেছে জাতিসংঘসহ অনেক আর্ন্তজাতিক সংগঠন৷ একটি মানবিক রাষ্ট্রের এই ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য প্রশংসিত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও৷

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের  সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ২০১৭ সালে মানবাধিকার নিয়ে পরস্পরবিরোধী ঘটনা ঘটেছে৷ মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যেমন মানবিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়েছে তেমনি গুম এবং নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে৷ বিশেষ করে বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করেই গুম এবং নিখোঁজের ঘটনা বেড়ে গেছে৷''

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে সাবেক কূটনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইটি বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীসহ অনেকে গুম, অপহরণ ও নিখোঁজের শিকার হন৷ তাদের কেউ ফিরে এসেছেন আবার কেউ আসেননি৷ আবার কেউ নিখোঁজ হওয়ার অনেক দিন পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে৷ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিখোঁজের মধ্য দিয়ে এববছর নিখোঁজ এবং গুমের ঘটনা সাধারণের মনে উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে৷

এছাড়া এবার বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পাঠ্যপুস্তক বিতর্ক৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে৷ আর শিক্ষা খাতে দুর্নীতি বছরের শেষে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:18
এখন লাইভ
03:18 মিনিট

‘গুম এবং নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে’

এমনকি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা ক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতি অনুমোদনের কথা বলেন৷ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন,‘‘শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে৷ মানেরও অধঃপতন ঘটছে৷ শিক্ষায় দুর্নীতি পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে৷''

হাফিজ বলেন, ‘‘দেশে দুর্নীতি বেড়েছে৷ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, কথা বলার স্বাধীনতা কমেছে৷ আর  প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে৷ একটি রায়কে কেন্দ্র করে একজন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা নজীরবিহীন৷''

সংবিধানের ষোড়শ সংবিধান বাতিলের রায় আপিলে বহাল রাখা নিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা চাপের মুখে পড়েন৷ ওই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারপতিদের অভিসংশনে সংসদের ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়৷ এরপর ছুটি নিয়ে এসকে সিনহা অসুস্থতা দেখিয়ে দেশত্যাগ করেন৷  পরে ১১ নভেম্বর বিদেশ থেকেই পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন৷

বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে একটি ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়৷ এটি অপসারণ নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেয় হেফাজতে ইসলাম৷ অন্যদিকে ভাস্কর্য না সরানোর পক্ষে অবস্থান নেয় সুশীল সমাজের অনেকে৷ শেষপর্যন্ত ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের মূল প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে ভাস্কর্যটি আদালতের বর্ধিত (অ্যানেক্স) ভবনের সামনে স্থাপন করা হয়৷

অডিও শুনুন 05:00
এখন লাইভ
05:00 মিনিট

‘একটি রায়কে কেন্দ্র করে একজন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা নজীরবিহীন’

২০১৭ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বন্যা পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে৷ বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর হিসেবে, হাওরে আগাম বন্যা ও ৩২ জেলায় মৌসুমি বন্যায় মোট ১৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে৷ এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট মানুষের সংখ্যা ৮২ লাখ ১৭ হাজার ৪৩২ জন৷ ক্ষতিগ্রস্ত মোট ফসলি জমির পরিমাণ ছয় লাখ ছয় হাজার ৯৫৫ হেক্টর৷ এর মধ্যে এক লাখ দুই হাজার ৮০৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে এবং পাঁচ লাখ চার হাজার ১৪৭ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

এছাড়া চলতি বছরে চালের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেছে৷ সরকারকে চাল আমদানি করতে হয়েছে৷ পেঁয়াজের দামও রেকর্ড বেড়েছে৷ এই অভিঘাত নতুন বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে৷

বাংলাদেশে ২০১৮ সালকে নির্বাচনের বছর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে৷ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশে আরো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘‘২০১৭ নির্বাচনের প্রস্তুতির বছর ছিল। নির্বাচন কমিশন কতটা প্রস্তুত তা বোঝা যাচ্ছে না৷ তবে যদি নির্বাচন ভালো না হয় তাহলে দেশে আরো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে৷ দেশে সুশাসন আসেনি৷ গণতন্ত্র না এলে সুশাসন আসবে না৷’’

অডিও শুনুন 02:33
এখন লাইভ
02:33 মিনিট

‘যদি নির্বাচন ভালো না হয় তাহলে দেশে আরো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে’

হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘‘২০১৭ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে৷ রাজনৈতিক পরিবেশের অবনতি ঘটেছে৷ দেশের মানুষ এখন আর প্রতিবাদও করে না৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘দেশে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিবেশ রয়েই গেছে৷ কোনো সমঝোতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না৷''

২০১৭ সালে বাংলাদেশে গণপরিবহন ব্যবস্থায় উবার নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, আলোচনায় এসেছে পাঠাও৷ সিএনজি অটোরিকশা এবং ট্যাক্সি ক্যাবের দৌরাত্ম্যের মুখে এই দু'টি পরিবহন সেবা রাজধানীবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে৷ আর এই সেবা এখন বিভাগীয় ও জেলা শহরেও সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে৷

এবছর জিডিপি-তে রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে,  যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি৷ বিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২৷ ২০১৫-১৬ সালের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ১৭ ভাগ বেশি৷ ফলে জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ এই দুই বছর বাদ দিলে আগে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশের ঘরে৷

বাংলাদেশের মানুষের এখন মাথাপিছু আয় বছরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা৷ আর এ বছরই শুরু হয়েছে পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ৷ অনেক বিতর্কের পর নিজস্ব অর্থায়নেই এই সেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ৷

এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন