ফিরে আসছে পাটের সুদিন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.09.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

ফিরে আসছে পাটের সুদিন

সোনালি আঁশ পাটের দিন আবার ফিরছে৷ বর্তমানে কৃষকরা পাটচাষ করে আগের মতো অর্থনৈতিক লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন৷

default

বগুড়ার একটি গ্রামের বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন৷ স্বামী মারা গেছেন কয়েক বছর হলো৷ এখন এক মেয়ে আর এক ছেলেই তার সম্বল৷ কিছুদিন হলো পাট তোলায় তিনি খুব ব্যস্ত৷ সঙ্গে ছেলেমেয়েকেও টুকটাক কাজে লাগাচ্ছেন৷ কেননা পাটের সুদিন আবার ফিরে আসছে৷ আম্বিয়া বলেন, এক বছর আগে পাট থেকে যে টাকা আয় করতেন তিনি এখন পাচ্ছেন তার দ্বিগুন৷ তাই খুশি আম্বিয়া৷

আম্বিয়া খাতুনের এই কথার সত্যতা মিললো বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি'র পরিসংখ্যানে৷ তাদের হিসেবে গত জুনমাসে যে আর্থিক বছর শেষ হয়েছে সে বছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ১২০ কোটি ডলার৷ তিন বছর আগের চেয়ে এই অর্থ তিনগুন বেশি৷ ফলে তৈরি পোশাক খাতের পর এখন পাট থেকেই বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেশি৷

ইপিবি'র প্রধান নির্বাহী জালাল আহমেদ জানালেন, গত অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি থেকে ভাল খবর আসায় এবার তারা লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ তারা আশা করছেন, এবার এই খাত থেকে ১৩৪ কোটি ডলার আয় করতে পারবেন৷

Jutetaschen

বিশ্ববাজারে পাটের ব্যাগের চাহিদা বাড়ছে

বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও বলছেন পাটের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল৷

পাটশিল্পে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের পরিবেশ সচেতনতা৷ তারা পলিথিনের পরিবর্তে এখন পরিবেশবান্ধব এবং সহজে পচে যায় এমন জিনিস ব্যবহার করতে চায়৷ এক্ষেত্রে পাটজাত পণ্য তাদের অন্যতম পছন্দ৷

বাংলাদেশেও আইন করে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে৷ কিন্তু তারপরও কাজ হচ্ছে না৷ জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে দশ লক্ষ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশে৷ আর বুড়িগঙ্গার নীচে তৈরি হচ্ছে হচ্ছে পলিথিনের পাহাড়৷

বর্তমানে তুরস্ক আর ভারতে বেশিরভাগ পাটজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ৷ এছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোতেও পাটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে৷ আর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে অল্প পরিমাণে হলেও পাটজাত পণ্য যাচ্ছে৷

পাটের এই সুদিনের কথা বিবেচনা করে সরকার একের পর এক বন্ধ থাকা পাটকলগুলো খুলে দিচ্ছে৷ ইতিমধ্যে ১০টি পাটকল চালু হয়েছে৷ সামনে আরও হবে বলে জানা গেছে৷ ফলে পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ে যারা বেকার হয়ে গিয়েছিলেন, তারা আবার কাজ পাচ্ছেন৷

পাট থেকে আয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকে এখন পাটচাষের দিকে নজর দিচ্ছেন বলে জানালেন কৃষক মুজিবুর রহমান৷ তিনি বলেন, পাট চাষ করলে যে শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় তা নয়৷ রান্নার কাজে এবং ঘরের আশেপাশে খেতে খামারে বেড়া দেয়ার কাজেও কাজে লাগে পাটকাঠি৷

তবে অনেক ব্যবসার মতো পাটখাতেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম দেখা যাচ্ছে৷ ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাষীরা পাট বিক্রি করে কম টাকা পাচ্ছেন৷ কিন্তু তাতেও খুশি আতাউর রহমান৷ তিনি বলছেন, ‘‘আমরা জানি ফড়িয়ারা আমাদের অনেক কম টাকা দেয়৷ কিন্তু যেহেতু আমাদের পক্ষে শহরে পাট নিয়ে যাওয়া কষ্ট তাই আমরা সেটা মেনে নিয়েছি৷''

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

বিজ্ঞাপন