ফিনল্যান্ডে মাশরুম সংগ্রহ করে লাখপতি! | অন্বেষণ | DW | 31.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ফিনল্যান্ডে মাশরুম সংগ্রহ করে লাখপতি!

জঙ্গলে গিয়ে মাশরুম ও অন্যান্য কিছু জংলি ফল সংগ্রহ করা ইউরোপের অনেক মানুষের শখের মধ্যে পড়ে৷ ফিনল্যান্ডে অনেকের কাছে সেটা বাড়তি আয়েরও উৎস৷ গবেষকরা গোটা প্রক্রিয়াকে লাভজনক করে তোলার চেষ্টা করছেন৷

বনজঙ্গল নিয়ে গবেষণা শুধু গাছপালা ও কাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়৷ জমিতেও নানা মূল্যবান সম্পদ বেড়ে ওঠে৷ তার মধ্যে কয়েকটি আবার বেশ সুস্বাদু! ফিনল্যান্ডের কারেলিয়ায় মাশরুম ও বেরি বা জামের মতো ফলের মরসুম চলছে৷ এক ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানীরা মাপজোক করছেন৷ জঙ্গলের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যের ফলনের পূর্বাভাষ দিতে তাঁরা এক প্রণালী সৃষ্টি করেছেন৷ গবেষক হিসেবে কাউকো সালো মনে করেন, ‘‘আমাদের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা সত্যি খুব কার্যকর, কারণ জঙ্গলে গিয়ে মাশরুম ও জাম তোলার সেরা সময় কখন, মানুষ তা জানতে চান৷ নিজস্ব ব্যবহারের জন্য অথবা কোম্পানিগুলির কাছে সে সব বিক্রি করা যায়৷ ফিনল্যান্ডে এমন ব্যবসা করমুক্ত৷''

গাছে টাকা ফলে না ঠিকই, কিন্তু শুধু ইউরোপেই বছরে প্রায় আড়াইশ' কোটি ইউরো মূল্যের জংলি জাম,মাশরুম, বাদাম ও গাছপালা বিক্রি হয়৷ ইয়ারি মিনা ও তাঁর সহকর্মীরা এই বাজারকে আরও লাভজনক করে তুলতে চান৷ ফিনিশ জঙ্গল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ইয়ারি মিনা বলেন, ‘‘আমরা জঙ্গলের চরিত্র ও সেখানে ফলনের মধ্যে সম্পর্কের প্রতি নজর দিচ্ছি৷ সেই জঙ্গলের ব্যবস্থাপনায় রদবদল করে কীভাবে মাশরুম ও জামের ফলন আরও বাড়ানো যায়, তা বাতলে দিচ্ছি৷''

৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইয়োনসু এলাকায় এক পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে মাশরুম ও জাম কিনছে৷ বছরের সময় অনুযায়ী এক কিলো মাশরুমের জন্য ৪ ইউরো পর্যন্ত দাম পাওয়া যায়৷ মাশরুম সংগ্রহকারী মাটি কন্টুরি বলেন, ‘‘আমার কাছে এটা বাড়তি আয়ের উৎস৷ মরসুম ভালো হলে আমি ৫,০০০ ইউরো মূল্যের মাশরুম তুলতে পারি৷''

এই কোম্পানিও গবেষকদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা আরও বৈচিত্রপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করছে৷ অনিশ্চিত আবহাওয়ার উপর তারা আর নির্ভর করতে চায় না৷ কোম্পানির মালিক মারিয়া পাইভানুরমি বলেন, ‘‘বৃষ্টি অথবা তাপমাত্রার উপর মাশরুমের ফসল নির্ভর করে৷ আগে থেকে প্রস্তুতি নিলেও বাস্তবে কী হবে, তা জানার উপায় নেই৷ প্রতিটি দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, মনে আশা রাখতে হয়৷''

গবেষকরা জঙ্গল থেকে ক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহের শৃঙ্খলের উন্নতি করতে চান৷ তাঁরা জমির মালিক, মাশরুম সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আয় বাড়ানো ও বাড়তি মূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন৷ পরিবেশ অর্থনীতিবিদ রবার্ট মাভসার মনে করেন, ‘‘গোটা ইউরোপে ভালো প্রক্রিয়ার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে৷ সেগুলি খতিয়ে দেখে এই সব অঞ্চলেও তা চালু করার চেষ্টা করছি৷ এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশও গরুত্বপূর্ণ৷ অর্থাৎ যা ফিনল্যান্ডে সফল হচ্ছে, তা স্পেনের দক্ষিণে, অথবা সার্বিয়ায়ও কার্যকর হবে, এমনটা আশা করা চলে না৷ কী কী সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা শুধু সেগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করছি৷''

বাড়তি মূল্য পাবার একটি উপায় হচ্ছে জঙ্গলে সংগ্রহ করা ফসল স্থানীয় পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা৷ একটি কোম্পানি বেরি পিষে এমন গুঁড়া তৈরি করছে, যা বহুকাল অক্ষত রাখা যায় এবং দই বা অন্যান্য খাদ্যে মেশানো যায়৷ গবেষকদের মতে, পণ্যের লেবেলের ক্ষেত্রে আরও উন্নত মানদণ্ড চালু করলে উপকার হবে৷ কারি কোলইয়োনেন বলেন, ‘‘বর্তমান সার্টিফিকেশন ব্যবস্থায় উৎপাদনকারী জঙ্গলেরপণ্যকে অরগ্যানিক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না৷ সেটা বদলানো প্রয়োজন৷''

সভ্যতার আদিকাল থেকে মানুষ প্রকৃতির সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে৷ জঙ্গল সংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে আমরা সবাই আরও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি ও আরও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাবো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন