1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Euromaxx Ägypten Pharao
ছবি: DW

ফারাও নাচের তালে ইটালির গোষ্ঠীর সাফল্য

২৮ অক্টোবর ২০২১

প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের সঙ্গে আধুনিক ইটালির ছোট শহরের ডান্সারদের কী সম্পর্ক থাকতে পারে? ‘টাটিং’ নামের নৃত্যশৈলি আয়ত্ত করে এক নৃত্যগোষ্ঠী সোশাল মিডিয়ায় বিপুল সাড়া তুলছে৷

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF/a-59653377

বাজখাঁই ইলেক্ট্রো বিটের ছন্দের সঙ্গে নিখুঁতভাবে তাল মিলিয়ে শরীর সঞ্চালনই ‘আর্বান থিয়োরি' নামের ইটালীয় নৃত্যগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য৷ তাদের তথাকথিত ‘টাটিং' স্টাইল সোশাল মিডিয়ায় লাখ লাখ অনুরাগীর মন মাতিয়ে চলেছে৷ গোষ্ঠীর সদস্য ফাবিয়ানো পালিয়েরি বলেন, ‘‘টাটিং অনবদ্য এক শৈলি৷ হিপ হপের সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক নেই, বরং অনেকটা স্ট্রিট ডান্স বা পপের মতো৷ তবে একেবারে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷’’

গোষ্ঠীর আরেক সদস্য রিকার্ডো মারানো বলেন, ‘‘সামনে রম্বাস বা চৌকো জ্যামিতিক আকার দেখা যায়৷ নাচতে না জানলেও দর্শকদের সেই নক্সা চোখে পড়ে৷’’

‘হোয়াট এ উইয়ার্ড পিয়ানো' নামের পারফর্মেন্স আসলে মোৎসার্টের সংগীতের তালে এক ধরনের ‘হ্যান্ড ব্যালে’-র মতো৷ সেই ভিডিও ক্লিপটি নয় কোটি ৮০ লাখ বার দেখা হয়েছে৷

‘আর্বান থিওরি'-র নেপথ্যে রয়েছেন রিকার্ডো মারানো, লোরেন্সো পিয়ান্টোনি, ডাভিডে সালা, জেসিকা দেমারিয়া, ফাবিয়ানো পালিয়েরি এবং লেওনার্দো সিগোনা৷ নিখুঁত মুভ আয়ত্ত করতে তাঁরা দিনে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা অনুশীলন করেন৷ হাতেনাতে তার ফলও পাওয়া যায়৷ আর্বান গ্র্যাভিটি, মন্ত্র ও আর্বান ক্লকের মতো হিট নাচগানের দৌলতে শুধু টিকটক প্ল্যাটফর্মেই তাদের এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে৷ রিকার্ডো মারানো বলেন, ‘‘নাচ আমার অন্তরাত্মা৷ নাচ ছাড়া আমাদের অস্তিত্বই সম্ভব নয়! সব অর্থেই নাচ আমাদের জীবন৷ সকালে উঠে নিজেকে প্রশ্ন করি, আজ কী করবো? উত্তর অবশ্যই ‘নাচ'৷ সেটা সত্যি অসাধারণ৷’’

ইটালির উত্তরে লিগুরিয়ান উপকূল তাদের ডেরা৷ ভালেক্রোসিয়া নামের ছোট শহরে তাদের আলাপ হয়৷ নাচের শিক্ষিকা জেসিকা দেমারিয়ার সঙ্গে চার বছর ধরে তারা ‘আর্বান থিয়োরি’ নামের ডান্স স্কুলে নিজেদের স্টাইলের বিকাশ ঘটিয়ে চলেছেন৷ গ্রুপের নামও সেটাই রাখা হয়েছে৷

ইটালির নৃত্যগোষ্ঠী ‘আর্বান থিয়োরি’

২০১৯ সালে তারা ‘ইটালিস গট ট্যালেন্ট' নামের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যান৷ তরুণ নর্তকীদের জন্য সে ছিল এক বিশাল সাফল্য৷ ডাভিডে সালা বলেন, ‘‘অতি সাধারণ ছোট এক আঞ্চলিক শহরের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও এতদূর এগোতে পেরে আমাদের মনে খুব আনন্দ হয়েছিল৷’’

নাচের প্রশিক্ষক জেসিকা দেমারিয়া বলেন, ‘‘এমন অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর আমরা আরও বেশি করে নাচে মনোযোগ দিতে শুরু করি৷ আমরা এত কঠিন পরিশ্রম করতে চেয়েছিলাম, যাতে আমরা নিজেদের নেশাকে পেশায় রূপান্তরিত করতে পারি৷’’

‘টাটিং' শৈলির পেছনে প্রাচীন মিশরের সম্রাট টুটানখামুনের নাম লুকিয়ে রয়েছে৷ শিশু বয়সেই ডাভিডে সালা এই নৃত্যশৈলি আবিষ্কার করেছিলেন এবং ইউটিউব ভিডিও দেখে প্র্যাকটিস করতেন৷ ডাভিডে সালা বলেন, ‘‘আগে মানুষ এটিকে ‘ইজিপ্সিয়ান স্টাইল’ বলতো, কারণ সেটির সঙ্গে ফারাওদের মুভমেন্টের মিল ছিল৷ প্রায় ২০ বছর আগে সেই শৈলি থেকে নতুন এক ধারা উঠে আসে, যার আওতায় ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত হাত নাড়াচাড়া করা হয়৷’’

আর্বান থিওরি অনুরাগীদের জন্যও টাটিং শেখানোর ভিডিও প্রস্তুত করে৷ ডাভিডে বলেন, ‘‘হাত যথাস্থানে রেখে কনুই তুলে ধরুন৷ কনুই সেখানেই রেখে দিন, তারপর হাত তুলুন৷ মুভমেন্টগুলি আলাদা রাখা শিখতে এটা সহজ এক এক্সারসাইজ৷’’

ভালেক্রোসিয়ায় নতুন এক ভিডিওর শুটিং চলছে৷ এবার স্কেটবোর্ডের উপর নাচ দেখা যাবে৷ ছয় জন ডান্সার এর মধ্যে নাচের নেশাকে পেশায় পরিণত করতে পেরেছেন৷ বিজ্ঞাপন ও ইভেন্টের জন্য প্রতিনিয়ত বায়না আসছে৷ তবে ফ্যানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভাব বোধ করছেন তারা৷ জেসিকা দেমারিয়া বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় ধরে শুধু সোশাল মিডিয়ার জন্য ভিডিও তৈরি করার পর কোনো বড় মঞ্চে দর্শকদের সামনে দাঁড়াতে পারলে দারুণ হয়৷ বিশাল সংখ্যক ফলোয়াররা যে আসলে মানুষ, তা দেখার সুযোগ পাবো৷’’

করোনা মহামারি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেই তারা সেই সুযোগের সদ্ব্যাবহার করতে চান৷ একাধিক জায়গায় গিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান করা তাঁদের স্বপ্ন৷ এমন ট্যুরের জন্য আর্বান থিওরির আইডিয়ার অভাব নেই৷

মিশায়েল কাডেরাইট/এসবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Bangladesch Demonstration auf Campus der Universität von Dhaka angegriffen

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ছাত্রলীগের

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান