ফাঁসির দড়ির দিকে এগোচ্ছে নির্ভয়ার ধর্ষকেরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ফাঁসির দড়ির দিকে এগোচ্ছে নির্ভয়ার ধর্ষকেরা

নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলায় ফাঁসিই হবে ধর্ষকদের। অক্ষয় সিং ঠাকুর নামের এক ধর্ষক ফাঁসির আদেশ রদ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

লিখিত বয়ানে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অক্ষয় সিং ঠাকুরের আর্জি ছিল, ‘‌‘‌রাজধানী দিল্লির বায়ু ও জল দূষণে সাধারণ মানুষের আয়ু এমনিতেই কমে যাচ্ছে। তার উপর এই মৃত্যুদণ্ডের নীতি অর্থহীন।'‌'‌‌ এমনিতে আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার অর্থ নতুন করে শুনানি নয়। এক্ষেত্রে মামলার মূল বিষয়ে প্রবেশ করেন না বিচারপতিরা। কীসেব ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা, তাই প্রধান বিবেচ্য। প্রত্যাশিত ভাবেই ‌নির্ভয়ার-‌কান্ডে দোষীদের ফাঁসির আদেশই বহাল রাখল ভারতের শীর্ষ আদালত। আদালতের রায়ে নির্ভয়ার মা আশা সিং আদালতের রায়ে খুশি হলেও ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‌‘‌নরাধমদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার দিক আরো একধাপ এগোলাম।''


এখন ‘‌কিউরেটিভ পিটিশন'‌ দাখিল করতে পারবে জেলবন্দি ধর্ষকরা। এই আবেদনের নিস্পত্তি হতে সময় লাগে না। তারপর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানো যাবে। এজন্য তাদের সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। চারজনই বন্দি রয়েছে দিল্লির তিহার সংশোধনাগারে। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। অন্যদিকে, দিল্লি আদালতে চার দোষীদের দ্রুত ফাঁসির আবেদন জানিয়ে মামলা করেছিলেন নির্ভয়ার মা। সেই মামলার শুনানি আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর নির্ভয়ার বাবা বদ্রীনাথ সিং ক্ষোভে ফুঁসছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ‘‌‘‌সাত বছর পরেও আমার মেয়ে বিচার পায়নি। আর কবে বিচার হবে?‌ আরও কত বাবা-‌মার কোল খালি হলে দোষীরা সাজা পাবে?‌'‌'‌

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, শীতের রাতে, দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে আধমরা করে রাস্তার পাশে ফেলে যায় ছ'‌জন পাষণ্ড। সেই ছয় পাষণ্ডের মধ্যে এক নাবালক তিন বছর জুভেনাইল সংশোধনাগারে থাকার পর ছাড়া পেয়েছে। মূল অভিযুক্ত আত্মঘাতী হয়েছে। ২০১৭ সালে বাকি চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার মধ্যে এক ধর্ষক অক্ষয় কুমার সিং তার ফাঁসির নির্দেশ রদ করার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। এর আগে অন্য তিন ধর্ষক মুকেশ, পবন ও বিনয় একইভাবে পুনর্বিবেচনার আর্জি দাখিল করেছিল। তাদের আবেদনও খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

বুবার ধর্ষক ও দিল্লি পুলিশের আইনজীবীদের মধ্যে সওয়াল জবাব চলেছে বেশ কিছুক্ষণ। অক্ষয়ের আইনজীবী এপি সিং আদালতে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হয়নি। তদন্তে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। এ ব্যাপারে নতুন তথ্য রয়েছে। আদালত সেগুলি খতিয়ে দেখুক।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেছেন, দোষীরা কোনওভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ঈশ্বরও তাদের অপরাধ দেখে লজ্জা পাচ্ছেন। মানবতা বিরোধী জঘন্য অপরাধীদের ক্ষমা হয় না। দোষীরা আইনের সাহায্য নিয়ে অযথা শাস্তি দানে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলায় ২০১৭-র রায়ই ঠিক। তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি হওয়ার আগে ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে। নতুন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি আর ভানুমতী, অশোকভূষণ এবং এস এ বোপান্না।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন