ফতোয়া দিয়েও বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না | বিশ্ব | DW | 09.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাল্যবিবাহ

ফতোয়া দিয়েও বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না

বাল্যবিবাহ মা ও শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ কিন্তু বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই এর প্রচলন বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ এর কারণ আর্থসামাজিক হলেও, ধর্মের নামেও বাধা দেন অনেকে৷

বাল্যবিবাহের বিপক্ষে মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় ফতোয়া দিয়েছে৷ তারপরও বাল্যবিবাহে সমস্যা দেখেন না অনেক মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকরা৷ 

পাকিস্তানে চরম বিভক্তি

ইসলামি দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সেনেটে সম্প্রতি বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ ধার্য করার একটি বিল উত্থাপন করে বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির সেনেটর শেরি রেহমান৷ প্রচণ্ড বিরোধিতা সত্ত্বেও  সেখানে তা পাস হয়৷

কিন্তু নিম্নকক্ষে ইমরান খানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফের মন্ত্রীরা এর শক্ত বিরোধিতা করছেন, যদিও দলটির কিছু সদস্য তার পক্ষেও ছিলেন৷ তবে এখনো বিলটির বিষয়ে সুরাহা হয়নি৷

দেশটির জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য রমেশ কুমার৷ তিনি শুধু বাল্যবিবাহের বয়স ১৮ বছরই নির্ধারণের কথা বলেননি, এর ব্যত্যয়কে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথাও বলেছেন৷ কিন্তু বাধা আসে তাঁর দলের সতীর্থদের কাছ থেকেই৷

ধর্মমন্ত্রী নুরুল হক কাদরি এর বিরোধিতা করে বলেন, এই বিলটি আগে ‘ইসলামিক ইডিওলজিকাল কাউন্সিল'-এ পাঠানো হোক এবং দেখা হোক এটি ‘ইসলামিক' কিনা৷

তবে এই আইনের বিরোধিতাকে ‘ভীতিকর' বলেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী৷ তিনি বলেন, ‘‘যে দেশের ৫০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এমনকি মন্ত্রীরা বাল্যবিবাহের পক্ষে ভোট দেন, সে দেশের ভবিষ্যৎ কী?''

পিটিআই-এর আরেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারি বিলের পক্ষে নিজের মত তুলে ধরেন৷ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘যেখানে জামিয়াতুল আযহার বাল্যবিবাহের বিপক্ষে ফতোয়া দিয়েছে, সেখানে একে অনৈসলামিক বলা হবে কেন?''

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের নারীর অধিকার বিষয়ক কমিশনের সদস্য মারিয়া ইকবাল তারানা বলেন, পাকিস্তানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে একটি বড় সমস্যা৷ 

‘‘পাকিস্তানে মাতৃমৃত্যুর একটি বড় কারণ বাল্যবিবাহ৷ গ্রামে প্রত্যেক ঘরে ঘরে যেহেতু এই সমস্যা, সেখানে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেই,'' বলেন তিনি৷

তবে পাকিস্তানে এই আইনের প্রয়োগ আরো কঠিন হবে বলে মনে করেন আরেক মানবাধিকার কর্মী জিবরান নাসির৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘সিন্ধ প্রদেশে তো এই আইন ইতিমধ্যে আছে৷ কিন্তু এর প্রয়োগ হচ্ছে?''

‘‘আইন দিয়ে কিছু হবে না, যদি না আর্থসামাজিক কারণগুলোর সমাধান করা হয়,'' বলেন জিবরান৷

এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন আছে অনেক আগে থেকেই৷ রাজনৈতিক বা সামাজিক পর্যায়ে এ নিয়ে বিভক্তি পাকিস্তানের মতো নেই৷ কিন্তু তারপরও জাতিসংঘের হিসেবে, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হয়৷ বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ৷ প্রথম তিনটি দেশ আফ্রিকা মহাদেশের৷

ইউনিসেফের মার্চ পর্যন্ত হিসেবে দেখা যায়, ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয় ৫৯ ভাগ বাংলাদেশি মেয়ের৷ আর ১৫ বছরের আগে বিয়ে হয় ২২ ভাগের৷

তবে ইউনিসেফের তথ্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ৷ এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এ ধরনের তথ্য দিয়ে থাকলে তা ঠিক দেয়নি৷ দেশে বর্তমানে বাল্যবিবাহের হার অনেক কমেছে এবং ক্রমান্বয়ে কমে আসছে৷ গ্রহণযোগ্য গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণাতেও বাল্যবিবাহ কমছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে৷ তাই ইউনিসেফের গ্লোবাল ডেটাবেজের তথ্যের সঙ্গে আমরা একমত নই৷''

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দু'বছর আগে ব্যাপক আলোচনা-বিতর্ক হয়৷ তখন তাদের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছর করার পক্ষে প্রস্তাব আসে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংসদে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭' যখন পাস হয়, তখন সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছরই রাখা হয়৷

তবে ‘বিশেষ ক্ষেত্রে' এবং ‘সর্বোত্তম স্বার্থে' আদালতের নির্দেশে ও বাবা মায়ের সম্মতিতে যে-কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ও ছেলের বিয়ে হতে পারবে, এমন প্রবিধানও রাখা হয়৷ অনেকেই এই বিশেষ ক্ষেত্রটি নিয়ে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত এ অবস্থাতেই বিলটি পাস হয়৷

তখন এ প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা৷ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা জোট ‘গার্লস নট ব্রাইডস' বলে, ‘‘আমরা আতংকিত যে নয়া এই আইন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাকে বৈধতা দেয়ার, ধর্ষককে বিয়ে করার ব্যাপারে বাবা-মা মেয়ের উপর চাপ সৃষ্টির ঘটনা এবং সর্বোপরি বাল্যবিয়েতে এগিয়ে থাকা দেশটিতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আরো বাড়াবে৷''

এই আইন শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি করবে বলেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেন৷

 

দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিবাহ

১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীদের ৪৫ ভাগ থাকেন দক্ষিণ এশিয়ায়, অর্থাৎ অঞ্চল ভিত্তিতে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি৷ 

এর মধ্যে বাংলাদেশের পরে আছে ভারত৷ সেখানে ৪৭ ভাগ, নেপালে ৩৭ ভাগ, আফগানিস্তানে ৩৫ ভাগ, ভুটানে ২৬ ভাগ, পাকিস্তানে ২১ ভাগ ও শ্রীলঙ্কায় ১২ ভাগ৷

এছাড়া সবচেয়ে বড় মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়ায় ১৪ ভাগ নারী বাল্যবিবাহের শিকার হন৷

ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিবাহ রোধে কিছু স্বল্প ও দীঘর্মেয়াদী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে৷ এর মধ্যে যেসব আর্থসামাজিক কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টাসহ বিশেষ করে শিশুদের জন্য আইনি ও অন্যান্য সহায়তার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷

তবে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদেরও এই কাজে সম্পৃক্ত করার কথা বলেন অনেকে৷

আতিফ তৌকির/জেডএ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন