ফটোগ্রাফি পেশা চোখে না দেখা যে নারীর | অন্বেষণ | DW | 29.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ফটোগ্রাফি পেশা চোখে না দেখা যে নারীর

চোখে না দেখে কি ছবি তোলা সম্ভব? নাকি শব্দ, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট? দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এক নারী৷ দর্শকরা ছবি দেখে ফটোগ্রাফারের প্রতিবন্ধকতার কথা মনেই রাখেন না৷

অন্ধ হলেও  সিলিয়া কর্ন ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন৷ ১২ বছর বয়সে এক গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে সিলিয়া দৃষ্টিশক্তি হারান৷ কিন্তু কল্পনাশক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি আজও রং চিনতে পারেন৷

লাইটপেন্টিং কৌশল কাজে লাগিয়ে আলোকচিত্রী হিসেবে তিনি লং এক্সপোজারের মাধ্যমে ফটোর উপর আলোর উৎসের নড়াচ়ড়া ফুটিয়ে তোলেন৷ ৫০টিরও বেশি প্রদর্শনীতে তাঁর তোলা ছবি দেখানো হয়েছে৷ সিলিয়া বলেন, ‘‘লাইটপেন্টিং শব্দটির অর্থ আলো আঁকা৷ অনেকটা আলোকেই তুলি হিসেবে হাতে তুলে নেওয়ার মতো বিষয়৷ সেটি দিয়ে আমি রেখা টেনে ছবি সৃষ্টি করতে পারি৷ আগে আমার কাছে রং খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ কিন্তু আমি অন্ধ হয়ে যাবার পর আর রং দেখতে পাবো না ভেবে খুব দুঃখ হয়েছিল৷ সে কারণেই ফটোগ্রাফি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এভাবে আমার জীবনে আবার রং ফিরে এসেছে৷''

ভিডিও দেখুন 03:13

চোখে না দেখা নারী ফটোগ্রাফার

দর্শকদের কাছে সিলিয়ার দৃষ্টিশক্তির অভাব তেমন গুরুত্ব পায় না৷ এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ছবির সামনে দাঁড়ালে মানুষ আড়ষ্টতা কাটিয়ে তোলে৷ তাদের তখন মনেই থাকে না যে আমি অন্ধ৷ সেই মুহূর্তে সেই বাস্তব তাঁদের মনে থাকে না৷ তাঁরা রংয়ের বিন্যাস ও ছবির বিশ্লেষণ নিয়ে মশগুল হয়ে পড়েন৷ তারপর আমার সঙ্গে আলোচনার সময়ে এক সেতুবন্ধ সৃষ্টি হয়৷''

ক্যামেরা সেটিংয়ের মতো প্রযুক্তি সংক্রান্ত কাজের সময়ে সিলিয়ার সাহায্য লাগে৷ মডেলদের  সঠিক পোজের মতো শৈল্পিক বিষয়ে অবশ্যই তিনি সিদ্ধান্ত নেন৷ সিলিয়া বলেন, ‘‘আমি আগে মডেলকে ছুঁয়ে দেখে তাদের উচ্চতা, চুলের ধরন, মুখের গঠন সম্পর্কে একটা ধারণা পাবার চেষ্টা করি৷ তারপর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তাদের ঠিক জায়গায় রাখার চেষ্টা করি৷''

এক সহকারীর সাহায্যে তিনি সেরা ছবিগুলি বেছে নেন৷ আজ তার স্বামী গিডো সেই কাজ করছেন৷

লাইপেন্টিং ছাড়াও সিলিয়া কর্ন প্রচলিত পদ্ধতিতে ছবি তোলেন৷ যেমন বার্লিনের শার্লটেনবুর্গ কেল্লার পার্কে তিনি ছবি তুলেছেন৷ ছবি তোলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সিলিয়া কর্ন বলেন, ‘‘কখনো কখনো ভাবি এখানে একটা ঝোপ থাকতে পারে অথবা কারও হাঁটার শব্দ পাচ্ছি৷ সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলেও হয়তো পরে দেখা যাবে, যে সেই মানুষটি ফ্রেম থেকে সরে গেছেন৷ তার বদলে ছবিতে একটা গাছ স্থান পেয়েছে৷ অথবা শুধু একটা পথ দেখা যাচ্ছে৷ সেটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগে৷''

সিলিয়া কর্ন অন্য যে কোনো মানুষের মতো নিজের সীমা পরীক্ষা করে দেখতে চান৷ সেই লক্ষ্য পূরণ করতে তিনি ফটোগ্রাফিকে হাতিয়ার করেছেন৷

ইয়েন্স ফন লার্খার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক