প্লাস্টিক বর্জন করে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে বালি দ্বীপ | অন্বেষণ | DW | 18.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

প্লাস্টিক বর্জন করে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে বালি দ্বীপ

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের মতো পর্যটনকেন্দ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে৷ একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ বিষয়ে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে৷ সরকারের পাশাপাশি শিল্পজগতও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে৷

আবর্জনার সমস্যা আজ অনেক দেশের জন্যই হুমকি৷ ইন্দোনেশিয়াও তার ব্যতিক্রম নয়৷ বিশেষ করে বালি দ্বীপে এই সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে৷ কুটা উপকূলের মতো বালির পর্যটন এলাকা প্রায়ই বিশেষ করে প্লাস্টিক জঞ্জালে ভরে যায়৷ কারণ এখনো অনেক স্থানীয় মানুষ ও পর্যটক ঠিকমতো জঞ্জাল ফেলেন না৷

প্লাস্টিক বর্জ্য যখন হুমকি

প্লাস্টিক বর্জ্য বিশেষ করে সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ একইসঙ্গে ‘ঈশ্বরের দ্বীপ' বলে পরিচিত এই এলাকায় স্বাচ্ছন্দ্যও কমে চলেছে৷ প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে হুমকির বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা বদলানো শুরুতে কতটা কঠিন ছিল, ‘ট্র্যাশ স্টক' নামের আবর্জনা সাফাই সংগঠনের প্রধান হেন্দ্রা আরিমবাওয়া তা স্বীকার করেন৷

তিনি বলেন, ‘‘বেশি আলোচিত বিষয় না হওয়ায় মানুষকে শিক্ষা দেওয়াই ছিল আমাদের সামনে প্রথম বাধা৷ তখন মানুষ ভেবেছিল, ট্র্যাশ স্টক যা বলছে তা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ তখন মানুষ আমাদের কথায় গুরুত্ব দেয় নি৷ বিশেষ করে ২০১০ সাল নাগাদ বালি দ্বীপে প্লাস্টিক-বিরোধী আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে এমন অবস্থা ছিল৷ তাই বাইরের যে সব মানুষ বালির অবস্থা নিয়ে চিন্তিত, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ৷ তাঁরা দল বেঁধে বালির সৈকত পরিষ্কার করেছেন৷ তবে সে সময়ে ঘনঘন সাফাই হতো না৷ যেমন ট্র্যাশ স্টকে আমরা বল প্রয়োগ করে শিক্ষা দেই না৷ আমরা মানুষের উপর জোর খাটাই না৷ বলি না, জঞ্জাল ছড়িও না, এটা করো, ওটা কোরো না৷ ট্র্যাশ স্টকে বরং আমরা একটা আন্দোলন সৃষ্টির চেষ্টা করি, যাতে মানুষ তাঁদের শৈল্পিক যুক্তিবোধ কাজে লাগিয়ে দেখা, শোনা ও অনুভব করতে পারে৷''

সমাজের বিভিন্ন স্তরের জন্য ওয়ার্কশপ, গানের শো, আলোচনার মতো নানা শৈল্পিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্র্যাশ স্টক দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে সমাজে মানসিকতা বদলাতে চায়৷

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

একাধিক প্লাস্টিক-বিরোধী অভিযান চালিয়ে কিছু ফল পাওয়া যাচ্ছে৷ বালির স্থানীয় সরকার অবশেষে ২০১৮ সালে এক অধ্যাদেশ জারি করে প্লাস্টিকের ব্যবহারের উপর নানা বিধিনিষেধ চাপিয়েছে৷

সাধারণ মানুষ প্লাস্টিক ব্যাগ, স্টাইরোফোম ও প্লাস্টিক স্ট্রয়ের ব্যবহার সীমিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে৷ বাজারহাট ও সুপারমার্কেটে আর প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখা যাচ্ছে না৷ তার বদলে মানুষ পরিবেশবান্ধব থলে ব্যবহার করছে৷ শুধু ক্রেতা নয়, বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছে৷

যেমন বিন্টাং সুপারমার্কেটের ম্যানেজার কাসরিয়ান্টো বলেন, ‘‘আমরা সরবরাহকারীদের সুপারমার্কেট, বিশেষ করে বিন্টাং সুপারমার্কেটে পণ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টির প্রতি নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছি৷ পরিবেশবান্ধব উপায়ে পণ্য প্রস্তুত করার কায়দাও শিখিয়েছি৷ আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মোড়ক হিসেবে কলাপাতা ব্যবহার করে৷ বিশেষ করে কিছু অরগ্যানিক বা হাইড্রোপোনিক পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে৷ কারণ প্লাস্টিকের পাত্রের মধ্যেই সেই পণ্য বেড়ে ওঠে৷ ভবিষ্যতে আমরা পুরোপুরি প্লাস্টিক বর্জনের চেষ্টা করবো৷''

সমাজে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে গভীর সচেতনতার পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে শিল্পজগত ও সরকারের সহায়তার ফলে বালি দ্বীপের সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়৷ বালি দ্বীপে মানুষের জীবন ও চারিপাশের পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে৷

সূর্য সঞ্জয় কাদেক/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন