প্রোটিনের চাহিদা পূরণে পোকামাকড় | অন্বেষণ | DW | 24.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

প্রোটিনের চাহিদা পূরণে পোকামাকড়

বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ছে৷ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে খাদ্য উৎপাদনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে৷ এই সংকট মেটাতে প্রোটিনে ভরপুর পোকামাকড় খাওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

এটাই কি ভবিষ্যতের খাদ্য হতে চলেছে? হয়তো বা তাই৷ ২০১৮ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে পোকামাকড় থেকে খাদ্য তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে কয়েকটি বড় সুপারমার্কেট কোম্পানি নানা পণ্য বিক্রি করছে৷

সেগুলি হয় মিল ওয়ার্ম অথবা গোটা কীট দিয়ে তৈরি৷ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে৷ আসলে কিন্তু সব পোকাই খাওয়া যেতে পারে৷ বিশেষ করে এশিয়ার কিছু দেশে আদিকাল থেকেই রান্নায় পোকামাকড়ের ব্যবহারের চল রয়েছে৷ এমনকি কয়েকটি পদের বিশেষ কদর করা হয়৷ বলা বাহুল্য, ইউরোপে অবশ্য বিষয়টি মোটেই অতটা সহজ নয়৷ সেখানে খাবারের জন্য নির্দিষ্ট পোকামাকড় পালন করতে হলে কড়া বিধিনিয়ম মেনে চলতে হয়৷ বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি৷

পঙ্গপাল, ঝিঁঝিপোকার পাশাপাশি মিলওয়ার্ম ও বাফেলো ওয়ার্মও পালন করা হয়৷ বিশেষ এক ধরনের গুঁড়ো এই সব পোকামাকড়ের খোরাক৷ মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই পোকা খাবার উপযুক্ত হয়ে ওঠে৷ তার পরের চার সপ্তাহ ধরে বিশেষ ডায়েট খাইয়ে পোকার পাকস্থলি পরিষ্কার করা হয়৷ কারণ পেটের মধ্যেই বেশি ব্যাকটিরিয়া থাকে৷ অবশেষে পোকার শরীর ভালো করে ধুইয়ে আচমকা জমিয়ে ফেলা হয়৷ বাজারে আনার আগে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী শেষ পদক্ষেপ হলো কমপক্ষে ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপে পোকাগুলি গরম করা৷   

প্রশ্ন হলো, আদৌ পোকামাকড় খাওয়ার প্রয়োজন কী? গোটা বিশ্বে দ্রুত বেড়ে চলা জনসংখ্যার চাপে জাতিসংঘ ও একাধিক বিশেষজ্ঞ বহুকাল ধরে ভবিষ্যতের খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় ব্যবহারের ডাক দিয়ে চলেছেন৷ একমাত্র এভাবেই মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব৷ খাদ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে আন্দ্রেয়া ফাডানি মনে করেন, ‘‘পোকামাকড় প্রোটিনে ভরপুর৷ ফ্যাটও কম নেই৷ আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে রুটির পাশাপাশি এ সবও দারুণ খাদ্য হয়ে উঠতে পারে৷''

টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়াও পোকামাকড়ের আরেকটি সুবিধা৷ পোকা দ্রুত বেড়ে ওঠে৷ খুব কম খোরাকের প্রয়োজন হয়৷ পোকা পালন করতে কম জ্বালানী প্রয়োজন হয়৷ এক কিলো গরুর মাংসের জন্য প্রায় ১৫,০০০ লিটার পানি প্রয়োজন৷ এক কিলো পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে মাত্র চার হাজার লিটার পানি লাগে৷ গরু পালন করতে হলে দিনে প্রায় ৮ কিলো খোরাক লাগে, পোকার ক্ষেত্রে মাত্র দুই কিলো৷

পোকামাকড় দিয়ে কী কী খাদ্যপণ্য তৈরি হয়? কিছু দোকানের পণ্য সত্যি বিস্ময়কর রকম বৈচিত্র্যে ভরা৷ নুডলস, বার্গার, ম্যুসলি, এনার্জি বার থেকে শুরু করে পোকামাকড়ের চিপস পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে৷ এমন সব খাদ্যপণ্যের স্বাদ কেমন? কেউ কেউ বলেন, খেতে খারাপ নয়৷ না জানলে মনে হতো ফুল গ্রেন-যুক্ত কোনো খাবার খাচ্ছি৷

একটি বার্গার রেস্তোরাঁয় মাংসের বদলে পোকামাকড়ের বার্গারও পাওয়া যাচ্ছে৷ এই পদের পোশাকি নাম ‘পরশু'৷ বাকি বার্গারের তুলনায় এটির দাম কিছুটা বেশি হলেও গ্রাহকদের আগ্রহ কিন্তু কম নয়৷ অনেকে মনে করেন, ভিন্ন স্বাদ গ্রহণ করা যেতেই পারে৷ তাছাড়া অনেক দেশেই এসব খাওয়া হয়৷ বিষয়টি শুধু মনের ব্যাপার৷

অর্থাৎ সাহস করে কামড় বসানোর জন্য শুধু একটু সাহসের প্রয়োজন৷ বাকিটা রুচির বিষয়৷

বেটিনা ফিগার/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন