প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই অ্যামেরিকায় করোনা টিকা বিতরণ! | বিশ্ব | DW | 03.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই অ্যামেরিকায় করোনা টিকা বিতরণ!

মার্কিন কর্তৃপক্ষ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে করোনা প্রতিষেধক বিতরণের পরিকল্পনা করে তোপের মুখ পড়ছে৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ উঠছে৷

করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার ও নিজের দেশে সেই টিকা বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কতটা অবাস্তব হতে পারে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক দাবি তা স্পষ্ট করে দিয়েছে৷ সে দেশ প্রথম টিকা আবিষ্কারের কৃতিত্ব দাবি করলেও বাকি বিশ্বের বৈজ্ঞানিক, গবেষক ও চিকিৎসকেরা সে বিষয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ এবার অ্যামেরিকাও আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক বিতরণের প্রস্তুতি শুরু করছে৷ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে সে দেশের মানুষ নাকি এমন টিকা নিতে পারবেন৷

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ সিডিসি লাল ফিতের ফাঁস এড়িয়ে করোনা টিকা বিতরণের এক রূপরেখা তুলে ধরেছে৷ রাজ্য সরকারগুলিকে লেখা এক চিঠিতে ২০২০ সালের ১লা নভেম্বরের মধ্যে টিকা বিতরণ কেন্দ্রগুলি পুরোপুরি কার্যকর করে তোলার ডাক দিয়েছে৷ ২৭শে আগস্ট তারিখে লেখা সেই চিঠিতে সিডিসি প্রধান রবার্ট রেডফিল্ড রাজ্যগুলিকে অনুমতির প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচি সম্ভব করার উপর জোর দিয়েছেন এবং সে ক্ষেত্রে সহযোগিতার অনুরোধ করেছেন৷

বলা বাহুল্য, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন উদ্যোগের পেছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন সমালোচকরা৷ তাঁদের ধারণা, করোনা সংকট ও তার পরিণাম হিসেবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামলাতে নিজস্ব ব্যর্থতা ঢাকতেই তড়িঘড়ি করে টিকা বিতরণের ঘোষণা করছে সরকার৷ এভাবে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করে দ্বিতীয় কার্যকালের স্বপ্ন দেখছেন ট্রাম্প৷

এমন রাজনৈতিক চাপের মুখে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা আবিষ্কার ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলি শেষ করা সম্ভব নয় বলে বিশ্বজুড়ে প্রায় সব বিশেষজ্ঞই মনে করেন৷ আপাতত অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না এবং ফাইজার ও বায়োনটেক ওষুধ কোম্পানি করোনা ভাইরাস মোকাবিলার লক্ষ্যে টিকা তৈরির কাজে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে৷ বর্তমানে বেশ কয়েক হাজার মানুষের উপর তাদের ‘ফেজ থ্রি’ পরীক্ষা চলছে৷ সেই পরীক্ষায় সাফল্য এলে তবেই টিকা চূড়ান্ত হতে পারে৷ স্বাভাবিক অবস্থায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কোনো রকম ঝুঁকি এড়াতে সব দিক বিবেচনা করে টিকার ছাড়পত্র দিয়ে থাকে৷ সেই কাজে বেশ কয়েক মাস সময় লাগে৷ মহামারি বিশেষজ্ঞ লরি গ্যারেট এক টুইট বার্তায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে মাত্র ৫৯ দিনের মধ্যে অ্যামেরিকায় কোভিড-১৯-এর টিকা বিতরণ সম্পূর্ণ অবাস্তব পরিকল্পনা৷ তাঁর মতে, তড়িঘড়ি করে এমন উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক৷

সিডিসি টিকা আবিষ্কারের তিনটি সম্ভাব্য সময়সীমা বিবেচনা করছে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত ছাড়পত্র ও বিতরণের আগাম প্রস্তুতির পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে বয়স্ক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে টিকা দেবার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ অবকাঠামো প্রস্তুত রাখার বিষয়ে তেমন কোনো বিতর্ক না থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে টিকা বিতরণের প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় দূর হচ্ছে না৷ ‘ফেজ থ্রি’ পরীক্ষার সময়ে কাটছাঁট করলে তার পরিণাম মারাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ৷ সুস্থ মানুষকে এমন টিকা দিলে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন৷ সিডিসি প্রধান রেডফিল্ড অবশ্য রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন৷

এসবি/কেএম (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন