প্রার্থীকে লাথি, উপনির্বাচনেও তীব্র রেষারেষি | বিশ্ব | DW | 28.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

প্রার্থীকে লাথি, উপনির্বাচনেও তীব্র রেষারেষি

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনে ভোটের দিনে প্রার্থীকে লাথি মেরে ঝোঁপে ফেলে দেয়ার দৃশ্য ভাইরাল৷ নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে এক দুষ্কৃতী৷

বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার নির্বাচনের দিন সকালে আক্রান্ত হন

বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার নির্বাচনের দিন সকালে আক্রান্ত হন

লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসনে জেতার ফলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে বিজেপি৷ সেই ভোটের পর তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন সংখ্যায় কম হলেও রাজনৈতিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদর এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সোমবার৷ করিমপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার নির্বাচনের দিন সকালে আক্রান্ত হন৷ তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে৷ আক্রান্ত যে তিনি হয়েছেন তা স্পষ্ট সংবাদমাধ্যমের ছবিতেও৷ বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করছিলেন জয়প্রকাশ৷ ঘিয়াঘাট ইসলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ ও ৩৩ নম্বর বুথের কাছে কয়েকজনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়৷ তারপর একজন লাথি মেরে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়৷ বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা৷ তাঁদের ক্যামেরায় উঠে এসেছে পদাঘাতের দৃশ্য৷ সেই ছবি নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায় সারা দেশে৷

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচন চলাকালীন হিংসা কোনো নতুন ব্যাপার নয়৷ রক্তপাত থেকে মৃত্যুর ছবি দেখেছে রাজ্যের মানুষ৷ কিন্তু কোনো দলের রাজ্য সহ সভাপতির ওপর এমন হামলা নজিরবিহীন৷

হামলার জন্য বিজেপি যথারীতি আঙুল তুলেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ তাদের দাবি, প্রার্থীকে লাথি মেরেছে তৃণমূল কর্মী তারেকুল শেখ৷

তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন তৃণমূলকর্মীও অভিযুক্ত৷

ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতারা তৃণমূল নেতারা তারিকুল শেখকে পুলিশের হাতে তুলে দেন৷ তবে

তৃণমূলের নদিয়া জেলা পর্যবেক্ষক, রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তৃণমূল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়৷ বিজেপি প্রার্থী বুথে বুথে গিয়ে গন্ডগোল পাকাচ্ছিলেন৷ তিনি জনরোষের মুখে পড়েছেন৷’’

জয়প্রকাশকে পদাঘাতের দৃশ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মূল নির্যাসকে তুলে ধরেছে৷ এ বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীর আক্রান্ত হওয়া নতুন কিছু নয়, প্রকাশ্যে লাথি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আইন-শৃঙ্খলা কোন জায়গায় রয়েছে৷ সমাজবিরোধীরা এতটাই বেপরোয়া যে ক্যামেরার সামনেও এ কাজ করতে পিছপা হচ্ছে না৷’’

অডিও শুনুন 03:09

প্রকাশ্যে লাথি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আইন-শৃঙ্খলা কোন জায়গায় রয়েছে: বিমলশঙ্কর নন্দ

এই রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দেয়। শাসকদল এটা বেশি করে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য৷ এই অভিযোগ তুলে অধ্যাপক নন্দ বলেন, ‘‘আমাদের রাজ্যে সমাজবিরোধীদের হাতে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতা প্রবল রেষারেষির জায়গায় পৌঁছেছে৷ এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নষ্ট হচ্ছে, আমরা নৈরাজ্যের দিকে এগিয়ে চলেছি৷ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে করিমপুরের ঘটনা অশনি সঙ্কেত৷’’

এই রাজ্যের মানুষ অতিমাত্রায় রাজনীতি সচেতন৷ অথচ পরিতাপের বিষয়, এখানেই ভোট লুঠের অভিযোগ ওঠে৷ কংগ্রেস থেকে বাম হয়ে তৃণমূলের আমল, নির্বাচন এলে রক্তপাতের পরম্পরা বদলায় না৷ অথচ প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনকালীন হিংসা অনেকটাই কমেছে৷ এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক নন্দ বলেন, ‘‘বিহার ও উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে জাতপাতের প্রাধান্য রয়েছে৷ সেটা ঘিরে হিংসা যেমন হতো, ভোটের ফলও নির্ভর করত জাতপাতের অঙ্কে৷ কম্পিটিটিভ পলিটিক্স বেড়েছে৷ এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার আইন-শৃঙ্খলা কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছেন৷ এর সুফল বিহার পেয়েছে৷’’ তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে হিংসায় লাগাম টানা যায় না কেন? তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শাসকরা হিংসাকে বৈধতা দেয়৷ তারা যে হিংসা করে, সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না প্রশাসন৷ কিন্তু বিরোধীদের জেলে ভরে দেয় অহরহ৷ তাই রেষারেষি প্রবল হয়ে ওঠে৷ শাসক-বিরোধী এই চোখের বদলে চোখ নীতি জগতকে অন্ধকার করে দিচ্ছে৷ আমরা এর থেকে বের হতে পারছি না৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন