প্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়েতে শুধু নিজেদের পছন্দই যথেষ্ট | বিশ্ব | DW | 10.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

প্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়েতে শুধু নিজেদের পছন্দই যথেষ্ট

ভিন্ন ধর্মের দুই প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর মধ্যে প্রেম বা বিয়েতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই৷ পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে হত্যা এবং খাপ পঞ্চায়েত নিষিদ্ধ করার এক আর্জির শুনানিতে এ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷

অবশ্য এ রায়ের পর পাল্টা হুমকি দিয়েছে খাপ পঞ্চায়েত৷ বলেছে, তাহলে মেয়েদের জন্মই বন্ধ করে দেয়া হবে৷

ভিন্ন ধর্মের দুই প্রাপ্তবয়স্ক নরনারীর মধ্যে স্বমতে বিয়ে বা অসবর্ণ বিয়েতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই, তা সে বাবা মা হোন বা খাপ পঞ্চায়েতের মতো কোনো সামাজিক গোষ্ঠী৷ উত্তর ভারতের দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশে এই ধরনের বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে হত্যা পর্যন্ত করা হয়৷ তথাকথিত ‘অনার কিলিং' এবং খাপ পঞ্চায়েত নিষিদ্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, ‘‘ভিন্ন ধর্মের বা অসবর্ণের প্রেম-বিবাহে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের অধিকার নেই এবং সেটা করা আইনত অপরাধ৷ এটা দুই সাবালক ছেলে-মেয়ের অধিকারের প্রশ্ন৷ খাপ পঞ্চায়েত ভালো কি মন্দ কিংবা বিয়েটা খারাপ, না ভালো আদালত সেই প্রশ্নে যাচ্ছে না৷ সমাজের বিবেকরক্ষক হিসেবে খাপ পঞ্চায়েতের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না৷ আইনই এখানে শেষ কথা৷ স্বগোত্রে বা ভিন্ন ধর্মে বিবাহ প্রাচীন সামাজিক প্রথায় বর্জিত এই যুক্তি আইনের দৃষ্টিতে টেকে না৷''

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের প্রেক্ষিতে খাপ পঞ্চায়েত পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, সমাজে দীর্ঘদিন চলা ঐতিহ্যে কোর্টের হস্তক্ষেপ তারা মানবে না৷ যদি কেউ এই ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চায়, তাহলে মেয়েদের জন্মই বন্ধ করে দেওয়া হবে৷ এক কথায়, কন্যাভ্রুণ হত্যা কিংবা মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো বন্ধ করে দেওয়া, যাতে তাঁরা নিজেরা নিজেদের সিদ্ধান্ত না নিতে পারে৷

খাপ পঞ্চায়েতের পক্ষে আইনজীবী সওয়াল করেন যে, স্বগোত্রে বিয়ে কেন বর্জনীয়, তার পেছনে জিন বিজ্ঞানের প্রশ্ন জড়িত৷ শীর্ষ আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দেন৷ তবুও সমাজে এখনও চলছে অনার-কিলিংয়ের নামে হত্যাকাণ্ড৷ এই তো কয়েকদিন আগে দিল্লিতেই একটি হিন্দু যুবককে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু লোক গলা কেটে খুন করে৷ যুবকের অপরাধ সে একটি মুসলিম তরুণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল পরিবারের অমতে৷ এই নিয়ে দিল্লির রঘুবীরনগর এলাকায় দেখা দেয় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা৷ পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি আয়ত্তে এলেও ঐ এলাকার মুষ্টিমেয় সংখ্যালঘু পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি৷ অনুরূপ ঘটনা দিল্লির লাগোয়া গাজিয়াবাদে৷ একটি হিন্দু ছেলে একটি মুসলিম মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করলে তাই নিয়ে প্রচণ্ড ঝামেলার জেরে ছেলেটি মেয়ের বাপের বাড়ির সামনে আত্মহত্যা করে৷

অডিও শুনুন 03:20
এখন লাইভ
03:20 মিনিট

‘সমস্তটাই রাজনৈতিকভাবে উস্কানিমূলক বিষয়’

হিন্দুত্ববাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘লাভ-জেহাদ'-এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে হিন্দু মৌলবাদী সংগঠনগুলি৷ সম্ভবত এরই অঙ্গ হিসেবে ‘হিন্দুত্ব বার্তা' নামে ফেসবুক পেজে ১০২টির মতো ভিন্ন ধর্মের দম্পতির নাম ঠিকানা পোস্ট করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সহিংস অভিযান চালাবার জন্য ডাক দেওয়া হয়৷ উস্কানিমূলক পেজটি অবশ্য পরে সোশাল নেটওয়ার্ক থেকে মুছে ফেলা হয়৷ কিন্তু তার আগেও গত নভেম্বর মাসে ‘হিন্দুদের প্রতি ন্যায়বিচার' নামে ফেসবুক পেজে অনুরূপ বার্তা দেওয়া হয়৷ গত সোমবার টুইটারে সতীশ মালবুয়ার নামে এক ব্যক্তি এই পেজের দায়িত্ব স্বীকার করেছে৷ এই ধরনের সামাজিক বাতাবরণে আগুনে ঘি ঢালছে খাপ পঞ্চায়েত৷

সুপ্রিম কোর্টের রায় এই ধরনের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ রোধে কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নটা রাখা হয়েছিল মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ধীরাজ সেনগুপ্তের কাছে৷ উত্তরে তিনি ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘অনার-কিলিং বা লাভ-জেহাদের নামে যেসব ঘটনা ঘটছে, এর সমস্তটাই রাজনৈতিকভাবে উস্কানিমূলক বিষয়৷ কিংবা আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে নিহিত দীর্ঘকালের কুসংস্কার বা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয়৷ তাই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তা একেবারে শেষ হয়ে যাবে বলে মনে হয় না৷ শীর্ষ আদালত আগেও যে এ কথা বলেননি, তা নয়৷ আসলে এটা একটা সামাজিক আন্দোলনের বিষয়৷ মহিলাদেরও এগিয়ে আসতে হবে৷ অনেকটা পথ এখনও যেতে হবে৷ লাভ-জেহাদের পেছনে যেহেতু রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা আছে, সেহেতু পথটা মসৃণ হবে না৷ তবে হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্ট নীতিগত একটা পরিসর তৈরি করেছে৷''

তাছাড়া স্পেশাল ম্যারেজ আইনেরও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা দরকার বলে অনেকেই মনে করেন৷ কারণ, এই আইন অনুসারে বিয়ের এক মাস আগে নোটিশ দিতে হয়, ফলে ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেলে ছেলে বা মেয়ের বাড়ি থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়৷ পুলিশ প্রসাসন দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যায়৷ এক্ষেত্রে শিক্ষার একটা বিরাট ভূমিকা আছে৷ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, তা সে হিন্দু হোক বা মুসলিম, তাঁদের মধ্যে থেকেই তো চ্যালেঞ্জটা উঠে আসবে৷ যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা শিক্ষার অগ্রগতির জন্যই হয়েছে৷ শিক্ষা উন্মুক্ত চিন্তা করতে, সাহসী করতে, নতুন সমাজের ধারণা গড়ে তুলতে শেখায়৷ এটা এক ধরনের ধর্মীয় জেহাদ, যেখানে পরিণতমনস্ক দুই নর-নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা স্বীকার করছে না৷ আধুনিক সমাজের প্রধান কথা ব্যক্তিস্বাধীনতা৷ অথচ পরিবার সেটা স্বীকার করছে না৷ মনে করছে পারিবারিক সম্পর্ক ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপরে৷

জেনারেল ধীরাজ সেনগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে আরও বললেন, ‘‘সত্যি কথা বলতে কি, আইন দিয়ে এসব জিনিষ সম্পূর্ণ আটকানো যায় না৷ তবে আইন থাকলে বাধা দেবার সুবিধা হয়৷ আগামী দিনের তরুণ প্রজন্ম ব্যক্তিস্বাধীনতায় যত সচেতন হবে, স্বাধীনচেতা হবে, ততই তাঁরা বিয়ে, সংসার গড়াকে মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার বলে মনে করবে৷ এটাই অনাগত দিনের ভবিতব্য৷ হয়ত কিছু বাধা-বিপত্তি আসতে পারে৷ সেটা থেকে বেরিয়ে আসার পথের সন্ধান দেবে তাঁদের প্রগতিশীল শিক্ষাদীক্ষা৷

এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়