‘প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক চর্চায় ওদের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা হয় না’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাতকার

‘প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক চর্চায় ওদের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা হয় না’

মার্কিন নির্বাচনেও এবার বাংলাদেশের মতো নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে৷ আমেরিকার নির্বাচনে কি কারচুপি সম্ভব?

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির বাংলাদেশ ব্যুরো চীফ জুলহাস আলম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক চর্চায় মার্কিনীদের সঙ্গে আমাদের কোন তুলনা হয় না৷ মার্কিন গণতন্ত্র শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে, আর আমাদের এখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানই দাঁড়ায়নি৷ তাই আমাদের এখানের মতো ওখানে সরাসরি কারচুপিও সম্ভব না৷   

ডয়চে ভেলে : মার্কিন নির্বাচন তো শেষ হল৷ ট্রাম্প তো কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন? আসলে কি সেখানে কারচুপি করা সম্ভব?

জুলহাস আলম : কারচুপির অভিযোগ বলতে তিনি যেটা বলেছেন যে, তিনি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন কাউন্টিং বন্ধ করার জন্য৷ আমি যেটা বুঝতে পেরেছি, আউটস্টান্ডিং যে ভোট আছে সেগুলোর কাউন্টিংটা বন্ধ করার জন্য বলেছেন৷ কারচুপির সুযোগ আছে কি-না সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে৷ আগেরবারও কিন্তু হিলারি-ট্রাম্প ভোটে নানা ধরনের বিতর্ক এসেছে, অভিযোগ এসেছে৷ তখন বলা হয়েছিল, রাশিয়ান হ্যাকাররা সেটা ম্যানিপ্যুলেট করেছিল৷ আমেরিকার কারচুপির অভিযোগ আর আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশ বা উন্নয়নশীল দেশে যে কারচুরির অভিযোগ তার ধারণার সঙ্গে কিন্তু মিলবে না৷ আমেরিকাকে সরাসরি কারচুরি করা যায় এমন কিছু কিন্তু আমার জানা নেই৷ 

মার্কিন নির্বাচনের সঙ্গে ইউরোপ বা বাংলাদেশের নির্বাচনের তুলনা করতে বলি, তাহলে কিভাবে ব্যাখা করবেন?

মার্কিন নির্বাচনটা অনেকটা পপ কালচারের মতো৷ যেমন মাইকেল জ্যাকসন জনপ্রিয় পপ তারকা ছিলেন৷ তিনি যখন কনসার্ট করতেন তখন যে ধরনের আয়োজন, আনন্দ বা এক ধরনের শোঅফ করার বিষয় থাকে৷ সেনসেশন ক্রিয়েট করার বিষয় থাকে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনটা কিন্তু অনেকটা তাই৷ সেজন্য সারা বিশ্বের নজর সেদিকে থাকে৷ তবে তাদের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা কতটুকু করা যায় সেটা বলা মুশকিল৷ মার্কিন নির্বাচনে যে ধরনের প্রচারনা দেখা যায়, ইউরোপীয় নির্বাচনে কিন্তু সে ধরনের প্রচারণা দেখা যায় না৷ এখানে কিছুটা নিরবে নির্বাচন হয়,খুব বেশি ফিল করা যায় না৷ আর আমেরিকার নির্বাচন মানে হৈ হুল্লোর৷ এমন একটা ভাব তারা তৈরী করে যে, এটা বিশ্ব নির্বাচন! আসলে তারা শোঅফ করতে চায় তারা যে বিশ্বের বড় শক্তি৷ আমেরিকার মতো ইউরোপের নির্বাচন কিন্তু অতটা উচ্চকিত না৷ সেই জায়গা থেকে ভারত, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের নির্বাচনটা একটু ভিন্ন৷ এবার যেটা দেখলাম ট্রাম্প যে অভিযোগ করছেন কারচুপি বা অন্যসব বিষয়ে এই ধরনের অভিযোগ কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায়৷ আবার তার দাবিও সরাসরি নাকোচ করে দিচ্ছে সিএনএন বা বিশ্লেষকেরা৷ 

অডিও শুনুন 13:30

‘মার্কিন নির্বাচনটা অনেকটা পপ কালচারের মতো’

বাংলাদেশেও তো এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়? এখানে ভোটে আসলে কিভাবে কারচুপি হয়?

বাংলাদেশে সব সময় ভালো নির্বাচন হয়েছে সেটা বলার কোন কারণ নেই৷ সত্যি কথা বলতে গেলে সর্বশেষ গত দু'টি নির্বাচন তো এখানে হয়নি৷ যেটি বলা হয়, গত নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়ে গেছে৷ এসব অভিযোগ অনেকাংশে সত্যি৷ সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বা বিরোধী দলের দূর্বলতার কারণে এটি চ্যালেঞ্জ করা যায়নি৷ ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিও এটা মেনে নিয়েছে৷ কারণ আমি যেটা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অপেক্ষাকৃত বেশি আস্থা থেকেই হয়তো তারা এটা মেনে নিয়েছে৷ মুসলিম দেশ সৌদিআরব, চীন, আমেরিকা বা ইউরোপ তারা কিন্তু এটা মেনে নিয়েছে৷ আবার দেখেন ২০০৮ সালে খুব ভালো নির্বাচন হয়েছে৷ বা ১৯৯৬ সালেও ভালো নির্বাচন হয়েছে৷ ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে৷ সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে৷ সর্বশেষ ২০১৪ ও ২০১৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে৷ আমি মনে করি, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে ধরনের প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন তারা কিন্তু তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারিনি৷ এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে৷

ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে যদি জানতে চাই নির্বাচনে কারচুপি রোধ করতে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়?

ওই সব দেশে তো গণতন্ত্র একটা শক্ত ভীতের উপর দাঁড়িয়ে আছে৷ আমেরিকার নির্বাচন দেখে মনে হতে পারে প্রেসিডেন্টই সব, আসলেই সব৷ কিন্তু এর পেছনে তাদের যে নির্বাচনী ব্যবস্থা সেটা কিন্তু অত্যন্ত শক্ত৷ তাদের যে মনিটরিং সিস্টেম সেখানে যা ইচ্ছে তাই করার কোন সুযোগ নেই৷ হ্যাঁ ওখানে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, নোংড়ামি হচ্ছে৷ এক ধরনের উগ্রবাদিতা ব্যবহার করা হচ্ছে৷ একটা উন্নত সোসাইটির কাছ থেকে আমরা এটা আশা করি না৷ কিন্তু আমাদের এখানে যেটা হয়, সেটা একেবারে সরাসরি৷ এর মধ্যে কোন চক্ষুলজ্জা থাকে না, কোন ধরনের নিয়ম নীতির বালাই থাকে না৷ আরেকটা জিনিস বলা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে নয়জন বিচারপতির মধ্যে সম্প্রতি ট্রাম্প তিন জন নিয়োগ দিয়েছে৷ এখানেও কারচুপির করার কথা হচ্ছে৷ তারপরও সেখানে কিন্তু ঢালাও ভাবে কারচুপির কোন সুযোগ নেই৷ ইউরোপেও সেই সুযোগ নেই৷  ভারতেও নির্বাচনকেন্দ্রিক যে গণতন্ত্রের চর্চা সেটাও কিন্তু আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে৷ 

ভোটের দিন বাংলাদেশে ভোটারদের বাধা দেওয়ার একটা প্রবণতা আমরা দেখি, আমেরিকাতেও তো ভোটারদের ফোন করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে?

অনেক খারাপ এলিমেন্ট তো সেখানে আছে৷ কিন্তু ফোন করা হলেই যে আমেরিকার ভোটারেরা যাবে না, সেটা কিন্তু না৷ আপনি দেখেছেন, কোটি কোটি ভোট ডাকযোগে এসেছে৷ এটা কি আমি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করতে পারি? ভোট শেষ হওয়ার তিন দিন পরও যদি কোন ভোট আসে এবং সেটি যদি মঙ্গলবার সিলগালা হয়ে থাকে তাহলেও সেটা গ্রহণ করা হবে৷ এটা কি আপনি বাংলাদেশে কল্পনা করতে পারেন? কিছু দুষ্টু লোক সব জায়গাতেই থাকে৷ আমি মনে করি, প্রাতিষ্ঠানিক যে গণতান্ত্রিক চর্চা সেটিতে তাদের সঙ্গে আমাদের কোন তুলনা হয় না৷

আমেরিকায় তো মিডিয়া সরাসরি কোন একটি দলের পক্ষ নেয়? বাংলাদেশে তো মিডিয়া নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকে? নাকি কারো পক্ষে যেতে বাধ্য হয়?

আমি মনে করি না যে, বাংলাদেশের মিডিয়া নিরপেক্ষ থাকে৷ আসলে বাংলাদেশের মিডিয়ার সে পরিপক্কতা আসেনি৷ এটা হচ্ছে বাস্তবতা৷ আমেরিকার মিডিয়া বা উন্নত বিশ্বের মিডিয়া তাদের একটা স্বাধীনতা আছে৷ আপনি কি কল্পনা করতে পারেন ট্রাম্প তো এখনো প্রেসিডেন্ট তিনি যখন বলছেন আমি জিতে গেছি তখন সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার মিডিয়া বলছে, তিনি ফলস ক্লেম করেছেন৷এটা কি ভাবা যায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে৷ ওদের মিডিয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ৷ ওদের মিডিয়ার দায়বদ্ধতা আছে জনগণের কাছে৷ আমাদের দেশে একটা পার্টির টাকা কোথা থেকে আসছে আমরা জানি? ওদের ওখানে সে সুযোগ নেই৷ তারা ঘোষণা দেয়৷ ওদের মিডিয়া বিভিন্ন ধরনের যুক্তিসঙ্গত কারণে সাপোর্ট দেয়৷ এটা তাদের সততা৷ আমাদের এখানে সেই সুযোগই নেই৷

বাংলাদেশের মিডিয়া নির্বাচনে কী কোন প্রভাব বিস্তার করে?

অবশ্যই করে৷ আপনি গত কয়েক নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখবেন অবশ্যই করে৷ বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা পৃথিবীতেই করে৷ এখানকার মালিকেরা সরাসরি রাজনৈতিকভাবে বা ব্যবসা বানিজ্যসহ নানাভাবে তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ ফলে তারা এর বাইরে যেতে পারে না৷ আমাদের মিডিয়ার সেই স্বাধীনতা নেই বা সেই পরিপক্কতা এখনো আসেনি৷

মার্কিন নির্বাচনেও সংঘাত হচ্ছে, বাংলাদেশেও সংঘাত হয়, পার্থক্য কি?

মার্কিন নির্বাচনে আশঙ্কা আছে, কিন্তু এখনো তেমন কিছু ঘটেনি৷ আমাদের এখানে সন্ত্রাস সবার চোখের সামনে হয়৷ ওখানে সন্ত্রাস করে খুব বেশি পার পাওয়ার সুযোগ নেই৷ এখানে যারা ক্ষমতায় থাকেন বা যাদের জোর আছে তারা যা ইচ্ছে তাই করার জন্য মাঠে নেমে যান৷ ওখানে যা ইচ্ছে তাই করে ফেলা সম্ভব না৷ 

নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কায় হোয়াইট হাউজ বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে? অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছেন৷ বাংলাদেশেও তো এরকম পরিস্থিতি হয় না?

আগে কিন্তু এমন কথা শোনা যায়নি৷ এর পেছনে ট্রাম্পের উগ্রবাদ বলব না, তার অতি জাতীয়তাবাদী মনোভাব বা সেটা উষ্কে দেওয়ার বিষয় আছে৷ আমি মনে করি, এটা ট্রাম্পের একটা কৌশলও৷ ট্রাম্প নোংরা গেম খেলছেন৷ ওখানে হোয়াইট হাউজে কেউ চট করে হামলা করবে সে সুযোগ নেই৷ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটাই শক্তিশালী৷ আমার কেন জানি মনে হয়, এটা ট্রাম্পের একটা কৌশল৷ এগুলো করে তিনি ভোট টানতে চেয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়