প্রাণের বিনিময়ে তামা কারখানা বন্ধ হলো ভারতে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

প্রাণের বিনিময়ে তামা কারখানা বন্ধ হলো ভারতে

পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তামিলনাড়ুর তামার কারখানা৷ পরিবেশের পক্ষে আন্দোলনকারীরা জিতলেন ঠিকই৷ কিন্তু এর জন্য হারাতে হলো অনেক প্রাণ!

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে প্রতিবাদীরাই জিতলেন৷ নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা অবশেষে স্টারলাইট তামার কারখানা বন্ধ হলো৷ দীর্ঘদিন ধরে চলা এই লড়াইয়ে জেতার পর আবেগে ভাসলেন প্রতিবাদীরা৷ ফতিমা বাবু স্টারলাইট তামা কারখানার বিরুদ্ধে ২৩ বছর ধরে লড়েছেন৷ তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘‘আমরা জিতেছি৷''

তুতুকুন্ডি বন্দরে অবস্থিত এই তামার কারখানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই  পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ছিল৷ তামিলনাড়ু সরকার জনগণের স্বার্থে স্থানীয় দূষণ পর্ষদকে এই কারখানা পাকাপাকিভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়৷ সংস্থার সিইও পি রামনাথ জানান, আদালতে সরকারের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে৷

কিন্তু জয় কেবল জয়ের আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি৷ অনেক প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই জয় নিয়ে অন্যান্য প্রতিবাদীরা খুশি হতে পারেননি৷ বছর ৩০-এর মালতী জানিয়েছেন, ‘‘আজ এই পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক প্রাণ খোয়াতে হয়েছে৷''

অনেকদিন ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর ২২ মে হাজার হাজার প্রতিবাদী কারখানা বন্ধের দাবি জানায়৷ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের পরও মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় এই আন্দোলনকারীদের ওপর৷ এতে ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে এবং ৪০-এর বেশি মানুষ আহত হয়৷

দূষণের ইতিহাস

এই বিতর্কে নজর দিতে গেলে ফিরে দেখতে হবে ১৯৯৬ সালে৷ বেদান্ত গোষ্ঠীর এই কারখানাতে তামা উত্তোলিত, বিগলিত এবং পরিশোধিত হত৷ পরিবেশ মন্ত্রক থেকে তার জন্য ছাড়পত্রও মেলে৷ লোকালয় থেকে এই কারখানার দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার ৷ কিন্তু আইনি মতে এটা আরও বেশি হওয়া উচিত৷

পরিবেশে কারখানার প্রভাবকে অস্বীকার করছিলেন কারখানার মালিকগোষ্ঠী৷ তার পাশাপাশি ক্রমাগত পরিবর্তিত প্রয়োগনীতি সমস্যা বাড়াচ্ছিল৷

কারখানার চারপাশের ভূগর্ভস্থ জলের স্তরে তামা, সীসা, ক্যাডমিয়াম,  আর্সেনিক, ক্লোরাইডএবং ফ্লুওরাইডের মতো ভারী ধাতুর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল৷ দূষণ পর্ষদ তখনই কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়৷কারখানা বন্ধও হয়, কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের জন্য৷  

  ব্যর্থতা

পরিবেশগত নিয়মনীতি মেনে চলতে কারখানার অসহযোগিতা লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ সেটা নজরদারি করার জন্য সরকারের তরফে একটি কমিটিও গঠিত হয়৷ এই কমিটির প্রধান থিয়াগজরাজন জানান, একটা রাসায়নিক কারখানার জন্য তামিলনাড়ু উপযুক্ত ছিল না৷ তার সঙ্গে পরিবেশ সংক্রান্ত অসহযোগিতা তো ছিলই, তাই বাধ্য হয়ে তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়৷

২০০৪ সালে গ্যাস লিকের মত ঘটনাও এখানে ঘটে৷ কারখানা বন্ধের চেষ্টা হলেও তা কার্যকর হয়নি৷ ২০০৬ সালে তিরুনেলভেলি মেডিকেল কলেজের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ফ্যারানজাইটিস, সিনুসাইটিস এবং হাঁপানির মতো রোগ এই অঞ্চলে বাড়ছে৷ কারখানার গ্যাসের জন্যই এই রোগগুলি বৃদ্ধি পায় বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে৷ কারখানার আশেপাশে হিস্টেরেক্টমি, পিরিয়ডে সমস্যা এবং মিসক্যারিজের পরিমাণও বাড়ছিল৷ ২০১৩ তে তামিলনাড়ুর প্রধান আদালত স্টারলাইট কারখানাকে জল ও মাটি দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে বলে৷ জানা যায়নি, তা দেওয়া হয়েছে কিনা৷

প্রতিবাদের মূল্য

পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলেও স্টারলাইটের তা নিয়ে কোনো হেলদোল ছিল না৷ বরং স্টারলাইট নিজের আয়তন বৃদ্ধির পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বাড়িয়ে দিয়েছিল৷ ফলে জনতা ক্ষুব্ধ হয়৷

প্রতিবাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে স্থানীয় মানুষদের৷ ওখানকার হাসপাতালে গেলেই তার নমুনা পাওয়া যাবে৷  লাঞ্ছনা, বুলেটের ক্ষত নিয়ে যারা ভর্তি তাদের মধ্যে অনেকের হাতও বাদ দিতে হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী ও পনিরসিলভম পুলিশি কাজের ক্ষতিপূরণে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সাহায্যও করেন৷

কিন্তু আর্থিক সাহায্য দিয়ে সব পাওয়া যায় না৷ কেনান, যিনি তাঁর ডান হাত হারিয়েছেন, বলেন, ‘‘সারা জীবন তাঁকে এভাবেই চলতে হবে৷ টাকাই যথেষ্ট নয়৷ আমি টাকা চাই না৷ ডানহাত ফেরত চাই৷'' কিন্তু সেটা কি দেওয়া সম্ভব?

পিএস/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও