প্রস্টেট অপারেশন ও প্রবীণদের মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া | অন্বেষণ | DW | 22.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্রস্টেট অপারেশন ও প্রবীণদের মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া

প্রস্টেট অপারেশনের পর যদি উরেথ্রা বা মূত্রনালি সরে যায়, তাহলে দিনে বা রাতে প্রস্রাব সংবরণ মুশকিল হয়ে পড়তে পারে৷ এক্ষেত্রে উরেথ্রার দু'পাশে বেলুন বা প্যাড বসিয়ে উপকার পাওয়া যেতে পারে – একটি ছোট, কিন্তু উপযোগী অপারেশন৷

‘ইনকন্টিনেন্স’, মানে মল বা মূত্র নিয়ন্ত্রণে রাখার অক্ষমতা, যাকে ইন্দ্রিয়ের অসংযমও বলা হয়ে থাকে৷ প্রস্টেট অপারেশনের পর প্রবীণদের ইনকন্টিনেন্স দেখা দিতে পারে৷ চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হল ‘উরেথ্রা’ বা মূত্রনালির দু'পাশে তথাকথিত ‘বেলুন’ বসিয়ে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে অনভিপ্রায়ে প্রস্রাব নিঃসৃত না হয়৷ ফ্রিৎস ডিবার্ন গত ১০ বছর ধরে এই বেলুন নিয়ে বাস করছেন৷

ইউরোজিস্ট প্রফেসর পেটার ব্রাউন বলেন, ‘‘ওটা একটা ছোট অপারেশন৷ ‘মাস্ক’-এর মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য অ্যানিসথেটিক দিয়েই এই অপারেশন করা যায়৷ অপারেশনের ফলে পেশেন্টের ইন্দ্রিয় সংযম অনেকটা বাড়ানো সম্ভব হয়৷’’

পেশেন্ট ফ্রিৎস ডিবার্ন জানালেন, ‘‘মূত্রনালির উপর বেলুনগুলোর সঠিক চাপ গড়ে উঠতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লেগে যায়৷ কাজেই তিন মাসের মধ্যেই ইনকন্টিনেন্স কমে প্রায় শূন্যে এসে দাঁড়ায়৷’’

তরল পদার্থে ভরা বেলুনগুলোর চাপ কমে এলে সেগুলিতে আবার তরল ভরা যায়৷ একটি সাইকেল দুর্ঘটনার পর ফ্রিৎস ডিবার্নের একটি বেলুন সরে যায়৷ ঠিক এই কারণেই, অর্থাৎ বেলুনগুলি সরে অথবা ফেটে যাওয়ার বিপদ থাকার কারণে পদ্ধতিটি বছর পনেরো আগে যতোটা ব্যবহার করা হত, আজ আর ততোটা করা হয় না৷

প্রফেসর ব্রাউন জানালেন, ‘‘বেলুন নিয়ে সমস্যাটা সমাধানযোগ্য এই অর্থে যে, বেলুনটা বদলে নেওয়া সম্ভব – সেটাও একটা ছোট অপারেশন ছাড়া আর কিছু নয়৷ ঐ অপারেশনের ঝুঁকিও কম, কাজেই তা খুব সহজেই করা যায়৷’’

বার পাঁচেক বেলুন বদলানো সত্ত্বেও ফ্রিৎস ডিবার্ন বহাল তবিয়তেই আছেন – প্রস্রাবের অসংযম পুরোপুরি সেরে না গেলেও তিনি সন্তুষ্ট৷ 

অপারেশনের নতুন পদ্ধতি

অপারেশনের একটি নতুন পদ্ধতি হল, দু'টির বদলে একটি প্যাড বা স্যাশে ব্যবহার করা – বছর খানেক আগে ফ্রানৎস ক্রাম্প যে পদ্ধতি বেছে নেন৷ গোড়ায় তাঁর বহুদিন বেলুন থাকা সত্ত্বেও তাতে বিশেষ কাজ হয়নি৷

পেশেন্ট ফ্রানৎস ক্রাম্প বললেন, ‘‘স্বভাবতই গোড়ায় একটু হতাশ হয়েছিলাম৷ ব্যাপারটা এতো ভালো শুরু হয়েছিল যে, তা থেকে অনেক আশা করেছিলাম৷’’

আবার পরীক্ষা করে দেখা গেল যে, প্রস্টেট অপারেশনের পর তাঁর মূত্রনালিটি সরে গেছে৷ এবার একটি ব্যান্ড দিয়ে সেটিকে সঠিক স্থানে এনে একটি প্যাড বা স্যাশে দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হবে৷

প্রফেসর ব্রাউন বললেন, ‘‘এক্ষেত্রে এই অপারেশনটায় সত্যিই কাজ হতে পারে, কেননা ব্যান্ড দিয়ে মূত্রনালিটিকে সঠিক অবস্থানে আনা যায়; অপরদিকে তাতেও প্রস্রাবের অসংযম ঠিক না হলে, স্যাশে থাকায় তা পরে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায়৷’’

বেলুনের মতো এই প্যাড বা স্যাশেগুলিতেও পরে তরল পদার্থ ভরা যায় – অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী মূত্রনালির উপর চাপ বাড়ানো কিংবা কমানো যায়৷ ফ্রানৎস ক্রাম্প বছর খানেক আগে এই প্যাড লাগিয়েছেন ও ইতিমধ্যে তাঁর অভ্যাস হয়ে গিয়েছে৷ ক্রাম্প বললেন, ‘‘প্যাডটা হাজার হোক শরীরের অংশ নয়, যদিও তা শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়৷ তবে তা থেকে ক্রমেই আরো বেশি কাজ হয়েছে৷ কাজেই আমি খুব সন্তুষ্ট বলতে হবে৷’’

তৃতীয় পদ্ধতি হল শুধুমাত্র ব্যান্ড ব্যবহার করা৷

এক্ষেত্রে একটি ব্যান্ড দিয়ে মূত্রনালিটিকে তার সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসা হয়৷ কিন্তু যে সব পেশেন্টের রাত্রে অসংযমের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায়শই এই পদ্ধতি পর্যাপ্ত নয় – তখন স্বভাবতই ব্যান্ডের সঙ্গে প্যাড ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকে না, যেমন মানফ্রেড ড্যোর্নব্রাকের ক্ষেত্রে৷

ইউরোলজিস্ট ড. রশিদ হোদা জানালেন, ‘‘এই অপারেশনের পদ্ধতি নিয়ে আমরা দশ বছর কাজ করছি৷ আমাদের অভিজ্ঞতা হল এই যে, মাঝারি ইনকন্টিনেন্সের পেশেন্টরা ব্যান্ড বসানো থেকে লাভবান হন৷’’

মাস দুয়েক আগে মানফ্রেড ড্যোর্নব্রাক-এর অপারেশন হয় – ৪৫ মিনিটের অপারেশন৷ সেযাবৎ তাঁকে প্যাড রি-অ্যাডজাস্ট করার জন্য দুবার ক্লিনিকে আসতে হয়েছে৷ ড্যোর্নব্রাক সন্তুষ্ট: ‘‘রাত্রে আমার আর প্রায় প্রস্রাবের অসংযম নেই, যদিও দিনে তা এখনও পুরোপুরি কাজ করে না৷ তবে ডাক্তাররা বলেন সেটাই নাকি স্বাভাবিক, কাজেই আমি আশাবাদী৷’’

আনা শুবার্ট/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক