প্রশাসনে দল, শিক্ষায়ও দল | আলাপ | DW | 27.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

প্রশাসনে দল, শিক্ষায়ও দল

বাংলাদেশে প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে রাজনৈতিক নিয়োগ নতুন নয়৷ সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ কিন্তু গত কয়েক বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিশেষ করে উপাচার্য নিয়োগে যা সীমা ছাড়িয়েছে৷

Bangladesch Protest Studenten Gopalgonj BSMRST Universität (bdnews24.com)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

বাংলাদেশে সরকারি প্রশাসনে নিয়োগে শতকরা রাষ্ট্রপতির ১০ ভাগ কোটা রয়েছে৷ তিনি চাইলে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারেন৷ সরকারি কর্মচারী আইনের ১৭ ধারায় বলা আছে, ‘‘এই আইনের অন্যান্য বিধান, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে বিশেষ মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অপরিহার্যতা বিবেচনা করে সরকারের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদসংখ্যার অনধিক ১০ শতাংশ পদে, উক্ত পদে নিয়মিতভাবে নিয়োগযোগ্য কর্মচারীগণের বাইরে হতে, কোনো ব্যক্তিকে প্রেষণ বা চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ করিতে পারিবেন৷''
অন্যদিকে সরকারি প্রশাসনে যে-কেনো কর্মকর্তাকে ওএসডি করা যায়৷ ওএসডি প্রকৃত অর্থে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেও বাস্তবে এটা কেউ ক্ষমতাসীন সরকারের চিন্তা বা রাজনৈতিক মতের না হলে করা হয়৷ তাদের বেতন থাকে, কাজ থাকে না৷

বাংলাদেশে সরকারি প্রশাসনে ঠিক কতগুলো পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ হয়, অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় কত সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি হয়েছেন তার পরিসংখ্যান নেই৷ টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, এটা জরিপ করে বের করাও সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘এই রাজনৈতিক নিয়োগ শুধু এখন নয়, এটা অনেক আগে থেকেই হচ্ছে৷ যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, তারা প্রশাসনকে তাদের মতো ব্যবহার করতে চায়৷ তাই নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করে৷ আর যাদের তাদের জন্য সুবিধাজনক মনে না হয়, তাদের ওএসডি করে বসিয়ে রাখা হয়৷ যদিও রাষ্ট্রপতির ১০ ভাগ কোটা এবং ওএসডি'র বিষয়টি হয়তো ভালো উদ্দেশ্যে মেধাবীদের কাজে লাগাতে করা হয়েছে৷ কিন্তু এর অপব্যবহার হচ্ছে৷''

মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এখন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেড়শ'র মতো৷ আর জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে সংযুক্ত ওএসডি ৬৭ জন৷ তাদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পাঁচ জন, যুগ্মসচিব ২২ জন, উপ সচিব ২১ জন, সিনিয়র সহকারী সচিব ১২ জন এবং সহকারী সচিব সাত জন৷

অডিও শুনুন 05:20

এখন কমিশনগুলোতেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ হয়: ড. ইফতেখারুজ্জামান

টিআইবি গত জুনে ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি ও চর্চা' শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ তাতে বলা হয়, ‘‘রাজনৈতিক প্রভাবেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়োগ, বদলী ও পদন্নোতি হয়৷ এমনকি বর্তমান সময়ে ওএসডির মতো ঘটনাও রাজনৈতিক প্রভাবে হচ্ছে৷'' আরো বলা হয়, এই সময়ে প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং ওএসডি'র প্রবণতা বেড়েছে৷ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘ওএসডি'র কারণে একদিকে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়৷ অন্যদিকে যোগ্য লোককে বসিয়ে রাখা হয়৷ আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও রাজনৈতি বিবেবচনায় হওয়ায় যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক বিবেচনাই কাজ করে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন কমিশনগুলোতেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ হয়, সে দুর্নীতি দমন কমিশন বলেন আর অন্য কোনো কমিশনই বলেন৷''
তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের কারণে প্রশাসনে দক্ষ ও যোগ্য লোকের সংকট দেখা দিচ্ছে৷ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রশাসনে কর্মরত এবং সাবেক অনেক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি৷ তাঁরা আমাদের রাজনৈতিক নিয়োগের ব্যাপারে উদ্বেগের সঙ্গে তথ্য দিয়েছেন৷''

আর এই  রাজনৈতিক নিয়োগের সবচেয়ে উগ্র প্রকাশ ঘটছে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘‘প্রশাসনের নিয়োগের ক্ষেত্রে যে দলীয়করণ, তাকেও ছাড়িয়ে গেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে দলীয়করণ৷ শিক্ষক নিযোগেও এখন ব্যাপক দলীয়করণ দেখা যায়৷ প্রশাসনের লোকজন যেহেতু সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন না, তাই দলীয় নিয়োগ থাকলেও দলাদলি প্রকাশ্যে দেখা যায় না৷ কিন্তু পদের জন্য শিক্ষকরা এখন সরাসরি দলীয় রাজনীতি করছেন৷'' 
বাংলাদেশের এখন কমপক্ষে ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়ে জটিলতা চলছে৷ তাঁরা সবাই দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া৷ তাঁদের কারুর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে, আবার কেউবা বিশ্ববিদ্যালয়কে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ, নিয়োগ-বাণিজ্য অথবা দুর্নীতির অভিযোগ আছে৷ 

অডিও শুনুন 02:33

পদের জন্য শিক্ষকরা সরাসরি দলীয় রাজনীতি করছেন: হাফিজউদ্দিন খান

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বিরুদ্ধে তদন্তও করছে৷ তবে অনেকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হওয়ায় তেমন কিছু করতে পারছে না৷

যে ভিসিদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তারা হলেন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারজ্জামান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ এবং হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম, ঢাকার ইসলামিক আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামান, ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার এবং ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদ৷

বাংলাদেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫টি৷ এর মধ্যে ৪৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে৷ ভিসি নিয়োগ দেয়া হয় দলীয় বিবেচনায়৷ শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়৷ ফলে যাঁরা ভিসি হচ্ছেন, তাঁদের ভিসি হওয়ার যোগ্যতা নেই৷ আর রাজনৈতিভাবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁরা নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করেন৷ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন৷ তাঁরা এখন শিক্ষার চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো বোঝেন৷ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা তো আমাদের জন্য অনেক বড় লজ্জার৷''
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পরিকল্পনায় তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এখন সারাদেশে আলোচিত৷ হফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘‘শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, দলের স্বার্থ যে দেখবে, তাকে ভিসি নিয়োগ করা হয়৷ ফলে তাঁরা দলের জন্য কাজ করেন৷ শিক্ষার জন্য কাজ করেন না৷ তাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নানা দলে বিভক্ত৷ এখন দলাদলি হয়৷ শিক্ষা হয় না৷''
নিয়োগে এই দলীয় বিবেচনার কারণে এখন অনেকে দল করতে বাধ্যও হন৷ প্রশাসনে সরকার দলীয় ছাপ না থাকলে কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়৷ আবার দলের লোক না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু ভিসি নয়, ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ইত্যাদিও হওয়া যায় না৷

হারুন উর রশীদ স্বপনের এই প্রতিবেদনটি আপনার কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন