প্রবীণরাই হবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ | আলাপ | DW | 09.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রবীণরাই হবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ

বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা তরুণদের ছাড়িয়ে যাবে৷ ২০৫০ সালে প্রবীণের সংখ্যা হবে সাড়ে ৪ কোটি৷ আর তখন তাঁরাই হবেন মোট জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠ অংশ৷ অথচ দেশে প্রবীণরাই সবচেয়ে অবহেলিত৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ এবং হেল্পএজ ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে ‘অ্যাবিউজ এগেইনস্ট ওল্ডার পিপল উইদিন দ্য ফ্যামিলি অ্যামাং আরবান পুওর ইন ঢাকা সিটি' শিরোনামে একটি গবেষণা করে ২০১২ সালে৷ ওই গবেষণায় বলা হয়, দেশের ৫৪ দশমিক ৫ ভাগ বয়স্ক মানুষ পরিবারের সদস্যদের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷ নিজ সন্তান, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনি এমনকি জীবনসঙ্গীর কাছেও তাঁদের প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 05:45
এখন লাইভ
05:45 মিনিট

‘‘এই গড় আয়ু আরো বাড়বে’’

গবেষণায় আরো বলা হয়,‘‘দেশের ৮৮ দশমিক ৪ ভাগ বয়স্ক ব্যক্তি মানসিক নির্যাতন, ৮৩ দশমিক ৩ ভাগ অবহেলা, ৫৪ দশমিক ৫ ভাগ শারীরিক নির্যাতন এবং ৫৪ দশমিক ৪ ভাগ অর্থনৈতিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন৷ বয়স্ক নারী-পুরুষ উভয়ই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি অপদস্ত হচ্ছেন৷'' 

ওই গবেষণা মতে, ‘‘২০১২ সালে বাংলাদেশে ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক লোকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৫ ভাগ৷''

গবেষনাটি করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর উর নবী৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একমাত্র বয়স্কভাতা চালু ছাড়া প্রবীণদের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি৷ ২০১২ সালে প্রবীণদের পারিবারিক ও সামাজিক অবহেলা এবং নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া যায়, সেই অবস্থা এখনো একই রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে৷ এর প্রধান কারণ যৌথ পরিবারব্যবস্থা ভেঙ্গে যাওয়ায় তাঁদেরকে একক পরিবারে বোঝা মনে করা হয়৷ আর রাষ্ট্রীয় নীতি এবং কৌশলে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কোনো ব্যবস্থা এখনো নাই৷ ফলে প্রবীণদের জীবন হয়ে উঠছে বিষাদময়৷

অডিও শুনুন 05:32
এখন লাইভ
05:32 মিনিট

‘‘তাঁদের পুষ্টি এবং চিকিৎসার কোনো আলাদা ব্যবস্থা নাই’’

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ বছর, যা প্রায় উন্নত বিশ্বের সমান৷ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বেড়েছে৷ একই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং আরো অনেক কারণে গড় আয়ু বাড়ছে৷ এই গড় আয়ু আরো বাড়বে৷''

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবীণ  বা বয়স্ক মানুষ রয়েছে৷ আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ প্রবীণদের সংখ্যা হবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ৷ ২০৫০ সালে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি এবং ২০৬১ সালে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি প্রবীণ জনগোষ্ঠী৷ তখন প্রতি পাঁচ জনে একজন হবেন প্রবীণ৷

২০১৩ সালের আরেকটি গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে দুই তৃতীয়াংশ প্রবীণই দরিদ্র, শতকরা ৫৮ ভাগ প্রবীণের মৌলিক চাহিদা পূরণের সামর্থ নেই৷ এছাড়াও বার্ধক্যকালীণ সময়ে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ফলে প্রবীণরা নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক রোগে ভুগে থাকেন৷

 

প্রবীণদের অধিকার ও সুবিধা নিয়ে কাজ করে ‘ প্রবীণ বন্ধু' নামে একটি সংগঠন৷ এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ডা. মহসীন কবির লিমন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রবীণরাও যে জাতীয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে পারেন, এই ধারণাই আমাদের এখানে গড়ে ওঠেনি৷ আর প্রবীণরা পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন, যা তাঁদের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তুলছে৷ তাঁদের পুষ্টি এবং চিকিৎসার কোনো আলাদা ব্যবস্থা নাই৷ অধিকাংশ প্রবীণই দরিদ্র অবস্থার মধ্যে বসবাস করেন৷ আবার পরিবারের লোকজনই তাঁদের সম্পদহীন করে বাইরে নামিয়ে দেয়, এমন ঘটনাও আছে৷''

বাংলাদেশের জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী, বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হলে তাঁকে প্রবীণ বলে অভিহিত করা যায়৷ প্রবীণদের জন্য ২০১৩ সালে ‘প্রবীণ নীতিমালা' অনুমোদন করে মন্ত্রিপরিষদ আর সংসদে অনুমোদন হয়েছে পিতা-মাতা ভরনপোষণ আইন৷ বাংলাদেশে প্রবীণদের ‘সিনিয়র সিটিজেন' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এই ঘোষণা দেন৷ প্রবীণদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত বযসিদের তরুণ প্রবীণ, ৭০ থেকে ৮০ মধ্য প্রবীণ এবং ৮০ বছরের উর্ধ্বে যাঁ,রা রয়েছেন তাদেরকে বলা হয় অতি প্রবীণ৷

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে বয়স্কভাতা চালু করা হয়৷ শুরুতে এই ভাতা ছিল জনপ্রতি ১০০ টাকা৷ এখন তা ৫০০ টাকা৷ গত অর্থ বছরে ৩১ লাখ ৫০ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে এই বয়স্ক ভাতা দেয়া হয়৷ চলতি অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা৷  বয়স্ক ভাতা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ, কিন্তু এই ভাতা পাচ্ছেন মোট প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এক পঞ্চমাংশ, যারা দরিদ্র বা হতদরিদ্র৷ কিন্তু এই ৫০০ টাকায় তাদের হতদরিদ্র অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না বলে মনে করেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রবীণদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে৷ জাতীয় আয় এবং প্রবৃদ্ধিতে যে তাঁরাও অবদান রাখতে পারেন, সেটা আমাদের বুঝতে হবে৷ প্রবীণের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে৷ তাঁদের বোঝা মনে না করে সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে৷''

আর ডা. মহসীন কবির বলেন, ‘‘আমরাইতো পরবর্তী প্রবীণ৷ এই বিষযটি মাথায় থাকলে প্রবীণদের প্রতি কোনো অবহেলা থাকতে পারে না৷'' 

অডিও শুনুন 04:24
এখন লাইভ
04:24 মিনিট

‘‘বাংলাদেশে ওল্ড হোমকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়’’

বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য নানা নামে ‘ওল্ড হোম' গড়ে উঠেছে৷ এবং এর সংখ্যা মাত্র ৫-৬টি৷ সরকারি উদ্যোগ ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওল্ড হোমও আছে৷ এসব ওল্ড হোমে যেরকম দরিদ্রদের জন্য ফ্রি থাকা-খাওয়ার সুবিধা আছে, তেমনি মাসে ৪০ হাজার টাকা লাগে এমন ওল্ড হোমও আছে৷ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের  ওল্ড হোমে থাকতে লাগে মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা৷ প্রতিষ্ঠানটির মহাসচিব এস এম আতিকুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ওল্ড হোমকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়৷ ফলে সবগুলো ওল্ড হোমে দুই হাজারের বেশি প্রবীণ নেই৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘হাইলি কোয়ালিফাইড প্রবীণরা বাংলাদেশে নানা ধরণের আয়মূলক কাজে জড়িত আছেন৷ কিন্তু অধিকাংশেরই কোনো কাজ নাই৷ তাঁরা সময় পার করেন৷ আমি মনে করি, বয়স বেড়েছে তাই চাকরি থেকে বিদায় করে দেবেন, এটা মানবাধিকারের লংঘন৷ কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়৷ কিন্তু এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে৷ প্রবীণদের কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা বের করতে হবে৷''

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন