প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ! | বিশ্ব | DW | 14.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ!

একটি রায়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, তারপর প্রধান বিচারপতির ছুটি৷ পরিশেষে বিদেশ যাওয়ার আগে তাঁর বিবৃতি এবং তাঁর বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ৷ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বর্তমান চিত্র এটি৷

শুক্রবার রাতে অষ্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা৷ যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে একটি বিবৃতি ধরিয়ে দেন৷ এতে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস৷''

চাপ দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানোর যে অভিযোগ বিএনপি করছিল, তাও নাকচ করেছেন বিচারপতি সিনহা৷ বলেছেন, ‘‘বিচার বিভাগ যাতে ‘কলুষিত না হয়', সেজন্য তিনি নিজেই ‘সাময়িকভাবে' ছুটি নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন৷ তিনি অসুস্থ নন, পুরোপুরি সুস্থ৷'' 

অডিও শুনুন 02:30
এখন লাইভ
02:30 মিনিট

‘‘বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে’’

সুপ্রিম কোর্টের পাল্টা বিবৃতি

এদিকে, শনিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্টার জেনারেলের দফতর থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন অন্য পাঁচ বিচারপতি৷ এই পাঁচ বিচারপতির কাছে কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে ১১টি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ' করেছেন৷

আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক ডয়চে ভেলের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমি আগামীকাল (রবিবার) এ ব্যাপারে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব৷ তাই মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছি না৷ আপনারা সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিটা দেখেন, সেখানে স্পষ্ট করেই বলা আছে, অন্য পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চে বসতে রাজি হননি৷ পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ এসেছে তারও কোন সদুত্তর তিনি তাদের দিতে পারেননি৷''

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক বসেছে৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন৷ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েই রবিবার আইনমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির অভিযোগের জবাব দিবেন বলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে৷ 

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি শুধু বলব, যা হচ্ছে তাতে আমাদের গণতন্ত্রকেই দূর্বল করে দেয়া হচ্ছে৷ বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে৷ এটা একেবারেই ঠিক হচ্ছে না৷ আমি খুব সহসাই এই অবস্থা থেকে বের হওয়ারও কোন পথও দেখতে পাচ্ছি না৷''

কী আছে রেজিষ্টার জেনারেলের বিবৃতিতে?

শনিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্টার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের দফতর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ব্যতীত আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান৷ বিচারপতি মো. ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গভবনের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি৷ বাকিরা দীর্ঘ আলোচনায় এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন৷ এসবের মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে৷''

দীর্ঘ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের ওই বিচারপতি মো. ইমান আলী ঢাকায় ফেরার পর ১ অক্টোবর বিচার বিভাগের পাঁচ বিচারপতি আবারও বৈঠকে বসেন৷ ওই বৈঠকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাদের আনা ১১টি অভিযোগ বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়৷ এরপর তারা এসব গুরুতর অভিযোগ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেন৷ (প্রধান বিচারপতির সঙ্গে) দীর্ঘ আলোচনার পরও তার নিকট হতে কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা সদুত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের উল্লেখিত পাঁচজন বিচারপতি তাঁকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এমতবস্থায় উক্ত অভিযোগ সমুহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচার কার্য পরিচালনা করা সম্ভব না৷''

আইনজীবী সমিতির পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন

ছুটিতে যাওয়া প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার আগে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা৷ সভাপতি জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে একাংশ প্রথমে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন৷ পরে সমিতির সহসভাপতি মো. অজি উল্লাহ পৃথকভাবে কথা বলেন৷ বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘‘রাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রপতি৷ কাজেই রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান, বিচার বিভাগকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন৷'' 

অডিও শুনুন 00:29
এখন লাইভ
00:29 মিনিট

‘‘আপনারা সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিটা দেখেন’’

পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে অজি উল্লাহ বলেন, ‘‘সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষে৷ আমরা এর সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি৷ প্রধান বিচারপতি বলেছেন, উনি ছুটি নিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন স্বেচ্ছায়৷ ছুটি শেষে আবার ফিরে আসবেন৷ বিচারকাজ পরিচালনা করবেন৷''

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দালিলিক প্রমাণসহ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷''

অন্যদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘বিদেশ যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতির বিবৃতি দিয়ে সত্য কথাগুলো বলে দিয়েছেন৷ এতে প্রমাণিত হয়েছে, সরকারের ইনটেশনটা কী? প্রধান বিচারপতির বিবৃতির মধ্যে একটা জিনিস বেরিয়ে এসেছে৷ কথাটা সিগনিফিকেন্ট যে সরকারকে ভুল বোঝানো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী অভিমান করেছেন৷ এ জিনিসটাকে আমরা সিরিয়াসলি দেখছি যে সরকারে কে ভুল বোঝাচ্ছে? কারা সেদিন প্রধান বিচারপতিকে অফিস ছেড়ে যেতে বাধ্য করল?'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন