প্রধান বিচারপতির ছুটি কি চাপে নাকি স্বেচ্ছায়? | বিশ্ব | DW | 07.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রধান বিচারপতির ছুটি কি চাপে নাকি স্বেচ্ছায়?

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এখন এক মাসের ছুটিতে৷ তাঁর ছুটির দরখাস্ত দেয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে তিনি স্বেচ্ছায় নাকি চাপে পড়ে ছুটিতে গেলেন৷ এই বিতর্কের কোন সামাধান এখনো মেলেনি৷

বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতসপ্তাহে প্রধান বিচারপতির ছুটির দরখাস্ত সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করে দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় ছুটিতে গেছেন৷ তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত৷ শনিবার ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি একই দাবি করেন৷ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টা জাতির সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে৷ এ নিয়ে এখন আর কোন বিতর্ক নেই৷'' 

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ছুটিতে যাওয়া প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের দেখা করতে বাধা দেওয়ার মধ্যে দিয়েই প্রমাণ হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ছুটিতে যাননি, তাকে বাধ্য করা হয়েছে৷ পরে ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি বলেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত উনি (প্রধান বিচারপতি) নিজে কিছু বলছেন না, ততক্ষণ আমরা মনে করছি তাকে চাপ প্রয়োগ করেই ছুটিতে পাঠানো হয়েছে৷ সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে৷''

অডিও শুনুন 01:22
এখন লাইভ
01:22 মিনিট

‘‘পুরো বিষয়টা জাতির সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে’’

সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দেখেন, আমাদের বিচার বিভাগকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করে ফেলা হচ্ছে৷ এটা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না৷ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যা হচ্ছে তা নজিরবিহীন৷ এটা হওয়া উচিত ছিল না৷''

তিনি বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতি নিজেই বিষয়টা পরিস্কার করতে পারেন৷ আবার অন্যভাবেও এটা হতে পারে৷ আবার দেখেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে প্রধান বিচারপতির চিঠি সংবাদ মাধ্যমে দেয়া হল সেটা একেবারেই সমীচীন হয়নি৷''

এদিকে, শনিবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাঁর বন্ধু আতিক চৌধুরী৷ বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তিনি প্রধান বিচারপতির বাসায় যান৷ আতিক চৌধুরী পেশায় একজন ব্যবসায়ী৷ তবে তিনি বের হয়ে সাংবাদিকদের কিছু বলেননি৷ এছাড়া, শনিবারই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর সরকারি বাসভবনে যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী৷

এর আগে শুক্রবার সকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে পৃথকভাবে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল আমিনুল ইসলাম৷ 

অডিও শুনুন 01:13
এখন লাইভ
01:13 মিনিট

‘‘সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে’’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন দাবি করেন, ‘‘গত দুই দিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তারা সাক্ষাৎ করেছেন৷ কিন্তু আমাদের সাক্ষাৎ করতে বাধা প্রদান করা হয়৷ এতেই প্রমাণ হয় প্রধান বিচারপতি স্বেচ্ছায় ছুটিতে যাননি, তাকে বল প্রয়োগ করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে৷ তারা প্রধান বিচারপতিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে৷ তিনি অন্তরীণ৷''

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি অষ্ট্রেলিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করেছেন৷ ওই দিন সকালে প্রথম প্রকাশ্যে বেরিয়ে তিনি গুলশান-২ নম্বরে অবস্থিত ভিসা সেন্টারে উপস্থিত হয়ে অষ্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করেন৷ অষ্ট্রেলিয়ায় প্রধান বিচারপতির বড় মেয়ে বসবাস করেন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন