প্রধান বিচারপতির কাছে দায়িত্বশীল বক্তব্যের আশা | বিশ্ব | DW | 22.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

প্রধান বিচারপতির কাছে দায়িত্বশীল বক্তব্যের আশা

বাংলাদেশে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর এটা নিয়ে মন্তব্য এবং পালটা মন্তব্য লাগামহীন পর্যায়ে চলে গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷ এই ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিও শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি বলে তারা মনে করেন৷

সর্বশেষ পাকিস্তানের উদাহরণ নিয়ে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে৷ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধি নিয়ে আপিল শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ‘‘আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি, যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি৷ আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি৷ সেখানে ধৈর্যের কথা বলা আছে৷ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে অযোগ্য করেছেন৷ সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি৷ আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার৷''

তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ‘‘মিডিয়াতে অনেক কথা বলেন কোর্টে এসে অন্য কথা বলেন৷ আপনাকে নয়, আপনাদের বলছি৷ আপনিই বলেন, কবে কী হবে?  আপনারাই তো মিডিয়াতে ঝড় তুলছেন, আমরা কোনো মন্তব্য করছি?''

প্রধান বিচারপতির পাকিস্তানের উদাহরণ দেয়া নিয়ে একদিন পর সোমবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিনি ঢাকায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের নিয়ে এক স্মরণ সভায় বলেন, ‘‘সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে সেটা আমরা সহ্য করবো না৷ আমি জনগণের কাছে বিচার চাই, পাকিস্তানের সঙ্গে কেন তুলনা করা হলো? যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে হারিয়েছি, যে পাকিস্তান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র, সে পাকিস্তানের সঙ্গে কেন তুলনা করবে? সেটা আমি জনগণের কাছে বিচার দিচ্ছি৷ জনগণের আদালতের বিচারই বড় বিচার৷''

অডিও শুনুন 02:04

‘বিচার বিভাগ তর্কে জড়িয়ে পড়বে কেন?’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, হঠাৎ করে উচ্চ আদালত থেকে নানা রকম কথাবার্তা, হুমকি-ধমকি ও রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে৷ আমার অবাক লাগে তাদের আমরাই নিয়োগ দিয়েছি, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন৷ পার্লামেন্টকে হেয় করা এবং পার্লামেন্টকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করার অর্থ কী? আমরা অনেক সংগ্রাম করে, অনেক রক্ত দিয়ে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে এসেছি৷''

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘মহিলা (নারী) সংসদ সদস্যদের সংসদ নির্বাচন করতে পারবে না, এ বিষয়ে উনি রায়ে বলেছেন৷ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করে সংসদ৷ সেই রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতিকে৷ উনার তো এই কথা বলার আগে পদত্যাগ করার দরকার ছিল৷ উনার লেখা রায়ে অনেক কন্ট্রাডিকশন আছে৷''

 বাংলাদেশের সংবিধানেষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চুড়ান্ত রায় দেয় গত ৩ জুলাই৷ এরপর পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয় ১ অগাষ্ট৷ এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিণের হাতে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়৷ তবে এই রায়ে বিচার্য বিষয়ের বাইরে সংসদ, নির্বাচন, সংসদ সদস্য, রাজনীতিসহ আরো অনেক রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা হয়৷ আর তা নিয়ে তখন থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা চলছে৷ শাসক দল আওয়ামী লীগ এই রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে৷ তারা রায় রিভিউয়েরও চিন্তা করছে৷ আর সংসদের বাইরের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি পক্ষে অবস্থান নিয়েছে৷ প্রধান বিচারপতিও আদালত এবং আদালতের বাইরে রায়ের পর নানা ধরনের মন্তব্য করে চলেছেন৷

অডিও শুনুন 02:10

‘আমরা সব পক্ষ থেকেই দায়িত্বহীন মন্তব্য দেখছি, যা ক্ষতিকর’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জন এ প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রায় নিয়ে কথা হতেই পারে৷ আর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর নানা ধরনের কথা হচ্ছে৷ বাড়াবাড়িও হচ্ছে৷ প্রধান বিচারপতি যে সংসদ, গণতন্ত্র  বা রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে পারবেন না , তা কিন্তু নয়৷ তিনি নিজেই বলেছেন, আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে৷ তাই প্রধান বিচারপতিকেও দায়িত্বশীল মন্তব্য করতে হবে৷''

তিনি আরো বলে,‘‘আমরা সব পক্ষ থেকেই দায়িত্বহীন মন্তব্য দেখছি, যা ক্ষতিকর৷''

আর মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একটি বিচারের রায়ে বিষয়ের বাইরে গিয়ে বিচারকরা কথা বলতে পারে৷ রাজনীতিবিদরাও অনেক কথা বলেন৷ কিন্তু উচ্চ আদালত যদি তার উত্তর দেয়া শুরু করে তা কিন্তু কাঙ্খিত নয়৷ আর পাকিস্তানে কী হয়েছে তার উদাহরণ টেনে প্রধান বিচারপতি ঠিক কাজ করেননি৷ বিচারকদের কিছু ডিগনিটি বজায় রাখতে হয়৷ তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশা করি না৷ তাহলে বিচার বিভাগের প্রচলিত সংযত ভাবমূর্তি বজায় থাকে না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বিচার বিভাগ তর্কে  জড়িয়ে পড়বে কেন? বিচার বিভাগ নিজেই যদি কাদা ছোড়াছুড়িতে অংশ নেয়, তাহলে তা সবার জন্যই ক্ষতির কারণ৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন