প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম ‘মিশন কাশ্মীর’ | বিশ্ব | DW | 13.08.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম ‘মিশন কাশ্মীর’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই মোদীর প্রথম ‘মিশন কাশ্মীর’৷ কারগিল ও লাদাক সফরে গিয়ে মোদী পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধের সমালোচনা করে কড়া বার্তা দেন৷ পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নে এক গুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন৷

লাদাকের রাজধানী লেহ-তে প্রধানমন্ত্রী মোদী সেনা ও বিমান বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে প্রথমেই সমালোচনা করলেন পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধের৷ প্রথাগত যুদ্ধের শক্তি হারিয়ে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যচ্ছে৷ সে কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধে নয়, জঙ্গি হামলাতেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ ‘ছায়াযুদ্ধ' বলতে সম্ভবত মোদী বোঝাতে চেয়েছেন ভারতও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত দুই কাশ্মীরের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতবাদী জঙ্গি হামলা চালানোর কথা৷

ওদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চারিদিকে সাজ সাজ রব৷ রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে বিজেপির পতাকা এবং হোর্ডিং-এ৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই উপত্যকা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর জায়গা৷ কিন্তু এখানকার মানুষ নানা সমস্যার সন্মুখীন৷

কাশ্মীরের জনগণের মন জয় করতে এবং রাজ্যের উন্নতিকল্পে এক গুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ বলেন, লাদাখে তাঁর সরকারের এই উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠবে তিনটি ‘প'-এর ওপর নির্ভর করে৷ এই তিনটি ‘প' হলো প্রকাশ বা বিদ্যুৎ, পরিবেশ ও পর্যটন৷

রাজ্যের পরিকাঠামোর উন্নয়নে আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি লেহ থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ৩৫০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইনের শিলান্যাস করেন৷ উদ্বোধন করেন নিম্মো-বাজগো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের৷ এই সব উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁর সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর স্বপ্নকে সাকার করে তুলবে৷

লেহ থেকে প্রধানমন্ত্রী যান কারগিলে৷ ১৯৯৯ সালে বাজপেয়ী সরকারের আমলে কারগিল যুদ্ধ জয়ের স্মৃতি এখনো তাজা আছে ভারতবাসীর মনে৷ উল্লেখ্য, ঐ অঘোষিত যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনা ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কারগিলে অনুপ্রবেশ করেছিল৷ কিন্তু ঐ সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আজকের নওয়াজ শরিফ৷ তৎকালীন সেনা প্রধান পারভেজ মুশারফ তাঁকে কিছুই জানতে দেননি৷ আজও সেনাবাহিনীর আধিপত্য এতটাই যে দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিদেশ নীতিতে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হলেও, সেনাবাহিনীর চাপে নওয়াজ শরিফ বেশি দূর এগুতে পারেননি৷ সে দিনের সেই যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী কারগিল সফরে গেলেন৷ কারগিলের চুটাক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করে মোদী বলেন, কারগিলবাসীর দেশপ্রেম গোটা দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে৷ এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং শিল্পোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন মোদী

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, মোদীর ‘মিশন কাশ্মীর' যতটা না সরকারি তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক৷ গত সংসদীয় নির্বাচনে রাজ্যের তিনটি আসনই পেয়েছিল বিজেপি৷ এ বছরের শেষ নাগাদ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচন৷ তার প্রচারের কাজও কিছুটা এগিয়ে রাখলেন মোদী৷ কারণ রাজ্যের ৮৭টি বিধানসভা আসনের সিংহভাগ দখল করে বিজেপি সরকার গঠনকেই এখন পাখির চোখ করেছেন মোদী৷ এইসব উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা হয়ত সেদিকে তাকিয়েই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন