প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরারের বাবা-মা | বিশ্ব | DW | 14.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরারের বাবা-মা

বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সাব্বিরসহ পরিবারের সদস্যরা সোমবার বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে শেখ হাসিনা তাঁর নির্দেশের কথা তাদের জানান৷

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন ও তার পাশের চেয়ারে বসে তাকে সান্ত্বনা দেন৷''

রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, "আপনি মায়ের আসনে থেকে ঘটনার পর যে ভূমিকা নিয়েছেন সেজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই৷ আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই৷”

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি৷ আমি দেখতে চাইনি কে কার লোক ৷ আপরাধী কে বা কোন দল করে সেটা বিবেচনা করিনি৷

প্রধানমন্ত্রী আবরারের মাকে বলেন, "আপনাকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই৷ শুধু বলব আমাকে দেখেন, স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি৷ আমিও এক রাতে সব হারিয়েছিলাম৷ আমি তখন বিচারও পাইনি৷''

বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়৷

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ একদল নেতা-কর্মী শিবির সন্দেহে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে- তা ছাত্রলীগের তদন্তেও উঠে আসে৷ আসামিদের জবানবন্দির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে পুলিশও একই কথা বলছে৷ আবরারকে হত্যার ঘটনায় ১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৫ জন৷

অমিতকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার

আবরারকে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ‘যোগাযোগের প্রমাণ পেয়ে' বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত সাহাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে৷

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে অমিতের নাম আসার পরও মামলায় তার নাম না থাকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল৷ গত বৃহস্পতিবার ঢাকার সবুজবাগে আত্মীয়র বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে৷

সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অমিতকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে৷ আবরাকে হত্যার ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হল৷

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ''ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে এই তথ্য উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ সম্পাদক অমিত সাহা উক্ত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথোপকথনের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল৷ এ কারণে তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷''

অভিযোগপত্র নভেম্বরে

আবরারের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে আগামী মাসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম৷

সোমবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ তথ্য জানান৷ মনিরুল বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চার জনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসেছে যে, তারা শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে মারপিট করছিল, এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়৷

"বাকিদের জবানবন্দির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, তারা আবরারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করেছিল নাকি মারপিটের জন্য মারপিট করছিল৷''

হত্যার উদ্দেশ্য না থাকলেও মারপিটের মাত্রা বেশি হওয়ায় আবরারের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা৷ তিনি বলেন, ‘‘শিবির সন্দেহে পেটানোর কারণেই আবরারের মৃত্যু হয়েছে নাকি অন্য কিছু ছিল সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে৷ কারো কারো জবানবন্দিতে এসেছে কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়েছে৷

তবে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী মাসের শুরুতে বিজ্ঞ আদালত যে তারিখ দিয়েছে তার আগেই- অর্থাৎ আমরা আশা করছি, আগামী মাসের শুরুর দিকে- এই মামলার তদন্ত কাজ শেষ হবে, তখন আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারব৷‘‘

এসআই/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন