প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজ: বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ | বিশ্ব | DW | 05.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজ: বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ

করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতিকে সচল রাখতে একটি প্যাকেজ প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ 

কোভিড-১৯ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড৷ এ অবস্থায় প্রায় এক কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা৷ দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ৩০ ভাগ ছাড়িয়েছে৷

স্থবির অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং সব মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে রোববার ৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷  এই প্যাকেজে যে চারটি প্রোগ্রামের কথা বলা আছে, তাতে বড় ও রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে বেশি সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা৷ তবে যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তারা, তা হল খাদ্য নিরাপত্তা৷

শুরুরজন্যভালো, বাস্তবায়নচ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজটি শুরুর জন্য ভালো বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাক ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর৷

‘‘(ঘোষণার) সময়ের দিক থেকে যথাযথ৷ পরিমাণের দিক থেকে সম্মানজনক,'' বলেন আহসান এইচ মনসুর৷ ‘‘এটা শুরুর জন্য ভালো৷ তবে শেষ কোথায় কেউ জানেনা,'' টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে বলেন তিনি৷ 

সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘এই প্যাকেজ ঠিক আছে, শক্ত পদক্ষেপ, ইতিবাচক৷ সাময়িকভাবে স্বস্তি দেবে৷ তবে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ আছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘মূল চ্যালেঞ্জ হল, এটার তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন৷ দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ৷''

সবচেয়েবড়চ্যালেঞ্জ: অর্থেরবন্টন

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলেছেন৷ ব্যাংকগুলোকে যে শিল্পঋণ বিতরণের কথা বলা আছে, তার যোগান তাদের নেই বলে জানান আহসান এইচ মনসুর৷ 

‘‘জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কেউ ব্যাংকগুলোকে পয়সা দেবে না৷ তাই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন আয় থাকবে না৷ সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকই তাদের অর্থ দেবে,'' বলেন তিনি৷ তবে তিনি মনে করেন, সমস্যা হবে এই অর্থের বন্টন৷''

‘‘এই অর্থের সুদে যেহেতু সরকার ভর্তুকি দেবে, তাই এর প্রতি সবার নজর থাকবে,'' সতর্ক করেন মনসুর৷ অনেক ব্যাংকই রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এই অর্থ বন্টনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা আনা যাবে না৷''

 ‘‘এক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে৷  যারা ডিফল্টার আর অনেক রিশিডিউল করেছে তাদের আর দেয়া যাবে না৷ যারা মামলা করে কোর্টে অর্থ আদায় আটকে রেখেছে, তাদের এই প্যাকেজ দেয়া যাবে না৷ যারা আসলেই কর দেয়া প্রকৃত ব্যবসায়ী, তাদের দিতে হবে,'' বলেন মনসুর৷ 

খাদ্যনিরাপত্তারবিষয়টিসুস্পষ্টনয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন মনে করেন, প্রণোদনার ঘোষণায় কৃষিখাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি৷

‘‘কৃষিখাত সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি৷ এমনিতেই কৃষিপণ্যের দাম কমে যাচ্ছে৷ খাদ্য উৎপাদন ও যোগান নিশ্চিত না করা হলে, ভবিষ্যতে খারাপ সময় মোকাবেলা করা কঠিন হবে,'' বলেন তিনি৷ 

তিনি যোগ করেন, ‘‘সামনে বড় হারভেস্ট হবে৷ তখন কৃষকরা সঠিক দাম পাবে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে৷''

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘‘কৃষিক্ষেত্রে যে ফলন আসছে, তাকে রক্ষা করতে হবে৷'' হাওড় অঞ্চলে বন্যা হয় প্রতিবছর৷ সেখানে পর্যাপ্ত শ্রমিকও নেই৷ করোনার কারণে এখন যেসব শ্রমিক কাজ পাচ্ছে না, তাদের হাওড় অঞ্চলে যাবার ব্যবস্থা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি৷ 

‘‘সরকারকে আগামী সাত দিনের মধ্যে উদ্যোগ নিতে হবে, কিভাবে তারা হাওড় অঞ্চলে যাবে,'' বলেন মনসুর৷ এছাড়া আসছে সংকটের সময়ে খাদ্যের যোগান কেমন করে হবে তা নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রচুর খাদ্য কিনতে হবে বলেও মনে করেন তিনি৷

তিনি বলেন, ‘‘ব্যাপক পরিমাণ খাদ্য কিনতে হবে সরকারকে৷ তিন চার কোটি মানুষকে তিন মাস খাওয়াতে হলে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টন খাদ্য কিনতে হবে৷ সরকার কখনো এত ব্যাপকভাবে করেনি৷ মজুদ করতে গেলে সরকার পারবে না৷ তাই কিনে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে৷'' 

ক্ষুদ্রমাঝারিব্যবসাএবংঅনানুষ্ঠানিকখাতকে  বাঁচাতেহবে

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার বড় ও রপ্তানিমুখী শিল্পখাতকে অনেক গুরত্ব দিয়েছে৷ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্যেও ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷

তিনি বলেন ''সমস্যা হল, ব্যাংকগুলোতে এমনিতেই ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোর ব্যাপারে অনীহা৷ তারা এত প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করা ঝামেলার ব্যাপার মনে করে৷''

দেশের শ্রমশক্তির বড় অংশ এই দুই শিল্পের বাইরে অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে, যাদের জন্য প্রণোদনায় তেমন কিছু নেই৷ এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের৷ তিনি বলেন, ‘‘যেসব প্রতিষ্ঠান ভাড়া করা জায়গায় করা, ফ্যাক্টরি, চুল কাটার দোকান, রেস্টুরেন্ট, তারা যদি ভাড়া দিতে না পারে, তাদের যদি উঠিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তারা আর ফিরতে পারবে না৷ তাদের যেন উচ্ছেদ না করা হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে৷ বাড়িওয়ালারা যদি অন্তত ৫০ ভাগ ভাড়া কমিয়ে দিতে পারতো, তাহলে কাজ হতো৷''

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ৭০ থেকে ৮০ লাখ লোকের জীবিকা জড়িত৷ এসব খাতকে যদি সুরক্ষা না দেয়া হয়, তাহলে তাদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ আর ব্যবসায় ফেরত আসতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি৷

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় জনগণের মাঝে বিনামূল্যে বা কম পয়সায় চালের বিতরণের মত কার্যক্রম কতটা সফল হয় বা হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন সালেহ উদ্দিন আহমেদ৷ তিনি মনে করেন, এর চেয়ে নগদ সহায়তা বেশি কার্যকর হতে পারে, যেন সবাই যার যার মত কিনে খেতে পারে৷

সবকিছু বিবেচনায় অন্তত দুই বছরের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়